Shankar_Brahma

#শংকর_ব্রহ্মর_কবিতাগুচ্ছ
#পঁয়তাল্লিশতম_পর্ব (#অহংকার)
—————————————————————-
#নির্বাচিত_একডজন_কবিতা
#শংকর_ব্রহ্ম
—————————————————————-

১).

#অহংকার
#শংকর_ব্রহ্ম

আমার রান্না ঘরে পিঁপড়ে
আর শোবার ঘরে আরশুলা
বাথরুমে শুঁয়োপোকা
এই নিয়ে আমার সংসার
তবু যার জন্য এত আয়োজন শুধু অস্থিরতা
সেই কবিতা প্রেয়শী আমার গোপন অহংকার

বাইরে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ঘুরছে মানুষজন
আমি জানলায় বসে থাকি তার প্রতীক্ষায়
বাতাস আসে রোদ হাসে
অথচ সে আসে না কিছুতেই
আমার অহংকার দুমড়ে মুচড়ে যেন
ভিখিরির হাতের পাত্র হয়ে যায়

—————————————————————-

২).

#ইচ্ছে_কুঁড়ি
#শংকর_ব্রহ্ম

তুমি তো জান না
তোমার স্পর্শে কত বিদ্যুৎ প্রবাহ
খেলে যায় শরীরে ও মনে
জনে জনে
সে কথা যায় না বলা ডেকে
থেকে থেকে সে’সব কথারা
অন্তর ছুঁতে চেয়ে শেষে
এসে চিত্তে চাঞ্চল্য ঘটায়
আর যত সব অবান্তর কথা
অকারণ মনে চলে আসে
চারপাশে যেন নতুন সূর্যোদয় দেখি
একি তুমি এখনও দাঁড়িয়ে এখানে
তোমাকে তাড়ানো মানে
নিজেকেই তাড়িয়ে নিয়ে ছোটা
তোমার স্পর্শ পেয়ে যেন ইচ্ছে-কুঁড়ির সব
ধীরে ধীরে ফুল হয়ে ফোটা

—————————————————————-

৩).

#অলীক_কল্পনা
#শংকর_ব্রহ্ম

ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে স্মৃতি তার সারা ঘরময়
দেওয়ালে টাঙানো ছবিখানি
যেন কোন কথা বলতে চায়
রাগ বা বিরক্তি নেই মুখে তার
চোখের ভিতরে যেন নেমে গেছে সিঁড়ি
যার নীচে বহুদূর নেমে যাওয়া যায়
ত্রিশ বছর পিছে
স্বপ্নের রমণী খোলা চুলে
ঠোঁটটেপা হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে থেমে
আমি তার কাছে আজ আর
পৌঁছাতে পারি না কিছুতেই
সেই অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে নেমে

হাতে নিয়ে চুলের কাঁটাটি তার
এইসব মনে হলে পরে
আমি ঘরে চুপ করে অন্ধকারে বসে থাকি একা
অকস্মাৎ যদি তার পেয়ে যাই দেখা

—————————————————————-

৪).

#কৃতান্ত
#শংকর_ব্রহ্ম

” বহু প্রেমেও যে মেধার ক্ষতি বৃদ্ধি নেই
বহু প্রাপ্তিতেও যে আকাঙ্খার শ্রী ছাঁদ নেই”

তোমাকে ভাবলেই রক্তে দোলা লাগে
নাভিমূল থেকে উড়ে যায় বিষাদ
যেন দম বন্ধ করেও বেঁচে থাকা যায় বহুক্ষণ
ইচ্ছে মতোন বাড়িয়ে দেওয়া যায় দশদিকে
বন্ধুত্বের হাত
মধ্যযামে সমস্ত দিক নিজের ভিতর এক করে
বহুক্ষণ অনায়াসে অস্থির থাকা যায়
শুধুমাত্র তোমাকে ভেবেই
আর তোমার দেখা পেলে তো কথাই নেই
সরাসরি ভূমিকম্প বুকের ভিতর
সে যে কী ভীষণ উত্তেজনা,কী গভীর আলোড়ণ
সে কথা বলে আর বোঝানো যাবে না কিছুতেই
অনেক ঝর্ণা নদী যেন একসঙ্গে নেচে ওঠে
আকাশ নক্ষত্র সহ বনভূমি কেঁপে কেঁপে ওঠে
আর মনের ভিতরে তার প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ে
ঝড় তোলে
রক্তের ভিতরে সেই তোলপাড় করে
প্রলয়ের সৃষ্টি করে চলে

