শওকতের তিন খান অ-কবিতা
কয়না কথা বউ
কয়না কথা বউ আমার
মুখ করেছে ভার,
ঝাড়ু দেয়া বাসন মাজা
শিখলাম নাতো আর।
ভাত রান্না, ভর্তা ভাজি
শাক বাছা, মাছ কাটা,
পারিনা তো করছে কিছুই
মরিচ পেয়াজ বাটা।
অফিস করেই নেতিয়ে পরি
কুড়ের রাজা নাকি?
বোকা শোকা, বদ মেজাজী
অকর্মার ঢেকি।
বাংলা ইংলিশ হাজার পদের
আছে আমার বিশেষণ,
বউ আমাকে ভালোবেসে
করেছে প্রত্যয়ণ।
প্রেম প্রিতী ভালোবাসা
বিলীন আমার ভেতরে,
সুখ কি জিনিস দেখলোনা বউ
আমার ভাংগা সংসারে।
পঁচিশ বছর করলো পার
বুয়ার মতো খেটে,
জীবন করলো ত্যানা ত্যনা
সদাই মাথা কুটে।
অন্য কেউ হলে নাকি
চলেই যেত আমায় ছেড়ে,
আল্লায় নাকি ভালো জানে
কি আশায় যে রইলো পরে।
বলি যখন, ঠিক আছে ভাই
যাওনা চলে বাপের বাড়ি,
জোরসে গলায় বলে তখন
ফিরিয়ে দাও জীবন যৌবন
ছিলো বয়স যখন কুড়ি।
টাক-ঝাল-মিষ্টি কবিতা
কবিতা হওয়া চাই
টক, ঝাল, মিষ্টি,
নয় কবিতায় তুমি আমি
রোদ ঝড় বৃষ্টি।
কবিতা হওয়া যাই
একটু তেতো একটু কড়া
মনের সব কথাগুলো
স্বাধীনভাবে নড়া চড়া।
কবিতায় আসবে কিছু
দেশ সমাজের দুর্নিতী,
সব ধরনের প্রতিবাদ
ন্যায় অন্যায় অসংগতি।
কবিতা নয় শুধু
ছন্দের জালবোনা,
কবিতা নয় শুধুই
ভাবের আনাগোনা।
দুর্বোধ্য গাঁথুনীতে
নয় গড়া কবিতা,
সহজ সরল বাক্যে
জমে উঠুক কবিতা।
খালি কলসী
খালি কলসী নড়ে বেশি
ভরা কলসী নড়েনা
অর্থ বিত্ত সন্মানের ভার
বইতে সবে পারেনা।
মুর্খ করে নিজের প্রচার
জ্ঞানি সদা থাকে চুপ
হিংসেয় কাক জ্বলে দেখে
ময়ুরের অপরূপ।
মিথ্যেবাদি বড় নেতা
দেশ গড়ার কারিগর,
সমাজসেবক, দানবীর
লোভে ভরা তার অন্তর।
অসতের দল ভারি
ভদ্র চলে একাকি,
ভদ্র সদাই নির্যাতিত
বন্ধ তার দুই আখি।
মিষ্টি ভাষির কদর নাই
হাটে ঘাটে বাজারে,
কদর্য আর অশ্লীলতায়
গিলেছে আজ জাতিরে।।
তিন খান অ-কবিতা | শওকত আকবার
14.02.2026

