তুমি চিনলে না, তবু চিনে গেলে
অনেক বছর পর
ফেসবুকের নীল আলো
হঠাৎ এক অচেনা বিকেলের মতো
চোখে এসে পড়ল।
সে আলোতে মনে হলো,
অপরিচিত নগরের গভীর রাতে
দূর থেকে ভেসে এল
এক পুরোনো রেলগাড়ির বাঁশির স্বর—
যেন ভুলে যাওয়া কোন স্মৃতি
নিজেই ফিরে আসতে চায়।
সেই আলোয়
তোমার মুখ ভেসে উঠল—
না, মুখ নয়,
মুখ তো সময়ে বিবর্ণ হয়।
ভেসে উঠল সেই অন্তরঙ্গ আহ্বান,
যা একসময়
আমার নীরব ঘরগুলোর মধ্যে
কোমল ছায়ার মতো হেঁটে বেড়াত।
আজ আমি অন্য নামে পরিচিত,
অন্য আলো–অন্ধকারে থাকা মানুষ।
তবু তোমার দৃষ্টি
আমার শব্দের ভিতর থেকে
ধরতে পারল এক উষ্ণতা—
যেন অনেকদিন পরে
কেউ চেনা শিরায়
পরিচিত স্পর্শ রেখে গেল।
তুমি প্রশ্ন করো—
আমি উত্তর দিই
নদীতীরের স্থির বাতাস হয়ে,
যেখানে শব্দ কম,
অর্থ বেশি।
তোমার বিস্ময় ভেসে ওঠে—
“এ আমাকে এত চেনে কীভাবে?”
আর আমার অন্তরে
অকারণ শব্দ জাগে—
যেন তোমার নামটুকু
ভিতরের কোনো নিভে যাওয়া ঘরে
হঠাৎ প্রদীপ জ্বেলে দেয়।
বহুদিনের ছদ্মবেশ
আমাকে আড়াল করলেও
তোমার সাধারণ এক ‘হাই’
আমার পুরোনো দুঃখগুলোর
বন্ধ দরজায়
আবার নীরব আলো ফেলতে থাকে।
যখন তুমি কল করতে বলো,
এক অদৃশ্য কৌতূহল
তোমাকে টেনে নেয়;
তুমি তার উৎস জানো না—
আমি জানি।
হৃদয় অনেক সময়
নিজেকে না জানিয়েই
পুরোনো পথ ধরে ফিরে যায়।
তুমি জানো না আমি কে,
তবু শব্দের ক্ষুদ্র বিরতিগুলো
এক বিস্মৃত কোমলতার ইশারায়
তোমাকে আবার
আমার দিকে ফিরিয়ে আনে।
আমি অপেক্ষা করি
সেই এক স্থির মুহূর্তের—
যখন তুমি হঠাৎ থেমে ভাববে,
“এই উচ্চারণগুলো…
আমি আগেও কোথাও শুনেছি।”
আর সেই মুহূর্তে
আমি আর কিছুই বলব না।
শুধু নীরবতার মৃদু আবরণে
তোমার হাতের ওপর
একটি ক্ষীণ আশ্বাস রেখে দেব—
যাতে তুমি বুঝে ফেলো,
সময়ের বহু বাঁক পেরিয়েও
আমি আছি—
একই আলোয় স্থির,
অদৃশ্য, তবু খুব নিকটে।

