ড.খান মো: মনিরুজ্জামান

ড.খান মো: মনিরুজ্জামান

প্রাত ভোর সাড়ে পাঁচটায় স্ত্রী ঘুম থেকে ওঠে রান্না বাড়া সামলায়। আমি পরে ওঠে সাধু ব্যায়াম করি। বাচ্চারা ঘুম থেকে উঠতে চায়না যদিও পিছে স্কূল। কহোর শীত অথবা কম। আবার গরমে উল্টা। এমতাবস্থায় কষ্টের সাথে সাথে সে জাবর কাটে। লাগাতার জাবর। পরে তার অধ্যাপনা যাত্রায় এ যাত্রাগানের অবসান। আমি নীরবে ওদের স্কূল ও আমার অফিস সামলাবার চেষ্টা করি। স্বামীরা তো এমন। আর স্ত্রীরা তো অমন। আজ শুক্রবার। স্ত্রী পেট পুরে ঘুমাচ্ছে। আমি ঘুম জাগা বেডে। ভাল আর লাগছেনা। কারণ জাবরকাটা কর্ণকূহরে আসছেনা। বাধ্য হয়ে দশটায় টেলিফোনে বললাম, উঠে জাবর কাটো। জাবরকাটা না শুনলে তো আর ভালো লাগছে না। নিত্যদিনের অভ্যাস রচি বনে গেছে। টেলিফোনে কাছে আসিয়া ভালোবাসিয়া মুচকি হাসি দিলো। অমনি দেলখুশ। আহ্! প্রতিদিন যদি এমন হতো। আমি চাইলেই কি আর হবে? পিছে স্বভাব! তার হাসিতেই আমার কাব্য সৃজন। জাবরকাটাতেও!

. ঠাঁই
ড. খান মোঃ মনিরুজ্জামান

নুপুরের দাম যতবহু বৃদ্ধি পায়
তবু শোভা পায় পদ কিনারায়।
টিক ঠিকই যৎসামান্য মূল্যবান
তা যে ললাটদেশে দেদীপ্যমান।

লবণে কভু ধরেনা পোকা ঠিক
মিষ্টিতে তা ধরে অধিক অধিক।
সোজা পথটা মানুষের অরুচি
পেট পীড়াতেও খেতে চায় লুচি।

দুধ বিক্রি করে সবাই ঘুরে ঘুরে
মদ কিনে সবাই গিয়ে দুরে দুরে।
ভাবি দুগ্ধে জল মিশালো কিনা,
অথচ মদে জল ঢালি চলে পিনা।

কচুপাতা বাহিরেতে চোখে ধরে
তার মধ্যে খাউজ ভরা থরে থরে।
আর্শীবিষে দুধ খেয়ে তা উগরায়
গরু ঘাস খেয়েই দুধ দেয় ধরায়।

স্বভাব শুধরানো বহুত সহজ নয়
সাধনা গুণেই আরাধনার বিজয়।
অহংকার মানুষের কভু না মানায়
স্বীয় ভারে নুড়ি ডুবে সিন্ধু তলায়।

ঘুম আছে কিন্তু বিছানা নাই ভবে
আবার কেউ নির্ঘুমে বেড সুলভে।
যার দয়া আছে তার যে কিছু নাই
যার ভুরি ভুরি তার যে আরো চাই।

জ্যোস্না না যাচা চাঁদ মূল্য না ধরে
যেমন মরে বাঁচে বহুজনে চরাচরে।
মানুষে মানুষে বহুত বিস্তর ব্যবধান
যতটা না ব্যবধান জমিন আসমান।

মুখ ও বুকের ব্যবধান ঘুচাবো সবে
জ্বল জ্বল তারার মত পদচিহ্ন রবে।
তোমায় দেখে যদি কারো সুখ ধরে
ধন্য জ্ঞান মানুষে, মানুষের চরাচরে।

২৩/০১/২০২৬
শেওড়াপাড়া, ঢাকা।

Comment