বিচ্ছু বাহিনী
কলমে – শাঁওলী সরকার
আমার ভাইবোন দুজন ছিলেন মহা শান্ত| দুদন্ড কোথাও এরা চুপচাপ বসে থাকতে পারতো না। একেকজনের একেক কারসাজিতে বাড়ির লোকেরা, এমনকি পাড়া প্রতিবেশিরাও ভুক্তভোগী ছিল।কখন যে এরা কি করবে এরাও নিজেরাও বোধহয় জানতো না। সঙ্গে জুটতো তাদের সমবয়সী, ছোট,বড় নানা ধরনের সঙ্গী।
ভাইটির তখন বছর ৯,বোনের ৪|এদের একটি কারসাজি করার দল ছিল,এই দলের পান্ডা ছিল আমাদের পাশের বাড়ি দেবু (অন্যদের তুলনায় বয়সে সবার বেশ বড়),আর সহপান্ডা আমার ভাইটি। আরো বেশ কয়েকজন ওদের সমবয়সী বন্ধু, বান্ধবী।এদের একেকদিন কারসাজি করার একেক রকম উদ্ভট চিন্তা মাথায় আসতো|বেশিরভাগই আসতো আমার ভাইয়ের মাথা থেকে| উনি বুদ্ধি দিতেন, সেই বুদ্ধি অনুযায়ী সেই বিচ্ছু বাহিনী নানা বদবুদ্ধির কাজ সম্পন্ন করতেন।
তখন স্কুলে গরমের ছুটি পড়েছে। সেই সঙ্গে চড়েছে তাদের বদমাশির পারদটাও | ওদের মাথায় বুদ্ধি চাপলো ছাগলের দুধ খাবে|যা খেলে নাকি বুদ্ধি,বল দুটোই বাড়ে|পাড়াতেই একজন ছাগল পুষতো|গরু,ছাগল পোষা মানেই আল্লার নামে ছেড়ে দেওয়া| প্রথমে গরু ধরার বুদ্ধি করেছিল। কিন্তু, গরু ধরতে গিয়ে তার সিংয়ের গুতো আর লাথি খেয়ে পরিকল্পনা বদলাতে হল। তাছাড়া, ছাগলের দুধ পুষ্টি বর্ধক। তাই তাদের মাথায় এল, ধরা হোক ছাগল।
বাবা অফিসে বেড়িয়ে যেতেই ‘বিচ্ছুবাহিনী’ লোভ দেখিয়ে একটা দুধেলা ছাগলকে ধরলো, বাঁধলো দড়ি দিয়ে বাড়ির পেছনে আমগাছের সঙ্গে। ছাগলের ঠ্যাং চেপে ধরে দেবু আর ভাই দুই মূর্তি অনেকটাই দুধ দোয়ালো, বাকিরা ছাগলকে পাতা খাইয়ে ব্যস্ত রাখছিল|তাই দেখে ঠাকুমা চিল্লাতে লাগলেন,”‘ওরে ‘ন’রে (ভাইকে ডাকতেন)এডা রে ছাড় রে|অফিস থেইক্যা তোর বাপ ফিরলে তোর পিডের (পিঠের) চামড়া তুইল্যা ফ্যালবে রে!”
শুধু তাই? ছাগলের মালকিন ছিলেন আমার ঠাকুমার গল্পের সাথী।বেশ কয়েকদিন এই রকম চলল|
একদিন ছাগলের মালকিন ঠাকুমার সাথে গল্প করতে এসে দেখে ফেললেন। টেরটি পেতেই ক্যানক্যানা আওয়াজে বাড়িতে হামলা করলেন|ঐ সময় আমার বাবা অফিসের ফাইল নিতে এসেছিলেন |
সব শুনে বাবা একখান লাঠি হাতে হুঙ্কার শুরু করলেন|এই দেখে ঠাকুমার ‘ন’ বাড়ি থেকে এক মাইল দূরে ছোটবোন সমেত ছোটপিসির বাড়ি হাওয়া| সন্ধ্যে বেলায় বাবা তার পুত্রকে কান ধরে টেনে এনেছিলেন!
তবে ছাগলের দুধ যত না খেয়েছিল বেতের বাড়ি তার চেয়ে বেশি খেয়েছিল|।
Shaoli Sarkar
