Sajidul Hoque

সুরাইয়ার নন্দনে আবুল হাসানের জন্ম
সাজিদুল হক

কৈশোর বিষিয়ে দেওয়ার মতো কত দুর্ঘটনা তখন আমাদের দিনলিপিতে আঁচড় কাটছে।
স্কুলের পোশাকের একরঙা আবরণ ছিঁড়ে
‘যেমন খুশি তেমন সাজো’র মুক্ত অধিকার নিয়ে কলেজের করিডোরে
তারুণ্য হেঁটে বেড়ায়
বান্ধবীদের নান্দনিক চোখে চোখ রেখে।

আমাদের কারও কারও ভেতরে দমকা হাওয়ার উচ্ছ্বাস
দুর্দান্ত এক শীসে প্রকাশ পায় তারুণ্যের সব উন্মাদনা।
কেউ আবার বোকাসোকা চাহনিতে
সবিনয়ে বলে,
আমাকে গ্রহণ করো, পার্বতী!
আর আমার মতো কিছু পাথর-লাজুক আত্মা
ধ্বনি প্রতিধ্বনি করে বলতে চায়
আমি রোমিও… শুনতে পাও কি?

সেই মাতাল জোৎস্না-প্লাবিত বনভূমিতে
মৌসুমী পাখির চোখে দেখেছিলাম চাপা ক্রোধ
বেদনার যথার্থ প্রতিশব্দ খুঁজে না পেয়ে
প্রেমিকের ঠোঁট থেমে গিয়েছিল
অদূরে বলা এক বাক্যের সামনে
হয়তো সেদিনের অসম্পূর্ণতা
চুপিচুপি ঠেলে দিয়েছে কবিতার দিকে।

কারণ, কল্পনার সঙ্গে বসবাস কবিদের;
কল্পলোকের বৃক্ষছায়ায়
জেগে থাকে কত মহীরুহ!
প্রতিদিন আমি আবিষ্কার করি
অদ্ভুত এক নক্ষত্রের জগৎ
আবুল হাসান!
কবি আবুল হাসান,
আমাদের মতো নাদান যশোপ্রার্থী লেখকদের কাছে
তিনি যেন এক ভূমধ্যসাগরীয় অতল গভীরতা।

“রাজা আসে রাজা যায়”, “পৃথক পালঙ্ক”, “যে তুমি হরণ করো”
এ যেন রূপকথার গল্প, এনে দেয় বসন্তদিনের রঙিন উন্মাদনা;
এমন পঙক্তি শুনলে সম্বিৎ হারিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না।
কারণে অকারণে বন্ধুত্ব করি
অচেনা কোনো মানুষের সঙ্গে
অল্পতেই ভেঙেও ফেলি
নবজাত সম্পর্কের কোমল সেতু।

আবুল হাসানের শব্দরাজ্য থেকে ধার নিয়ে বলতে ইচ্ছে করে
দালান ভাঙছে, দালান উঠছে— এ-ও এক রাজনীতি।
কিন্তু প্রেমে ব্যর্থতার রাজনীতি আলাদা;
সেখানে কবিদের বাড়ি নেই,
ঘরে ফেরার তাড়া নেই,
আছে শুধু শব্দের জন্য অন্তহীন পথযাত্রা।

অসীম শব্দঘরের কারিগর
অজর পঙক্তির স্রষ্টা
অক্ষরের ফেরারি কবি আবুল হাসান
সারা দুনিয়াকে করেছে নিজের ঘর;
আর আমাদের মতো পথহারা কবিদের
তার সেই অনন্ত ঘর
এখনও ডাকে, বেলা অবেলায়।
২৬.১১.২০২৫

Comment