স্মৃতিতে খড়ির দাগ সব লেগে থাকে নাকি
মুছে যায়,ধীরে ধীরে সব কিছু মুছে যায়
অথচ তোমার তীব্র আশ্চর্য এক মোহময় আকর্ষণ
গোপন ছিলার মতো শিরায় শিরায় টান ধরায়

তুমিই প্রথম শিখিয়ে ছিলে
ভয়টা কেমন তুচ্ছ অতি
তবে কেন সর্বনাশের পথে হঠাৎ পা বাড়িয়ে
আচমকা পথ সরিয়ে নিলে
অজানা এক অন্ধকারে
তাই,তোমাকে ভাবলেই রক্তে দোলা লাগে
নাভিমূল থেকে উড়ে যায় বিষাদ

—————————————————————-

৫).

#দ্বন্দ্ব
#শংকর_ব্রহ্ম

অরূপ সাগরে ডুব দিতে চাস ওরে মন
তবে ধন নিয়ে আর করবি কি
ধনেও লোভ
মনেও ক্ষোভ সে মন নিয়ে ধরবি কি

ধনে আর মনে তাই চলে দ্বিধা দ্বন্দ্ব
কখনও তা ভাল নয় চিরকালই মন্দ
জীবনের পাতা খুলে আমি তাই অন্ধ

অরূপ সাগরে মন যদি ডুবতে চাস
ওরে মন মন রে আমার
ঝেরে ফেল আছে যত স্বার্থ লোভ আশ

—————————————————————-

৬).

#আমফান
#শংকর_ব্রহ্ম

আমফান টানে কান
গাছেদের সন্মান মাটিতে লুটায়
হায় হায় হায় বলো হবে কি উপায়
বাড়ি ঘর ভয়ে কাঁপে থর থর
একে বলে ওকে বলে ধর ধর ধর
ঝড় বলে মর,তুই পড়ে মর

আমরা যে সকলেই একসাথে থাকি
শেষে পড়ে মরব নাকি
এই কথা শুনে ঝড় দাঁত করে কড়মড়
লেজের ঝাপট মারে খুব জোরে জোরে
মেঘেরা ঝড়ের সাথে এদিকে সেদিকে ঘোরে
মানুষেরা বেঁচে থাকে ভয়ে ভয়ে মরে

—————————————————————-

৭).

#স্মৃতিসুর
#শংকর_ব্রহ্ম

মেঘলা দুপুর একলা নূপুর বাজায় যখন মনে
সকাল থেকেই তোমার কথা ভাবছি গোপনে
ভাবছি কেন যে জানি না নিজে স্পষ্ট তা মনে

দূর থেকে শুধু দেখে মনে হয়
তুমি যেন আর চেনা কেউ নয়
তবু কাছে এলে সব যাই ভুলে
লাগে যেন শুধু খুব আপনার
বুকে বাজে তার স্মৃতি-সুর

এই তো সেদিন বর্ষাকালীন
মেঘ জমেছিল নীল আকাশের বুকে
আমার বুকে তো
আসেনি যে কেউ পাপ বা পুণ্যে
কি হবে তাহলে বর্ষা নামবে
নাকি তা আজ স্তগিত থাকবে অসীম শূন্যে

এই তো সেদিন জ্যোৎস্নাকালীন
চাঁদ ভেসেছিল আকাশের বুকে
আমার বুকে তো আসেনি যে কেউ এখন কি হবে
জ্যোৎস্না ছড়াবে চরাচর জুড়ে
নাকি আজ তা স্তগিত থাকবে গভীর শোকে

এই তো সেদিন তুমি এসেছিলে
এসেছিলে শুধু আর কিছু নয়
আকাশের বুকে ছিল না তো চাঁদ
মেঘ ছিল কিনা দেখিনি যে তাহা
তবুও সেদিন আলো ঝরেছিল
বর্ষার মতো অঝরে আহা

—————————————————————-

৮).

#নীলকন্ঠ
#শংকর_ব্রহ্ম

মাত্র একটি কবিতা লেখা হবে
তার জন্য সমস্ত কষ্টের ভার তুচ্ছ ভেবেছি
পৃথিবীর সমস্ত গরল পান করে
নীলকন্ঠ হয়ে বসে আছি

একটি সৃষ্টির লোভে
সমস্ত দুঃখের ভার বুকে চেপে
মনের অন্ধকার দূর করে,
আলো নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছি

একটি কবিতা লেখা হবে
তার জন্য পার্থিব যত সুখ তুচ্ছ ভেবে
মহৎ সৃষ্টির লোভে সমস্ত যন্ত্রণা ভুলে
মাথা তুলে সোজা দাঁড়িয়েছি

—————————————————————-

৯).

