Brindaban Ghosh

Brindaban Ghosh

আমার জীবনের গল্প
বৃন্দাবন ঘোষ আশীর্বাদ আবরার মাঠ বিষ্ণুপুর বাঁকুড়া
প্রিয় অভিজ্ঞাপন,
আমার তখন সাত কি আট বছর বয়স। যথেষ্ট জ্ঞান হয়েছে।আমি স্পষ্ট মনে করতে পারি সর্বাঙ্গে আমার খোঁস হয়েছিল। মা আমাকে পুকুরে নিয়ে গিয়ে রায়ের বাঁধের জলে ডুবিয়ে ডেটল সাবান দিয়ে স্নান করাতো। তা করলেও স্থায়ী সমাধান হলো না। খোঁস থেকে রস কাটতে শুরু করল। আমি তো খোঁসের যন্ত্রণায় রাতে ভালো করে ঘুমাতে পর্যন্ত পারতাম না। মা রেগে গিয়ে বলতো, কার না কার সাথে মিশে একটা ভয়ঙ্কর রোগ ডেকে আনলি ।খোঁস যে একটা ছোঁয়াচে রোগ ,মায়ের কথা থেকে তখন আমার ধারণা হলো। রোগ হয়েছে চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু কাকে দেখাবে। আমাদের করমা,লোখেশোল তারা জুড়ি ,ময়নাবনি মেটালতোড়া এইসব গ্রাম গুলোতে কোন কোয়াক ডাক্তার পর্যন্ত ছিল না। চিকিৎসা করাতে হলে চুয়ামসিনা যেতে হবে। বসন্তকালের কোন এক বারে মাসি আমি ও আমার মা সকালবেলায় চুয়ামসিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। নীহার ডাক্তার কোয়াক ডাক্তার হলেও ভালো চিকিৎসা করেন। মাসি তার ডান দিয়ে আমাকে ধরে আগে আগে চলল, মা আমাদের পিছে পিছে চললো। পৌনে এক ঘণ্টা হেঁটে অবশেষে নীহার বাবুর ডাক্তারখানায় গেলাম ।ডাক্তারখানায় প্রচন্ড ভিড় প্রায়।প্রায় এক ঘন্টা অপেক্ষা করার পর ডাক্তারবাবুর কাছে এলাম। দেখি তোর কি হয়েছে, বাব্বা এ যে দেখছি ভয়ানক খোঁস। ডাক্তারবাবু আমার হাতে একটা ইনজেকশন দিয়ে দিলেন। একটা শিশি তে খাবার তরল ঔষধ দিলেন। এক সপ্তাহ পর আবার আসতে বললেন। ও হ্যাঁ খোঁসে লাগাবার ওষুধ,ও দিলেন। প্রথমবারই আমাকে যে ওষুধ দিয়েছিলেন তাতেই আমি ভালো হয়ে গিয়েছিলাম ।দ্বিতীয়বার যেতে হয়নি।
বৃন্দাবন ঘোষ আশীর্বাদ আবরার মাঠ বিষ্ণুপুর বাঁকুড়া

Comment