কবিতা: জনসভা
—ড. মিনা বুলবুল হোসাইন
এই যে জমায়েত—
কেবল মানুষের ভিড় নয়,
এখানে দাঁড়িয়ে আছে ক্ষুধার ইতিহাস,
অবহেলার দীর্ঘশ্বাস,
ভোটের বাক্সে বন্দি স্বপ্নের খোরাক।
মাঠ জুড়ে মানুষের ঢেউ—
কেউ এসেছে ভাতের প্রশ্ন নিয়ে,
কেউ এসেছে ন্যায়ের দাবিতে,
কেউ বুকের ভেতর লুকিয়ে এনেছে
অপ্রকাশিত ক্রোধের আগুন।
মাইকের শব্দে শব্দে
ভাঙছে রাষ্ট্রের নীরবতা—
যে নীরবতা এতদিন
অন্যায়কে বৈধ করেছিল,
অপেক্ষাকে বানিয়েছিল নিয়তি।
এই জনসভায়
মাটির মানুষের কণ্ঠই মূল ইশতেহার—
কৃষকের ফাটা হাত,
শ্রমিকের ঘাম,
মায়ের চোখের জল
আজ রাজনৈতিক ভাষা হয়ে উঠেছে।
খণ্ডে খণ্ডে উন্মোচিত হচ্ছে
রাষ্ট্রযন্ত্রের ক্ষয়—
যেখানে উন্নয়নের নামে
মানুষকে ছাঁটাই করা হয়েছে,
গণতন্ত্রকে রাখা হয়েছে
শুধু পোস্টারের মধ্যে।
তবু আমরা কেবল অভিযোগ করতে আসিনি—
আমরা এসেছি হিসাব মেলাতে,
এসেছি অধিকার আদায়ের চূড়ান্ত ঘোষণায়।
এই জনসভা বলে দিচ্ছে—
অপেক্ষার পালা শেষ,
সমঝোতার মেয়াদ ফুরিয়েছে,
আর ‘আগামীকাল’ নামের প্রতিশ্রুতি
আজ বাস্তবায়নের দরজায় কড়া নাড়ছে।
আমরা চাই এমন এক বাংলা—
যেখানে শাসন মানে সেবা,
ক্ষমতা মানে দায়িত্ব,
রাজনীতি মানে
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস।
এই জনসভা তাই
কেবল বক্তৃতা নয়,
এ এক সামাজিক শপথ—
ভাঙা রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ার,
অন্ধকারের ভেতর থেকেও
একটি সুন্দর, মানবিক
বাংলা দেশের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।
আজ এই মাঠে
স্বপ্ন আর বাস্তবতা
একই কণ্ঠে কথা বলছে—
আর সেই কণ্ঠ আর থামবে না।
