বিসমিল্লাহহির রহমানির রহিম
কবির নাম: মেহজাবিন ইসলাম
কবিতা নাম: উমরের ইনসাফ
হে আরশের সর্বশক্তিমান,
তুমি তো,
রাসুল দিবে না বলে কোরআনে করেছো অঙ্গীকার,
তবু তো তুমি বলোনি যে দিবে না আর উমর।
বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ তোমার দেয়া সকল নেয়ামত ভুলে হচ্ছে বেদ্বীন,
প্রকাশ্য পাপ, গোপন পাপ-
এমনি অজস্র পাপের অন্তরালে,
এ ধরনী বারে বারে ভূমিকম্পে কাঁপে।
তবুও হায় মানুষরূপি সব শয়তান,
রাজ গদিতে বসেই করে যায় বেইনসাফি বন্টন।
হে শেষ পয়গম্বরের রব,
দয়াবান রহিম রহমান,
আর একবার পাঠাও উমর,
যে গড়ে তুলবে সব-
অন্যায়ের বিরুদ্ধে হুঙ্কার।
সূর্য তো ওঠে প্রতিদিন,
তবে কেন আজ মানবতার সমাজ,
আধারের ঘোরে হচ্ছে বিমলিন,
কেন মানুষ বেইনসাফেরর দিকে ধাবিত হয় দিন দিন।
ভালো মানুষ কেন হারিয়ে যায় আধারে,
কেন এ ধরনী মাঝে অমানুষেরই আধিপত্য বাড়ে।
হে নিখিলের ধরার স্রষ্টা,
তুমি আবার পাঠাও-
উমর যে ছিল-
গরিবের ভ্রাতা, সত্য ন্যায়নিষ্ঠার নেতা-
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা।
যে উমরের যুগ:
ইসলাম ধর্মে রয়েছে তিন তালাকের বিধান,
এ জ্ঞান রেখে এক অজ্ঞপুরুষ-
ক্রোধের বশে নিজ অর্ধাঙ্গীনিরে দেয় একশত তালাক,
উমর শুনে এ ঘটনার বিবরণ,
নিজ ভৃত্য দিয়ে পাঠিয়ে ফরমান,
ডেকে আনালো সেই ইনসান,
এবার উমর বলে,
ইসলামের বিধান তিন তালাক
তুমি দিয়েছো তারে একশত তালাক
তিন তালাকে তোমার বউয়ের মুক্তি
বাকী সাতানব্বই তালাকের ভার পড়বে তোমার পৃষ্ঠের ওপরি।
আর সেই উমরের শাসনের অভাবে আজ,
যৌতুক না দেওয়ায় অসহায় নারীদের ওপর, আজ বাড়ছে স্বামীর অত্যাচার।
উমর সে যে ছিল বড়ই উসুল প্রকৃতির-
কোরআন মাজিদ আল্লাহ্ প্রণীত পবিত্র গ্রন্থ,
যার হরফ, নুক্তাসব আল্লাহর নিজ হস্তে সৃজিত।
দুই ইহুদি উমরের দরবারে এসে করে আবদার ,
এ পবিত্র গ্রন্থের কিঞ্চিত পরিবর্তন আনতে তার,
(আস্তাগফিরুল্লাহ)
উমর বলে ,
ক্ষনিক বসে নাও জনমের বিশ্রাম,
এই তো আমি আসছি আবার।
সে দুই ইহুদি তো মহা খুশি,
এই সুযোগে নাহয় তাদের বদনাম যাবে ঘুচি।
এবার খোলা তরবারি হাতে নিয়ে উমর বলে ,
কাদের যেন কোরআনের কিঞ্চিত পরিবর্তন আনতে হবে।
আজ সেই উমরের দাপট নাই ,
নাস্তিকেরা তাই ,
এ পবিত্র গ্রন্থ কোরআনকেও অবমাননা করার সাহস পায় ।
উমর ছিল মালিক অর্ধ পৃথিবীর,
যে ধূলার তকি আর খেজুর পাতার প্রাসাদের নিচে বসে তার।
সহস্র অন্যায়ের করেছে প্রতিকার,
এমনকি মিশরীয় সরকার,
ওমর ইবনুল আস এর সুপুত্রও পায়নি ছাড়।
মিশরীয় কন্যার দৌড়ের কাছে যখন,
মিশরীয় সরকারের সুপুত্র হয় কদাচার ,
ক্রোধে,ক্ষভে, হিংসায় –
লাঠিঘাতে ঢিল মারে ঐ মিশরীয় কন্যার মাথায়,
যখন উমর সেই সংবাদ পায়,
তার কড়া বিচার থেকে বাপ ছেলে কেউ পায়নি রেহায়।
তবে আজ সে শাসক উমর নাই বলেই,
নারীরা আজ শত অবিচার মুখ বুজে সয়ে যায়।
ইনসাফে উমর,
তার কোনোই জুরি নাই,
তখন মদ্যপানের অপরাধের শাস্তি ছিল আশি বেত্রাঘাত,
সেই মদ্যপানের অপরাধে তার,
নিজ পুত্র আবু শাহমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় একই বিচার।
নিজ হস্তে আপন পুত্রকেই চাবুক মেরে,
ইনসাফের এক দৃষ্টান্ত প্রমাণ-
উমর রেখে যায়।
চল্লিশ চাবুকের পরে আবু শাহমা দুঃখিনী মা উমরের পা জড়িয়ে বলে,
আমি আর বাকি চল্লিশ বেত্রাঘাতের পরিবর্তে,
চল্লিশটি উট নাহয় সদকাহ দিব আল্লাহর রস্তে
তবুও আমার নারছেড়া ধন দুলালি পুত্ররে,
দাও আজ ক্ষমা করে।
তবে উমরের পাষাণ হৃদয়,
আশি বেত্রাঘাত না দিয়ে সে থামে নাই,
চাবুকের পঞ্চাশ ঘায় আবু শাহমার-
নিথর প্রাণহীন দেহখান মাটির বুকে পড়ে রয়,
তবুও উমরের ছিল বড়ই পাষাণ হৃদয়,
দাফনের পর গোরের ওপরেই চাবুকের বাকি ত্রিশ ঘা দেয়।
আফসোস আজ উমরের শাসন হীন ভূমিতে,
নাইট ক্লাব,ডিস্ক আর বন্ধুদের পার্টিতে,
মদ্যই তাদের রূপ নেয় প্রধান খাদ্যে।
উমর এক অঙ্গুলির নির্দেশে,
অর্ধ ধরার মালিক হয়ে,
তিনিও কিন্তু কাবু ছিলেন তার স্ত্রীর শাসনে।
একদা এক লোক কোনো এক প্রহরে,
নিজ স্ত্রীর নামে ফরিয়াদ দিতে গিয়ে শ্রবণ বাজে,
অর্ধ ধরার অধিনায়ক উমর যে,
নিরব শিশুর ন্যায় শান্ত হয়ে আছে স্ত্রীর শাসনে।
সে লোক ফিরে যাওয়ার পথে,
উমর ডেকে প্রশ্ন ছুড়ে-
কোন ফরিয়াদ নিয়ে এসেছিলে আজি আমার দরবারে?
