সুতোর বাঁধন: শাড়ি আর থ্রি-পিস – ঐতিহ্য ও আধুনিকতার গল্প:

আঙিনার কোণে সন্ধ্যাতারা সবে উঁকি দিয়েছে। মা বসে আছেন তাঁর পুরোনো জামদানি শাড়ির ভাঁজ খুলতে। প্রতিটি ভাঁজে যেন লুকিয়ে আছে এক একটা গল্প, প্রতিটি সূতোয় বাঁধা বহু বছরের স্মৃতি।

শাড়ি… শুধু একটা পোশাক নয়। এটা আমাদের বাংলাদেশের নারীর পরিচয়, তার ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। যখন কোনো নারী প্রথম শাড়ি পরে, তখন সে কেবল কাপড় জড়ায় না, সে যেন তার দিদিমা-ঠাকুমার ফেলে আসা গৌরবকে গায়ে জড়িয়ে নেয়-

**বিয়ের দিনে লালের আভা, যা নতুন জীবনের প্রতীক।
**ঈদের রঙে ভালোবাসা, আর নববর্ষের ভোরে গরদের শুভ্রতা; পোশাক আমাদের উৎসবের গল্প বলে।
**কর্মক্ষেত্রে সুতির স্নিগ্ধতা।

শাড়ি মানেই আঁচলের স্বাধীনতা, যেখানে মা তাঁর সন্তানের মুখ মোছেন, যেখানে ভালোবাসার মানুষটি নির্ভয়ে হাত রাখে। এটা এমন এক ভাষা, যা কোনো কথা না বলেও সবটা বলে দেয়। শাড়ি পরিধান করলে, প্রতিটি বাঙালি নারী হয়ে ওঠেন এক একটি জীবন্ত কবিতা।

আর অন্যদিকে, সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে এসেছে থ্রি-পিস। তরুণী যখন সকালে ক্লাসে ছোটে, বা অফিস শেষে বন্ধুদের সাথে কফি খেতে যায়, তখন তার সঙ্গী হয় এই আরামদায়ক, প্রাণবন্ত পোশাকটি।

থ্রি-পিস মানেই গতি, থ্রি-পিস মানেই সুবিধা। সালোয়ার, কামিজ আর ওড়নার এই ত্রয়ী যেন আধুনিক জীবনের ফাস্ট-ফরোয়ার্ড বোতাম।

জমকালো পার্টিতে ভারী কারুকাজ করা মসলিনের থ্রি-পিস।

প্রতিদিনের দৌড়ে হালকা প্রিন্টের সুতির থ্রি-পিস।

এটা সেই পোশাক, যা নারীকে দিয়েছে মুক্তির স্বাদ, দিয়েছে নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবনকে সাজানোর সাহস। এটা শুধু ফ্যাশন নয়, এটা সাহস আর স্বাবলম্বীতার প্রতীক।

আসলে, শাড়ি আর থ্রি-পিস কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা একে অপরের পরিপূরক,সেতুবন্ধন।

যখন বাঙালি নারী আলমারি খুলে দেখেন, একপাশে যত্নে রাখা বেনারসি, আর অন্যপাশে ঝকঝকে নতুন ডিজাইনার থ্রি-পিস; তখন তিনি বুঝে নেন: ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে আর আধুনিকতায় পা মেলাতে, দুটোই তাঁর জন্য অপরিহার্য।

আমরা সেই নারী, যে এক হাতে আঁচল ধরে ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখে, আর অন্য হাতে ওড়না উড়িয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়।

https://khoborjal25.blogspot.com

Comment