Nadia Rifat Ritu

Nadia Rifat Ritu

শিশির কণা
পর্ব -৫
লেখিকা নাদিয়া রিপাত রিতু

অন্যদিকে শিশির হালকা আকাশি রঙের একটা শাড়ি পড়লো,খুব মানিয়েছিলো এই শাড়িতে ,,,এই শাড়িটা রায়ান প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে উপহার দিয়েছিলো,,,, সুন্দর করে সেজে গুজে শিশির রেডি হলো,,,, আয়ানকে রেডি করিয়ে দিলো,,,,,

আয়ান বললো মাম্মা আমরা কোথাও বেড়াতে যাচ্ছি,,,,পাপ্পা কখন আসবে আমাদের নিতে,,,,,

শিশির: আয়ান আমরা নানু বাড়িতে অনেক দিন থাকবো,,,,, আমরা অনেক মজা করবো,,,,তুমি আরু সাথে খেলতে পারবে,,,,(আরু হলো  শিশিরের চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে আয়ানের বয়সী হবে)

আয়ান: আরু সাথে আমার খেলতে ভালো লাগে ,,,, কিন্তু আমার পাপ্পা, শাওন,,, মেজ মামণি ,,আর দাদুদের কথা খুব মনে পরছে,,,,ওদেরকে আসতে বলো মাম্মা,,,আমার জন্য অনেক গুলো চকলেট আনতে বলো,,,

শিশির: ওরা আজকে এখানে আসবে,,,, চকলেট কেন তোমার পাপ্পা এতগুলো চকলেট এনেছে ঐ গুলো খেয়ে দাঁত পোকা হয়েছে,,, চকলেট একদম খাওয়া চলবেনা,,,,

আয়ান: সত্যি ওরা আসবে,,,,,কি মজা পাপ্পা আসবে,,,,

শিশির: হুম,,,,,,

অন্যদিকে রেহেনা,কল করে বললো,,, রুবিকে তুই রেডি হয়ে চলে আসিস আমরা শিশিরের ওখানে যাচ্ছি,,,
রায়ান তৈরি হচ্ছে,,,,ঘড়িটা খুঁজে পাচ্ছেনা,,,,

রায়ান চিৎকার করে বললো এই শিশির আমার ঘড়িটা কোথায় একটু খুঁজে দাও তো,,,,,
পরে মনে পরলো শিশির তো নেই,,,,

তৈরি হয়ে সবাই রওনা দিলো,,,
রেহেনা গাড়িতে বললো ওদের বাসায় কেউ কিছু দিলে খাবেনা  মনে থাকে যেন,,, কিছু মিশিয়ে দিতে পারে,,,, বিশেষ করে রায়ান তোকে বলছি,,,,ঐ মেয়ের বিশ্বাস নেই ,,,এই বাড়িতে আবার আসার জন্য অনেক নাটক সাজাবে,,,তুই ওর ফাঁদে একদম পা দিবি না,,,,,,
রায়ান: আচ্ছা মা

রাস্তার দোকান থেকে আয়ানের পছন্দের আইসক্রিম,, চকলেট,,, পিৎজা,,,,সব কিনে
এরপর  সবাই শিশিরের বাড়ি পৌঁছে গেলো,,,,,

শিশিরের বাড়ি আসতেই দরজা খুলে দিলো শিশিরের মা শায়লা,,,,,,,

শিশিরের মাকে পা ধরে সালাম করতে গেলে সালাম করতে দিলো না,,,,
শায়লা পা ধরে করতে হবে না ,,,,মুখে বললে হবে,,

রেহেনা বললো বেয়ান কেমন আছেন??
শায়লা: আছি ভালো আপনারা বসুন আমি লেবুর শরবত করে আনছি,,,,

রুবি : থাক না আন্টি কষ্ট করতে হবে না,,,,,আয়ানকে ডাকুন বলুন আমরা এসেছি,,,,,

শায়লা :আয়ানকে ডাকতে বলছেন আপনার ভাই একবার আয়ানের কথা চিন্তা করছে,,,,আমার মেয়ে না হয় খারাপ আপনাদের সবার জন্য বিয়ের পর যখন বাচ্চা হচ্ছিলো না তখন ছেড়ে দিতে পারতো আপনার ভাই,,,,,তাহলে আজ আয়ানের জীবনটা এভাবে নষ্ট হতো না,,,,

রুবি : চুপচাপ বসে রইলো
কোনো উত্তর দিলো না,,,,,,

শায়লা: এই শিশির ওরা চলে এসেছে

আয়ান দৌড়ে চলে আসলো,,,,,
আয়ানের পিছনে শিশির আসলো আয়ান ব্যথা পাবে আস্তে,,,,

রায়হানকে জড়িয়ে ধরে বললো,,,,পাপ্পা তুমি এসেছো জানো আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি,,,,

রায়ান: আমি ও তোমাকে অনেক অনেক মিস করেছি,,,,, তোমার জন্য দেখো চকলেট ,, আইসক্রিম,,পিৎজা নিয়ে এনেছি,,,,,

আয়ান:  পাপ্পা,,,, মাম্মা চকলেট খেতে দিবে না ,,,

শিশির আসলো,,,,, রায়ানের চোখ থমকে গেল এক মূহুর্তের জন্য সব ভুলে গিয়েছিলো,,,,,চোখ সরাতে পারছেনা শিশিরের দিকে থেকে,,,,, শিশিরকে যেন আজ নতুন করে দেখছে,,,,

শিশির রায়ানের দিকে দেখলো আর ভাবলো ,,,এইটা কি সেই রায়ান যাকে আমি নিজের জীবন মেনেছি,,,
না  এটা তো সেই রায়ান না,,,,এই রায়ান তো বড্ড স্বার্থপর,,,,
পরে রুবি ভাই আমরা যে জন্য এসেছি সেটা শুরু করলে ভালো হয় ,,,,,,,

শায়লা: আপনাদের জন্য নাস্তা নিয়ে আসছি ,,,,

রেহেনা: আমরা নাস্তা খেতে আসিনি শিশির সেটা তুমি ভালো করে জানো,,,,,

শিশির: সেটা তো জানি ভদ্রতার খাতিরে,,,খালি মুখে তো যেতে দিতে পারিনা,,,,,,আর আমার আসুক এরপর না হয় ঐ বিষয়ে কথা হবে,,,,

রায়ান: আচ্ছা নিয়ে এসো,,,খাবার  ,,,, দুপুর তো হয়ে গেছে
শিশির আর শায়লা খাবার আনতে চলে গেলো,,,,

রেহেনা : কিরে রায়ান,,,কি করলি এটা  তোকে বললাম না ওদের কোনো খাবার আমরা খাবো না,,,,,,

রায়ান: কিচ্ছু হবেনা মা ,,,, শিশির যতই চেষ্টা করুক কিছু করতে পারবেনা,,,,,,,

(পাঠকরা পরের পর্ব পড়তে রিভিউ দিন )

Comment