কবিতা:নির্বাচিত কয়েদী
—ড. মিনা বুলবুল হোসেন
এই রাষ্ট্রে
অপরাধ প্রমাণের আগেই
মানুষ নির্বাচন হয়ে যায়—
কারা বাঁচবে,
কারা ধ্বংস হবে।
সে ছিল
রাষ্ট্রের নির্বাচিত কয়েদী,
আইনের নয়,
ব্যবস্থার।
তার অপরাধ—
সে দরিদ্র,
সে নীরব,
সে প্রশ্ন করার ক্ষমতাহীন।
কারাগার বলেছিল,
“তুমি দোষী”—
আর রাষ্ট্র বলেছিল,
“প্রক্রিয়া সম্পন্ন।”
প্যারোল এলো—
এক রাতের মিথ্যা মানবিকতা,
একটি নাটকীয় সহানুভূতি,
যাতে প্রমাণ করা যায়—
রাষ্ট্র নাকি নিষ্ঠুর নয়।
সে দৌড়ে গেল বাগেরহাটে,
কিন্তু রাষ্ট্র
আগেই পৌঁছে গিয়েছিল।
দরজা খোলা,
ভেতরে ঝুলে থাকা স্ত্রী,
নিঃশ্বাসহীন শিশু—
রাষ্ট্রের সবচেয়ে নীরব রায়।
এটি আত্মহত্যা নয়,
এটি কোনো পারিবারিক ট্র্যাজেডিও নয়—
এটি রাষ্ট্রকাঠামোর
ধীরে, নিখুঁত হত্যাকৌশল।
কারাগার সেদিন
দেয়াল ছেড়ে ঘরে ঢুকেছিল,
নারীর গলায় দড়ি পরিয়েছিল,
শিশুর বুক থামিয়ে দিয়েছিল।
যে ফিরে গেল আবার,
কারণ রাষ্ট্রের কাছে
একজন মানুষ ফেরত দেওয়া জরুরি নয়—
একটি কয়েদী ফেরত দিলেই যথেষ্ট।
সে এখন বেঁচে আছে
নথিতে,
পরিসংখ্যানে,
কয়েদির তালিকায়—
কিন্তু নাগরিক হিসেবে
তার মৃত্যুসনদ আগেই ইস্যু হয়েছে।
এই রাষ্ট্রে
কেউ অপরাধী হয় না,
কেউ নির্দোষও নয়—
কেউ শুধু
নির্বাচিত কয়েদী।
আর তার মূল্য
পরিশোধ হয়
নারীর দেহে,
শিশুর নিঃশ্বাসে,
আর ভালোবাসার রক্তে।