#লক্ষ্মী
#শংকর_ব্রহ্ম

স্বর্গ থেকে লক্ষ্মী এসে
মর্তবাসী জেনে আমায় প্রশ্ন করে
এইখানে কি মানুষ থাকে
আমি তাকে কথার পাকে
জড়িয়ে ফেলি মানুষ যে নেই বলি না তাকে

মানুষ নামক জন্তু আছে,ধারে কাছে
মান হুঁশ সব হারিয়ে যারা
কেবল নিজের স্বার্থ সুখে
সমাজ জুড়ে একলা থাকে

পাতাল ফুঁড়ে অলক্ষ্মী এসে
আমায় কেবল প্রশ্ন করে
এইখানে কি মানুষ থাকে
আমি কিছুই বলি না তাকে

—————————————————————-

১০).

#অপব্যবহার
#শংকর_ব্রহ্ম

পূজা আনন্দ উৎসব এইসব জন কোলাহল
সব কিছু তুচ্ছ ভেবে তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে
আজ আমি অনায়াসে চলে যেতে পারি
কিন্তু যাব না ডাক্তার
এখনও অনেক কাজ বাকী যে আমার

যার সঙ্গে সারা জীবনে একদিনও দেখা হয়নি
তার সাথে দেখা করতে হবে
যে কবিতাটা এখনও লেখা হয়নি
সেটা লিখে যেতে হবে
যে কথাগুলো আজও বলা হয়নি কাউকেই
জমে জমে পাথর হয়ে উঠেছে বুকে
আমি বেশ সুখে আছি বুঝলে ডাক্তার
অসুখের ভানে
মানে মনে হচ্ছে এখনই আমি
সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে চলে যেতে পারি
কিন্তু এখনই এতসব কাজ ফেলে রেখে আমি
কী করে যাই বলো তো আমায়
সেটা ঠিক হবে না আমার বুঝলে ডাক্তার
কী বুঝলে বলো
চলো একবার বাগানের ফুলগুলো দেখে আসি
ফুল দেখে যম খুব ভয় পায়
হয়তো সে ভয় পেয়ে সরে যাবে দূরে
অথচ মরার পরে কেন যে লোকে
ফুল দিয়ে ঢেকে দেয় তারে

—————————————————————-

১১).

#রাত্রি_নামে
#শংকর_ব্রহ্ম

রাত দুপুরে যখন বৃষ্টি পড়ে তোমার কথা হঠাৎ মনে পড়ে
এখন তুমি কোথায় আছ কেউ জানে না তাও
কাছে গিয়ে হাত বাড়ালে বলতে তুমি এখন সরে যাও
এখন তো কেউ কাছে আসে না ধরে না কোন হাত
হয়েছে হলুদ পাতার মতো ঝরে যাওয়ার রাত
ঝরতে ঝরতে তবুও অবিরত অবুঝ পাতার মতো
নিজের ভিতর সজীবতা জাগিয়ে রাখি যতো

তখন আমি বুঝতাম না অনেক কিছু আরও
এখন বুঝি সব তখন ছিল কথার কথা যাহা
এখন যে তা সবই করছি অনুভব
এখন আমি চাঁদ দেখি না আর যাই না কারও ঘরে
তোমার কথা মনে পড়ে শুধুই মনে পড়ে
দিন-দুপুরে রাত্রি নামে আমার হৃদয় জুড়ে

—————————————————————-

১২).

#আবর্জনা
#শংকর_ব্রহ্ম

আকাশে পান্ডুর চাঁদ জেগে থাকে রাতে
অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষ ঘুমায় ফুটপাথে
বাতাসে শহরের দুর্গন্ধ ভেসে আসে
দেখে চাঁদ মিলায় ভোরের আকাশে

মরা মানুষের গন্ধ এসে লাগে নাকে
ঢাকতে পারে না ফুলের সুগন্ধ তাকে
আমাদের এইসবে ঘটে না ভাবান্তর
কখনও কী একবার কাঁপে না অন্তর

সূর্য জ্বলে পোড়াতে আবর্জনা যত
আবর্জনাগুলি যেন আমাদের মত
পৃথিবীতে যত পারে দুর্গন্ধ ছড়ায়
পুড়েও পোড়ে না যেন তারা হায়

Comment