*মায়ের স্মৃতিতে এক যুগ: নাটোরে ‘রত্নগর্ভা হাজেরা খাতুন স্মৃতি পদক’ প্রদান*
পৃথিবীতে মা–বাবার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নেই। অথচ বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে মা–বাবার স্মৃতি রক্ষার্থে নিঃস্বার্থ ও ধারাবাহিক উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। সেই বিরল দৃষ্টান্তই স্থাপন করেছেন নাটোরের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ রবিউল আউয়াল (রবি বাঙালি)। নিজ মায়ের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ধারণ করে তিনি নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে দীর্ঘ এক যুগ ধরে প্রবর্তন করে আসছেন ‘রত্নগর্ভা হাজেরা খাতুন স্মৃতি পদক’, যা সমাজ ও সাহিত্যের শুদ্ধ মেধা বিকাশে একটি অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ডিসেম্বর ঐতিহ্যবাহী নাটোর ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ‘রত্নগর্ভা হাজেরা খাতুন স্মৃতি পদক–২০২৫’ প্রদান ও সাহিত্য সম্মেলন। হাজেরা ফাউন্ডেশন, নিতাইনগর, বড়াইগ্রাম, নাটোরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক রবিউল আউয়াল (রবি বাঙালি)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছড়াকার ও গীতিকার অনীক রহমান বুলবুল, ড. মো. আব্দুল কুদ্দুস এবং আলমগীর কবীর হৃদয়।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ সম্মাননা যখন রেজিস্ট্রেশন ফি কিংবা বাণিজ্যিক বিনিময়ের সঙ্গে যুক্ত, তখন কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধা, সাহিত্যচর্চা ও মানবিক অবদানের ভিত্তিতে এই সম্মাননা প্রদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। মা–বাবার স্মৃতির প্রতি এমন নিঃস্বার্থ শ্রদ্ধা কেবল একটি পদক প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমাজে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক দায়বদ্ধতার বার্তা পৌঁছে দেয়।
*পদকপ্রাপ্তদের তালিকা:*
এ বছর শিক্ষা, গবেষণা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২১ জন গুণী ব্যক্তিত্বকে ‘রত্নগর্ভা হাজেরা খাতুন স্মৃতি পদক–২০২৫’ প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন—
১. শফিউদ্দীন সরদার (মরণোত্তর) — ঐতিহাসিক উপন্যাস
২. কবিরত্ন মোহাম্মদ হাছার উদ্দিন (মরণোত্তর) — সনেট সাহিত্য
৩. জাকির তালুকদার — কথাসাহিত্য
৪. ডা. মো. জাহেদুল ইসলাম — চিকিৎসা ও সমাজসেবা
৫. মোশাররফ হোসেন মুসা — সাংবাদিকতা
৬. মো. নূরুল আবসার — সাহিত্য পত্রিকা
৭. ইদ্রিস আলী মধু — কবিতা
৮. নাহিদ হাসান রবিন — ছোটগল্প
৯. গোলাম রসূল প্লাবন — আধুনিক কবিতা
১০. ড. মো. হাফিজুর রহমান — সনেট সাহিত্য
১১. মো. আজিজুল ইসলাম উজ্জ্বল — গবেষণা
১২. অনিমা দেবনাথ — কথাসাহিত্য
১৩. নাজমা নাহার মাধবী — সাহিত্য ও সংস্কৃতি
১৪. জনি সিদ্দিক — উদীয়মান তরুণ লেখক (প্রবন্ধ, গল্প, ছড়া ও কবিতা)
১৫. মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ — উপন্যাস
১৬. প্রফেসর মো. আব্দুস সবুর খন্দকার — শিক্ষা ও সাহিত্য
১৭. আহমুদুল হক চৌধুরী স্বপন — সংগঠক ও সমাজসেবা
১৮. কবি মো. আব্দুল মান্নান শেখ — কবিতা
১৯. বাউল কার্তিক উদাস — গীতিকার
২০. আব্দুল খালেক — শিশু সাহিত্য পত্রিকা
২১. মোছা. মাইমুনা খাতুন — কৃতি শিক্ষার্থী (এমবিবিএস)
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কবি ও সাহিত্যিকরা স্বরচিত কবিতা পাঠ ও সাহিত্য আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এতে মিলনায়তন পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাহিত্য মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অধ্যাপক রবিউল আউয়াল (রবি বাঙালি) রচিত ‘শহিদ জিয়ার জীবনদর্শন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। মায়ের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আয়োজন কেবল একটি সম্মাননা অনুষ্ঠান নয়; এটি আগামী দিনের সাহিত্যকর্মী ও সমাজসেবীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।
বার্তা প্রেরক: জনি সিদ্দিক
মোবাইল নম্বর: 01739029234


