Munmii Bhattacharya

Munmii Bhattacharya

উপবাসেৰ প্ৰয়োজনীয়তা

উপবাস দুইভাবে পালন করা যায় – শারীরিক এবং মানসিক। একটিতে অনাহারে থেকে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া হয় আর অন্যটিতে মনের কিছু অলসতাকে বিদায় জানিয়ে নেতিবাচক আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে মানসিকভাবেও উপবাস পালন করা যায়।

সাধারণত উপবাস বলতে আমরা খাদ্যনালীর বিশ্রামকে বুঝি | শরীরের প্রতিটি গ্রন্থি, কোষ, অঙ্গকে এই প্রক্রিয়াই বিশ্রাম দেয় | সাথে মানসিকভাবেও বিশ্রাম প্রদান করে | জন্ম হওয়ার পর থেকে অহরহ খাদ্য গ্রহণ করিয়েই থকা হয় শারীরিক, মানসিক পরিতৃপ্তির জন্য | উপকারী খাদ্যতকরি জিভার তৃপ্তিকহে প্রাধান্য দেওয়া দেখা যায় | নিরন্তরে চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করবে কেউ নোওয়ারবে | একটু হলেও বিশ্রাম সবাই চায় | কিন্তু আমরা জন্মের পর থেকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত যতগুলো খাদ্য গ্রহণ করেছি সবগুলোই কি ঠিকমত হজম হয়েছে কখনো ভেবে দেখেছো কি ! সুষম, বিষম সব আহারই মিশ্রিত হারে অতিমাত্রায় খাওয়ার ফলে শরীরে কিছু খাদ্য হজম না হওয়া অবস্থায় রয়ে যায় | পরবর্তী সময়ে এগুলোই ছোট ছোট আকারে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়ে অম্ল, পিত্ত, পাথর ইত্যাদি রূপ নিয়ে সোমাই পরে | শরীরের অঙ্গগুলোর আকৃতি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, তেমনকুয়াত অবশিষ্ট খাদ্যের অংশই সেই কোষের আকার বৃদ্ধি করার সাথে অতিরিক্ত ভারের জন্য বিষ নতুবা আনুষঙ্গিক সমস্যা কিছুর উদ্ভব হয় | তখনই আমরা জানতে পারি আর চিকিৎসা খুঁজে হাবাথুবি খেতে হয় |

আয়ুর্বেদে কফ, পিত্ত আর বাতকে শরীরের ত্রিদোষ বলে। যখন শরীর এই ত্রিদোষের উপযোগী আহার গ্রহণ করে তখন সুষ্ঠুভাবে পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু যদি কফের সময় বাতের খাদ্য, পিত্তের সময় কফের খাদ্য ইত্যাদি খেলিকেলি করে খাওয়া হয় তাহলে হিতে বিপরীত হয় অর্থাৎ অসুস্থ হতে শুরু করে। ক্ষোভ, দুঃখ, কিছু কথা অকারণে ধরে রাখা, কে কি বলল বা কি বলবে ভেবে থাকা, ক্রোধ, সন্দেহ, ঘৃণা, সংশয়, ঈর্ষা, অসন্তোষের মত স্বভাবগুলোও হজম প্রক্রিয়ায় বিপত্তি ঘটায়। সাথে এই নেতিবাচক ভাবগুলো মনে ক্রিয়া করার অবস্থায় ভোজন করলে পাচক রস ভালোভাবে ক্ষরণ না হওয়ার কারণেও পরিপাক যন্ত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে।

উচিত সময়ে সঠিক খাদ্যই খাওয়া উচিত। যেমন- শীতকালীন বা বর্ষাকালীন ফলমূল, শাকসবজি ইত্যাদি কৃত্রিম উপায়ে আজকাল বারো মাসই পাওয়া যায়। কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী সকলেরই আয়ুষ্কাল থাকে। এক নির্দিষ্ট সময়ের পর গুণাগুণহীন হয়। তখন সেই খাদ্য খেলে উপকারের বদলে অপকারই করে। অনিষ্টকারী খাদ্যের অপকার সম্পর্কে সকলেই জ্ঞাত। তবুও মুখের স্বাদ, সময়ের তাগিদ, কর্মব্যস্ততা ইত্যাদি নানা অজুহাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাকেই গ্রহণ করতে হয়। দিন বাড়ার সাথে সাথে হজম সক্রিয়তা কমে আসে আর শারীরিক অসুস্থতা দুর্বল করে দেয়। গ্যাস্ট্রিক, টক ঢেক, পাইলস ইত্যাদির জন্য সাধারণ জিনিসও হজম করতে পারা যায় না। তেমন অসুবিধা এড়াতে উপবাসে থাকা প্রয়োজন। ফাস্ট ফুড, প্যাকেটের খাদ্য, মুখরোচক, ঠাণ্ডা পানীয় ইত্যাদির বদলে ঘরে বানানো জলখাবার খেলে শরীর সবসময় সুস্থ থাকে। কদাচিৎ হলেও উপবাসে থাকার চেষ্টা করলে সবসময় স্বাস্থ্যবান থাকা যায়।

উপবাসের সময় দীর্ঘক্ষণ ভোক থাকার কারণে শরীর অটোফেজি প্রক্রিয়া শুরু করে। অর্থাৎ কোষগুলো বাইরে থেকে উপাদান না পাওয়ার কারণে দেহের অভ্যন্তরের জীবাণু, অনেকদিন ধরে জমে থাকা অবশিষ্ট খাদ্যগুলোকেই ভক্ষণ করা শুরু করে। যার মাধ্যমে বর্জিত পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়ে শরীরের অন্তর্ভাগ পরিষ্কার করে। সুস্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী।

উপবাস মানে কেবল অনাহারে থাকা নয় | পূর্ণ ভোজন করেও উপবাস পালন করা যায় | সমালোচনা থেকে দূরে থেকে, পরনিন্দা না করে, ক্রোধ সংবরণ করে সকলের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতার চেতনা জাগ্রত করলেই প্রকৃত অর্থে উপবাস পালন করা বলে ধরা যায় | শরীর, মনের সাথে আধ্যাত্মিক এবং বৌদ্ধিক প্রগতির অর্থে পরমাত্মার চরণে সৎ কর্মের মাধ্যমে নিজেকে সমর্পণ করার নামই হলো উপবাস | প্রাচীন কাল থেকেই ইন্দ্রিয়গুলোকে নিজের আয়ত্তে আনার জন্য এই পদ্ধতি পালন করা হয় | কালক্রমে একে আধুনিক জীবনশৈলীও সুস্থতার জন্য আঁকড়ে ধরেছে | যা সর্বতোভাবে সন্তুষ্টি মানুষকে প্রদান করতে পারে।

✍🏻মুনমী ভট্টাচাৰ্য
গুৱাহাটী, অসম
ফোন- 8486731180

Comment