MUFASSEL CHOWDURY MANIK SHAH

MUFASSEL CHOWDURY MANIK SHAH

ভান্ডারী মুলা’র বেচাকেনা
———————————
মোফাচ্ছেল চৌধুরী মানিক শাহ

মুলা আমাদের জন্য একটি জনপ্রিয় সবজি। বাংলাদেশের মানুষ এ মুলা সবজি খেতে খুবই পছন্দ করে। মুলা সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি,ভিটামিন। এই মুলা সবজি খাদ্য হিসাবে যেমন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঔষধি গুণের জন্য । কিডনি সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সৃষ্ট রোগের ঔষধ হিসাবে এটি কার্যকর।
সারা বাংলাদেশে মুলার ব্যাপক চাষাবাদ হয়ে থাকে। তবে আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ভান্ডারী মুলার।
মুলার বিভিন্ন জাত থাকলেও এই ভান্ডারী মূলা মূলত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় উৎপন্ন হয়ে থাকে। জাপানি জাতের এই মূলা দশকের পর দশক ধরে এই এলাকায় চাষাবাদ হয়ে আসছে। বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য ও প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। এই নদীর পাড় বা বালু চর সহ ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকায় এই মুলার চাষাবাদ হয়ে থাকে। এই মুলার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের রয়েছে আলাদা বা ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য। এই মুলার বাণিজ্যিক কার্যক্রমটা মূলত মাইজভান্ডার শরীফের ওরশকে লক্ষ্য করে আবর্তিত। সেই সাথে চাষাবাদও হয় একই লক্ষ্যে। প্রতি বছর বাংলা সনের ১০ মাঘ অনুষ্ঠিত হয় মাইজভান্ডার দরবারের প্রধান ওরশ এবং এই ওরশ উপলক্ষে সারা বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও মানুষের সমাগম ঘটে। এই মহা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বসে জমজমাট মেলা – উৎসব । এই ওরশে আগতদের নিকট রয়েছে প্রচুর চাহিদা। ফলে এ সময় এই মুলা ব্যাপকহারে বেচাকেনা চলে।
এই মুলা আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে। কখনো কখনো এই মুলা ১৫ কেজি পর্যন্ত ( তারও অধিক) হয়ে থাকে। বর্তমানে এই মুলা এক একটি ৭০ থেকে ৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে। মাইজভান্ডার দরবার শরীফে আগত বক্তা মুরিদগণ পবিত্র তবারুক হিসাবেও এই মুলা সংগ্রহ করে থাকেন। যার ফলে এই মুলার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
লেখার সংক্ষিপ্ততার কারণে এবিষয়ে আরো অনেক তথ্য তুলে ধরা সম্ভব না হলেও আমরা এবিষয়ে আগামিতে বড় আকারে রচনা করার আশা করছি।
—— মোফাচ্ছেল চৌধুরী মানিক শাহ, লেখক-গবেষক, সাব এডিটর, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা, ঢাকা।
#fbphotopost #viral #fbpost #photochallenge

Comment