কবিতার নাম: অস্তিত্বের ব্যবচ্ছেদ।
শহরের কংক্রিটে আজ কেবলই আদিম নখের আঁচড়,
প্রত্যেকে এখানে শিকারি, প্রত্যেকের হাতে লুকানো পাথর।
ভোরবেলা রাজপথে যে মিছিলে মিশে যায় অগুনতি মুখ,
তাদের পকেটে ব্যক্তিগত দীর্ঘশ্বাস আর ধার করা সুখ।
গতির নেশায় ছুটছে সবাই, পিছে ফেলে মানবিকতার ছায়া,
ব্যস্ত এই গাণিতিক শহরে কারো জন্য অবশিষ্ট নেই মায়া।
যোগ্যতমের জয়গান গাইতে গাইতে বিবেক আজ মৃত শ্মশানে,
বেঁচে থাকা মানেই কেবল দহন, রক্তক্ষরণ এই বিষাক্ত গানে।
এখানে স্বপ্ন দেখার আগে লাইসেন্স নিতে হয় ক্ষুধার কাছে,
নরম ঘাসের বদলে মানুষ এখন কেবল ধারালো কাঁটায় বাঁচে।
মুক্তির আকাশ আজ রুদ্ধ হয়েছে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারাগারে,
আমরা সবাই বন্দী এক অদৃশ্য ইঁদুর দৌড়ের নীলচে কুয়াশায়।
এ শহরে সবাই কেবল চেনে জটিল প্রতিযোগিতার অঙ্ক আর দেনা,
চেনা মুখগুলো আজ মুখোশের আড়ালে হয়ে গেছে ভীষণ অচেনা।
লড়াই ছাড়া বেঁচে থাকা এখানে পরাজিত এক নির্জন স্তব্ধতা,
অস্তিত্বের শিকড়ে এখন কেবল তীব্র জেদ আর কঠিন নীরবতা।
প্রতিটি চাবুকের দাগ লিখে রাখুক অভিজ্ঞতার এক একটি নির্জন মিনার,
লড়তে লড়তেই চিনে নিতে হবে আত্মমর্যাদার নিজস্ব অধিকার।
পিছু হটে যাওয়া মানেই তো ধূসর বিস্মৃতির অতল যবনিকাপাত,
লড়াইয়ের এই তীব্র দহনেই জন্ম নিক আগামীর সাহসী সুপ্রভাত।
~ জিয়াউর রহমান শিলন