সে লোক বলে স্ত্রীর ফরিয়াদি নিয়ে,
তবে যদি ধরার অর্ধ মালিকও স্ত্রীর শাসনে হয়ে থাকে নিরব,
তবে আমার ক্ষেত্রে কি আর খাটে কোনো ফরিয়াদ?
এ জিজ্ঞাসে উমর কিঞ্চিত মুচকি হাসে,
আবার বলে-
যে নারী চাঁদনি ছিল বাপের ঘরে,
আর স্বামীর ঘরে এসে,
দাসীগিরি খাটে বিনা পারিশ্রমিকে,
তার যৎসামান্য কটু কথার বিপরীতে,
কেন ঘোর মুসিবতরে-
আলিঙ্গন করবো বলো আমার এ ক্ষুদ্র জীবনে।
আজ সে উমরের শাসন নাই ,
তাই স্ত্রীর যৎসামান্য স্বামীর কথার বিপরীত বাক্যে,
অজস্র সুসম্পর্ক রূপ নেয় অভিশপ্তময় তালাকে ।
উমর এমন শাসক ছিল,
যার ভয়ে ইবলিস শয়তানও রাস্তা মেপে চলতো,
আর আজ সে সুশাসক নাই,
এ ধরায় তাই-
অজস্র ইবলিসের আধিপত্য দিন দিন বৃদ্ধি পায়।
ভবিষ্যতে হয়তো এ জামানা আবার পরিণত হবে,
ভয়ংকর রূপে কোনো এক জাহেলিয়া যুগে।
হে আরশের মালিক,
রাসুল দিবে না বলে কোরআনে করেছো কসম,
সে প্রতিজ্ঞায় শেষ পয়গম্বর-
রাসুলাল্লাহ (স) এর পিট মোবারকে দিয়েছো তুমি “খতমের নবুয়ত”।
সেই নবী (স) ই তো করেছেন ওসিয়ত;
“আমার পরে যদি কেহ নবী হত,
সে পদের দাবিদার ছিল এক উমর”!
একদা এক প্রহরে, উমরের দরবারে,
এক সূর্যের উপাসক ফরিয়াদ আনে,
তার মুনিবের নামে,
খঞ্জর নির্মিত করে এই হেতুতে,
চার দিরহাম গ্রহন করে,
মুনিব সে উপাসক হতে,
উমর সে সূর্য উপাসকের বিরুদ্ধে বিচার রচে।
সে উপাসক ক্রোধে হয়ে গজগজ,
ফজরের নামাজে যখন-
ইমামতি অবস্থায় দাড়িয়ে উমর,
সবে ইকামত দিয়ে ,সুরা -কিরাত পাঠ শেষ , আল্লাহু আকবর বলে ,রুকুতে যাবে,
তখনই সে নিঠুর উপাসক তারে খঞ্জরাঘাত করে;
পাজরে,আম্বিলিকাসে,আর জঠর মাঝে,
তৎক্ষণাৎ শয্যায়,
জ্ঞানহারা হয়ে উমরের নিথর দেহটা মাটিতে নুইয়ে পড়ে,
ক্ষণ পড়ে জ্ঞান ফিরতেই উমর, এক মুসল্লিরে প্রশ্ন সাধে,
তার নেতৃত্বে আরম্ভ ফজর কী আদোও সুসম্পর্ন হয়েছে?
যার ভয়ে বাঘ শেয়ালেও মিত্র হয়,
সে উমর আজ শয্যায় পড়ে রয়!
এমনি করেই দশ বছরের অর্ধ ধরার শাসক,
উমর শহিদী শাহাদত করে বরণ,
আখেরী নবী (স) এর কলিজা টুকরা উমর,
আজোও মদিনার রওজার পুর্ব দিকে শায়িত রয়।
তিনি তো মাটির মানুষ তাই মাটিকে আপন করে নেয়,
আর এমনি করেই উমরের সুশাসন বিলিন হয়ে যায়।

