অব্যক্ত টান
তোমাকে দেখলেই হঠাৎ
নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা নরম কুয়াশার মতো
আমার মনটা ভিজে ওঠে—
কী অদ্ভুত, কত বছর পরেও
এমন টান আসে?
আমি কি তবে আবার
আলোর মধ্যে হাঁটতে শিখছি?
তোমার কণ্ঠের ভিতর
নিদ্রাহীন রাতের মতো
একটা জ্যোৎস্না ঝুলে থাকে—
যা আমাকে পথ দেখায়,
আলোয় নয়,
অন্ধকারেই।
তুমি হেঁটে গেলে
রাস্তার ধুলোও
তোমার ছায়াকে ছেড়ে দিতে চায় না।
আমি বেপরোয়া হাওয়াকে বলেছিলাম—
যদি পারে, একটু নিয়ে যাক তোমার গন্ধ,
সে বলল, “এই তো বহন করছি,
তোমার বুকের ভিতরেই।”
প্রেম এমনই—
একা একা বসে থাকলে
হঠাৎ মনে হয়
পুরো পৃথিবী তোমার দিকে ঝুঁকে আছে।
আর তোমার চোখ দুটো
যেন ভোরের আগে
শহরের প্রথম আলো—
এক ফোঁটা দুঃখে,
এক ফোঁটা আগুনে,
আর অসীম ডাকে ভরা।
আমি আজও জানি না
তোমাকে ভালোবাসা মানে
জীবনকে স্পর্শ করা
নাকি জীবনের সবচেয়ে গোপন ব্যথাকে নাম ধরে ডাকা।
তবুও বলি—
তোমার হাত ছুঁলেই
আমার ভিতর থেকে
একটা অনাগত গান উঠে আসে।
তাই থাকো।
শুধু থাকার মতো করে—
যেমন থাকে
দিগন্তের ওপারে
একফালি উড়ে যাওয়া পাখি,
অথবা অন্তহীন পথের ধারে
এক কাপ কাঁচা চায়ের গন্ধ।
আমি জানি, এ ভালোবাসা
শব্দ নয়—
একটা দীর্ঘ হাঁটা,
যার প্রতিটি ধাপে
তোমারই মুখ।

