Bidhan Chandra Sanyal

নববর্ষ উৎসব
—————————————————————————-
বিধান চন্দ্র সান্যাল
—————————————————————————–

“জননী, তোমার শুভ আহ্বান গিয়েছে নিখিল ভুবনে—
নূতন ধান্যে হবে নবান্ন তোমার ভবনে ভবনে।”

—- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ভূমিকা :- নবান্ন উৎসব হলো বাঙালির এক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ফসল কাটার উৎসব, যা নতুন আমন ধান কাটা ও সেই ধানের প্রথম অন্ন রান্নাকে কেন্দ্র করে পালিত হয়; এটি মূলত হেমন্তকালে (অগ্রহায়ণ মাস) অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন চালের ভাত, পিঠা ও বিভিন্ন লোকনৃত্য-গীতের মাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হয়, যা কৃষক ও সমাজের সম্মিলিত আনন্দ, দেব-দেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির গভীর সংযোগকে তুলে ধরে।

নবান্ন শব্দের অর্থ ও প্রেক্ষাপট :-:
‘নবান্ন’ শব্দের অর্থ ‘নতুন অন্ন’ বা ‘নব অন্ন’।নতুন আমন ধান পাকার পর কৃষকরা সেই ধান থেকে তৈরি চালের প্রথম রান্না করে এই উৎসব পালন করেন, যা তাদের পরিশ্রমের ফল এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা।

উদযাপনের সময় :-
সময়কাল: সাধারণত বাংলা অগ্রহায়ণ মাস, অর্থাৎ হেমন্তকালে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যখন আমন ধান কাটা হয়। কিছু অঞ্চলে মাঘ মাসেও নবান্ন উদযাপনের প্রথা আছে।

উদযাপন পদ্ধতি ও তাৎপর্য:-:
খাবার ও সংস্কৃতি: নতুন ধানের চাল দিয়ে নানা ধরনের পিঠা ও খাবার তৈরি করা হয়, যা বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের মধ্যে ভাগ করে খাওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশ: গ্রামবাংলায় লোকগান, নাচ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই উৎসব মুখরিত হয়ে ওঠে, যা গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও ঐক্যকে প্রকাশ করে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: এটি বাঙালির কৃষিভিত্তিক সমাজের প্রাচীন ঐতিহ্য, যা ফসলের প্রাচুর্য এবং নতুন জীবনের প্রতীক।
সামাজিক বন্ধন: এই উৎসব পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

উপসংহার :- গ্রামীণ সমাজে এই উৎসবের জৌলুস কিছুটা কমলেও, শহরাঞ্চলে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে এটি এখন বড় আকারে পালিত হয়, যা এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। এটি এখন শুধু একটি উৎসব নয়, বরং বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য হয়।

Comment