রম্য গল্প “অপভ্রংশ ” –রায়হানা ইয়াছমিন
আরে আরে বলইদ্যা কয় কী? আমাদের গাঁয়ে বোকা কথা বললে “বলদ” বলে—তাই বলে। এটা তবু বোঝা যায়। কিন্তু আমার চাচাতো বোনের নাম “হতি” শুনে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না ওর আসল নাম কী।
ফাতেমা → হতে মা → হতি।
বেচারি খুব বিরক্ত হয় নামটা শুনে।
আমার বড় বোন চুপচাপ টাইপের মানুষ। ওর ডাক নাম “শিল্পী”। পশ্চিম ঘরের জেঠি কিনা ডাকে “ছেবলি”! আমাদের গাঁয়ে এমনও হয়—আপনি শুনলে বুঝবেনই না নামটার আসলটা কী ছিল।
এমন একটা নাম—“বুইল্লা”!
ভুলে যাওয়া থেকে ভুলা, তা থেকে বুলা, তারপর বুইল্লা!
ওরকম নাম আবার হয় নাকি?
আমি সেদিন পুকুরে যাচ্ছিলাম। এক জেঠি ডাকলেন,
—এই ফাকি, হুনতো!
আমার নাম পাখি। আর ওভাবে ডাকলে আমি শুনবও না।
আমার কাছে, বা আমাদের সব ভাই-বোনের কাছে, এসব হয়তো এত আজব লাগত না যদি ছোটবেলায় গাঁয়েই থাকতাম। বাবা সরকারি চাকুরে ছিলেন। অবসরের পর গাঁয়ে এসেছি। এসে থেকেই নামের ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগে।
“শুক্কুইরা”—এই নামটার মানে কী, তাও বুঝতে পারি না। ওর নাম নিশ্চয়ই শুক্র না!
সেদিন গোল্লাছুট খেলতে নতুন একটা ছেলে এসেছে। ভাইয়া নাম জানতে চাইলে সে বলল,
—আমার নাম আনারস।
মাঠে হাসির হুল্লোড় পড়ে গেল। পরে জানা গেল—আনোয়ার হোসেন।
রইস্যা আছে একজনের নাম—রইস থেকে রইস্যা হবে হয়তো।
জসিম হয়ে যায় জইস্যা।
খাদিজা → খতেজা → খতু।
আমরা ভাই-বোনরা রীতিমতো খেলি এই নামগুলো নিয়ে—গানের অন্তরীক্ষের মতো এলোমেলো। বাসার হতি’র ভাইয়ের নাম, তাকে ডাকে বাইস্যা।
আমরা একটা সূত্রও বের করেছি—সব ‘স’ গুলো একসময় ‘হ’ হয়ে যায়। মাঝখানে কিছু কিছু আবার হারিয়েও যায়।
কিন্তু এত খোঁজাখুঁজির পরও আমরা আরেকটা নামের কোনো সুরাহা করতে পারিনি—
“আবুইল্লা”।”বুইল্লা”নাম টার মতো এটাও বুঝতে পারছি না কি ছিল!
Rayhana yeasmin

Comment
