ওবায়দুল মুন্সী

ওবায়দুল মুন্সী

শীতবস্ত্র বিতরণ
ওবায়দুল মুন্সী

-মিশু,যিশু, শুভ, ওরা তিন বন্ধু। সবাই একই ক্লাসে পড়ে। লেখাপড়ায় যেমন মেধাবী, খেলাধূলায়ও ওরা সমান পারদর্শী। স্কুল ছুটি হলে,বাড়ি ফেরার আগে মাঝেমধ্যে নদীর পাড়ে কিছুক্ষণের জন্য হাটতে যায়। সুরমা নদীর জল শীত আসলেই বরফঠাণ্ডা হয়ে যায়। নদীর তীরে যারা বসত করে, তারা এনদীতেই গোসল করে কিন্তু শীত আসলেই ভয়ে কেউ নদীতে নামে না। ২০২০ সাল শুরু হতেই সিলেট-সুনামগঞ্জে শীত জেঁকে বসেছে। হঠাৎ কোনো কোনো দিন বৃষ্টিও হচ্ছে। আজ তিন বন্ধু মিলে প্রচণ্ড শীত নিয়ে ভাবছে।
শুভ- এই মিশু,যিশু এবার তোদের শীতের রাত কেমন লাগছে রে –
মিশু ও যিশু বলল- আর বলিসনে শুভ,এবছর কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় শীত একটু বেশিই মনে হচ্ছে।
শুভ- ঠিক বলেছিস তোরা, যদিও দুপুরে আমার কাছে সামান্য গরম লাগে কিন্তু বিকেল নামার সাথে সাথেই খুব শীত লাগে। তোদের কাছে লাগে কী না আমি জানি না। মিশু বলল- জানিস শুভ কয়দিন ধরে আমি রাত ৯ টা বাজলেই লেপ-কাঁথা নিয়ে বিছানায় শুইয়ে পড়ি। যিশু- আমিও তাই- শীতের ভয়ে বাসা থেকে বের হতে একদম মন চায় না! শুভ- তাহলে, একটু ভেবে দেখতো আমাদের যদি এরকম অবস্থা হয় তাহলে রাস্তার যারা রাত যাপন করে তাদের কী হবে? যিশু – শুভ ঠিক বলেছে মিশু। চল এবার আমরা তিন বন্ধু মিলে, শহরের বস্তি এলাকার দরিদ্র শিশুদের জন্য শীত বস্ত্রের ব্যবস্থা করি। মিশু বলল- কিন্তু কিভাবে? আমরা তো ছোট কোনো কাজকর্ম বা চাকরিবাকরিও করি না। শীতবস্ত্র কিনতে তো অনেক টাকাপয়সা লাগবে। সেই টাকাপয়সা আমরা কোথায় পাবো?
শুভ- তোরা যে বলেছিলি তোদের মাটির ব্যাংক আছে,সেখানে প্রতিদিন ৫/১০ টাকা করে রাখিস। আমিও বাবা/মা, আত্মীয়দের দেওয়া কিছু টাকা আমার মাটির ব্যাংকে জমা করেছি। তাহলে, চল বাসায় গিয়ে আমাদের ব্যাংকগুলো ভেঙে দেখি কত টাকা জমা হয়েছে। এই বলে ওরা তিন বন্ধু বাসায় চলে যায়। তারপর কথামত সবাই ক্লাস ছুটির পরে, ক্লাসরুমে বসে যার যত টাকা আছে বের করে গুনতে থাকে। গুনে দেখে,শুভ’র কাছে ৫০৫/-,মিশুর কাছে ৫২৫/-এবং যিশুর ১,০৭০/- মোট ২০০০/- টাকা হয়েছে। জানালার ফাঁকে তাদের এই কাণ্ডকারখানা দেখছিলেন, অত্র স্কুলের হেডস্যার ম আব্দুর রহিম। তিনি ভিতরে এসে, মুচকি হাসি দিয়ে বললেন- কী খবর তোমাদের? এই টাকাগুলো দিয়ে তোমরা কী করতে চাও? এবার, চট করে শুভ বলতে লাগলো- জি স্যার,আমরা এই টাকাগুলো মাটির ব্যাংকে রেখেছিলাম। চিন্তা করে দেখলাম এবছর প্রচণ্ড শীত পড়েছে, আমাদের শহরের বস্তির ছেলেমেয়েরা এই শীতে হয়তো খুব কষ্টে আছে। তাই আমরা এই টাকা দিয়ে ওদের শীতবস্ত্র কিনে দিতে চাই। ম রহিম – তা তোনাদের কত টাকা হয়েছে। যিশু- বেশি নয় স্যার, মাত্র ২০০০/- টাকা হয়েছে। স্যার, হাসি দিয়ে বললেন- এতো অল্প টাকায় তো কিছুই হবে না বেটারা! তবে চিন্তা করো না, আমার ব্যক্তিগত ফাণ্ড থেকে তোমাদের আমি আরো ১৮,০০০/- টাকা দিচ্ছি। সবমিলিয়ে ২০,০০০/- হলো, এবার মোটামুটি হয়ে যাবে। আমি আব্দুলকে বলছি,ও তোমাদের সাহায্য করবে। আগামীকাল সবক্লাসের ছাত্রদের আমি বলে দেবো। যারা যারা যেতে চায় তোমাদের সাথে নিয়ে সবাই মিলে একসাথে শীতবস্ত্র বিতরণ করে আসবে। ঠিক আছে,এবার তোমরা যাও। মিশু,যিশু ও শুভ খুশিমনে বাসায় ফিরে এলো। পরেরদিন, স্কুলের অনেক ছাত্রদের নিয়ে হেডস্যার ম আব্দুর রহিম নিজে গিয়ে বস্তির দরিদ্র ছেলেমেয়েদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দিলেন

বন্ধুরা, চাইলে ওদের মতো তোমরাও দরিদ্র শিশুকিশোরদের শীতের সময় শীতবস্ত্র কিনে দিতে পারো এবং মিশু,যিশু ও শুভ’র মতো মানবিক হতে পারো।

Comment