একুশ মানে স্মৃতি
নাদিয়া রিপাত রিতু
একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মাতৃভাষা দিবস। এই দিনে ১৯৫২ সালে আমদের ছাত্রজনতা ভাষার জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গিত করেছিলো।তাই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাতে প্রতিবছর আমরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে সম্মান জানাই।কিন্তু এই যুগের ছেলে মেয়েরা এসব অনুষ্ঠানের দিন স্কুল যেতে চাই না। তারা বলে এসব অনুষ্ঠানে গিয়ে সময় নষ্ট করে লাভ কি।ক্লাস হবে না এসব বলে আর যায় না।মা-বাবা তেমন একটা জোর করে না।আর যদি যায় ও সেটা শাস্তির ভয়ে কিংবা জরিমানার ভয়ে।তাদের ভিতর একুশ কে নিয়ে কোনো চেতনা নেই বললে চলে।বইয়ে তো তারা পড়ে একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে তবে সেটা পরীক্ষাতে পাশ করার জন্য। শহীদরা যে আমাদের জন্য নিজেদের প্রাণ দিয়েছে তাদের জন্য শ্রদ্ধাবোধ আজকের ছেলে মেয়েদের মধ্যে নেই। তাদের প্রভাতফেরিতে হাটা বিরক্তিকর মনে হয়।আমার শেষ প্রভাতফেরিতে হাটা হয়েছিলো সেই দশম শ্রেণিতে।আমার ভালো লাগতো প্রভাতফেরিতে হাটতে।আমি শুধু অপেক্ষা করতাম কখন একুশে ফেব্রুয়ারি আসবে প্রভাতফেরিতে যাবো খালি পায়ে।আমার যতটুকু মনে আছে ততটুকু লিখছি।প্রায় কয়েক বছর আগের কথা লিখতে যাচ্ছি। ঐদিন সকাল সকাল স্কুল যেতে হতো। আমরা গেলাম ফুল নিয়ে সকাল সকাল স্কুলে শহীদ মিনারে ফুল ও দিলাম। অনুষ্ঠান তখন শুরু হয়নি শুরু হতে হতে প্রায় ৯ টা বাজলো।সব ক্লাসে স্টুডেন্ট দের দাড়ঁ করানো হলো লাইন করে।প্রভাতফেরিতে বের হওয়ার জন্য।সবাই খালি পায়ে।ছেলেরা একদিকে মেয়েরা একদিকে সারি ভাবে দাঁড় করানো হলো।সবাই হাটতে আরম্ভ করলো। মাঝখানে স্যারদের দেওয়া হলো সবাই ঠিকভাবে হাটছে কিনা দেখার জন্য।আর স্লোগান দিচ্ছে কিনা দেখার জন্য।অর্ধেক থেকে কিছু মেয়ে পালিয়ে গেলো।আমরা পালিয়ে যায়নি আমার স্কুলের অনুষ্ঠান ভালো লাগে।আমি উপভোগ করতে চাই।প্রভাতফেরিটা আমাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছে।আমার বান্ধবীরা বললো পালিয়ে যেতে আমি পালিয়ে গেলাম না।রাস্তা দিয়ে খালি পায়ে হাটছি অনেক রোমাঞ্চকর অনুভূতি।ইটের রাস্তায় হাটতে কষ্ট হচ্ছে তেমন একটা হাটা হয় না খালি পায়ে।স্কুলের পাশে রাস্তার ধারে কৃষ্ণচূড়া গাছে লাল থোকা থোকা ফুল। আর বসন্ত ঋতুতে ফুলে ফুলে সজ্জিত প্রকৃতি ভালো লাগছিলো দেখতে। প্রভাতফেরি হেটে স্কুলে এলাম।স্কুল ছোট খাটো প্রোগ্রাম হলো,আলোচনা সভা,কবিতা আবৃত্তি,শহীদদের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করলেন সকলে।আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গান দিয়ে শেষ হলো অনুষ্ঠান। আর একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি শেষ হলে ও আমাদের ঐতিহ্য, শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা যেন কখন শেষ না হয়।মনে রাখতে হবে,এই ভাষা শহীদদের জন্য আমরা আজ ও বাংলা ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছি।আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম যেন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্মরণ করে এই দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে।
