Krishna Roy

শীত, তুমি যখন আসো কখনো খুব নীরবে, কখনো হঠাৎ করে—আমি বুঝতে পারি না তুমি ঋতু, না কি কোনো পুরোনো স্মৃতি। এতদিন তোমার স্পর্শ সহনীয় ছিল, হালকা কাঁপুনি নিয়ে আমি দিব্যি দিন পার করে দিতাম। কিন্তু এবার তুমি এমন গভীরভাবে ঢুকে পড়েছ যে শুধু শরীর নয়, হাঁড়ের ভেতর হাঁড়ে হাঁড়ে ঠোকাঠুকিতে গায়ে কাঁটা দিয়ে শরীরটা এমন ঠকঠক করে কাঁপিয়ে দিচ্ছ, যেন বড় ভূমি কম্পের পর ছোট ছোট যে কম্পনগুলো হয় তার মতো করে কঁম্পন মনে হচ্ছে । গিজার থেকে যে তাপমাত্রার জলে স্নান করছি, সেই জলে কচি পাঁঠার মাংস দিলে সেদ্ধ হয়ে যাবে। স্নানের পর গায়ে এমন কাঁটা দিচ্ছে নিজেকে ফণীমনসা/ক্যাকটাস মনে হচ্ছে।

তোমার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তুমি আমাদের বাংলার ঋতু নও। ভীনগ্রহের থেকে নেমে এসেছ। এত খামখেয়ালী হওয়া কি তোমার ঠিক হচ্ছে ? তুমি এতদিন আমার প্রিয় ঋতু ছিলে। মাঝে মধ্যে কনকনে ঠাণ্ডা দিলেও তখনো তুমি শেখিয়েছ সহ্য করার মানে, আবার কখনো এমন ভেঙে দাও যে শক্ত থাকার ভানটুকুও আর টেকে না।
কখনো তুমি মিঠে রোদ্দুর মাখানো আলসেমি, কখনো আবার হঠাৎ করেই রাগী বুড়ো। শীত, বলো তো, এত খামখেয়ালী কেন তুমি ? একদিন ভোরে তোমার আদর এমন যে কম্বলের ভেতর গুটিশুটি মেরে দিনটা কাটিয়ে দিতে মন চায় ।
আর একদিন হাঁড় কাঁপানো হাওয়ায় দাঁত কাঁপে, জল গরম করতেও হাত কাঁপে, মনে হয় তুমি বুঝি কারও উপর ভীষণ রাগ করে আছো।
কখনো কম, কখনো বেশি—কখনো তুমি শুধু হালকা শীতল স্পর্শ, আবার কখনো এমন দাপুটে যে পুরোনো ব্যথাগুলো পর্যন্ত জেগে ওঠে। তোমার এই অনিশ্চয়তায় বুড়ো মানুষ হাঁটু চেপে বসে, মায়েরা শিশুদের মাথা কান ঢাকে। শীত তুমি কি ফুটপাতের অসহায় মানুষগুলোর কথা একটুও ভাবতে না।
সারা বাড়ি জুড়ে লেপ, কাঁথা, কম্বল, সোয়েটার জ্যাকেট, মোজা, টুপি, মাফলার স্তূপ হয়ে আছে বাড়ি না হাতি বাগানের ফুটপাত মালুম হচ্ছে না। শিরশিরানি হাওয়ায় চামড়ার উপর কাটাকুটি খেলে সময় কাটাচ্ছি। ঠোঁটের অবস্থা গ্রীষ্মের খরা কবলিত জমির মতো ফেটে চৌচির।
যে শীত কম্বল ছাড়া বাঁচতে দেয় না, তাকে ভালোবাসব কীভাবে ? শীত মানেই ঠান্ডা হাত, ঠান্ডা পা, আর গরম মেজাজ। শীত, তুমি একটু কম শীতল হলে বন্ধুত্বটা আরও ভালো হতে পারত….

Comment