সেই মেঘ সেই আগুন ১২৯
নদী
নিশিকান্ত রায়
সত্যি,
একদিন নদীর ভিতরে ঢুকে গেলাম
তার কাছে বিশ্বাস জমা রেখেছিলাম।
সাঁতার কাটতে গিয়ে
তাকে ডেকেছিলাম, সখা বলে।
সে আমার
শৈশব কৈশোরের গন্ধ কেড়ে নিয়ে
সাত সমুদ্দুর তের নদী পেরিয়ে
চলে গেছে দূরে- বহুদূরে।
এমন করেই সে হয়ে ওঠে আকাশ,
জলভরা মেঘ,
কালো,সাদা,খয়েরি,হলদে,খড়িমাটি রঙ।
ঘুরে ঘুরে
কুড়িয়ে আনে কাঁশফুল,
ডুব দিয়ে তুলে আনে
ঝকঝকে ঝিনুক।
সে আড়াল করে
আর কেবলই ভাসিয়ে নিয়ে যায়
যৌবনের সমস্ত দহন।
সেই তাপদগ্ধতায়
ভরে ওঠে মাঠের ফসল,
বনের গাছপালা-
শ্লোগানমুখর রাজপথ।
একদিন,
একটা বৃক্ষের ফল ছুঁয়ে দেখি-
ভেতরে বহমান নদী।
একরত্তি শস্য দানা বুকে জড়িয়ে দেখি –
সেখানেও নদী।
একমুঠো মাটি কপালে ঠেকাই-
তার মধ্যেও নদী।
ভালোবাসা বিনিময় করতে গিয়ে দেখি-
তার ভেতরেও
নদীদের ঘরবাড়ি।
নিজেকে পরখ করি-
আমার ভেতরেও নদীর বয়ে চলা।
এখানে কোন কান্না নেই-
এ নদীর জলে
আগুন মিশানো।
সেই আগুনে
দাউ দাউ করে
জ্বলছে সবাই।

