শওকত আকবারের বেহুদা প্যাঁচাল

শওকত আকবারের বেহুদা প্যাঁচাল

প্যাঁচালিয়া-৮


ডুবে আছি অন্ধকারে

সময়ের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়া বোবা কান্না। যা শুধুই একটি প্রবন্ধ নয় – একটি জিজ্ঞাসা, একটি প্রতিবাদ, একটি নিঃশব্দ কান্না।
আমাদের বেড়েছে জ্ঞানের পরিধি, হয়েছি জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, ধর্মের দায়ী। বড় বড় ডিগ্রি আর মোটা মোটা সনদ। এতসবের পরেও কি একটু মানবিক হয়েছি? মানবতা নিয়ে কি একটু চিন্তাভাবনা করি? নিজেকে এই প্রশ্নটা করি তো? লোক দেখানো আর অভিনয়কে পেছনে ঠেলে বুকে হাত দিয়ে উত্তরটা দিই।

কোথায় আজ মানবতা? মানবতা আজ ভুলুণ্ঠিত, নিগৃহীত, অদৃশ্য। দেশে দেশে। সমগ্র পৃথিবী জুড়ে। আমাদের আজ সময় নেই মানবতা নিয়ে ভাববার, মানবতা নিয়ে কাজ করবার। মানবতা নামের এই বাজে নোংরা একটি শব্দ নিয়ে দু-এক সেকেন্ড সময় নষ্ট করার। আমরা আমাদের নিয়েই ব্যস্ত। বিজ্ঞানী ব্যস্ত তার আবিষ্কারে, সমাজ সংস্কারক ব্যস্ত বড় নেতা হতে, ধর্মের দায়ী ব্যস্ত ওয়াজ-নসিহতে আর কোন দোয়ায় কী উপকার তা প্রচারে। অর্থনীতিবিদ ব্যস্ত কীভাবে ঘরের চাল-চুলো বিক্রি করে একজন মানুষ নিঃস্ব হতে পারে—সেই সূত্র আবিষ্কারে। মানবতা নিয়ে কি কারো মাথা এতটুকু কাজ করে? করে না। একদমই করে না।

দেশে দেশে চলে আজ ধ্বংসযজ্ঞের হলি খেলা। মায়ের বুকে গুলি খেয়ে কাতরায় দুগ্ধপোষ্য শিশু। বাবার চোখের সামনে ধর্ষিত হয় কন্যা। পথে পথে পড়ে থাকে মানুষ নামের একটি প্রাণীর মৃত গলিত লাশ। তা খেয়ে-দেয়ে স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ করে পোকামাকড়।

আজ হাতের তালুতে তাকিয়েই ভ্রমণ করি জগৎ-সংসার। বিশাল সমুদ্র আর পর্বতমালার গহীনে নিসর্গীয় সৌন্দর্য উপভোগ করি। উন্নয়নের জোয়ারে ভাসে সারা বিশ্ব। এক কেজি চাল বিলি করে ১০০ মুখের সেলফি তুলি, মৃত্যুর খবরে জানাজায় শরিক না হয়ে ‘ইন্নালিল্লাহ’ শব্দের কপি-পেস্ট মেরে ঝড় তুলি সোশ্যাল মিডিয়ায়, বাবা-মার ভরণপোষণ না দিয়ে রাস্তার কুকুরের সাথে সেলফি তুলে করুণা দেখাই। উপদেশের বাণী আওড়াই হাজার বাজারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউ বাড়ে, ইমোজি রিঅ্যাকশনে আপ্লুত হই। বোধের ফেরিওয়ালা ডুকরে ডুকরে কাঁদে—আমাদের লজ্জাহীন তাণ্ডবলীলা দেখে।
মানবতা কী? ভুলে গেছি আজ। কীভাবে গড়ব অর্থের পাহাড়, নাম, যশ, খ্যাতি, বিত্ত-বৈভব—এই নিয়েই ব্যস্ত সর্বদা। আমরা সকলেই। মানবতাকে পিষ্ট করে এগিয়ে যাচ্ছি তো যাচ্ছিই—গন্তব্যহীন ঠিকানায় নির্লজ্জের মতো।

মানবতা আজ শুধুই একটি শব্দ। নোংরা কাগজে লিখিত সঙ্গহীন শুধুই একটি শব্দ। ধর্ম মানি। ধর্মের জন্য করি হইহুল্লোড়, ধর্ম নিয়ে করি যুদ্ধ। ধর্মের প্রচারে হই নির্মম। ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশে করি প্রতিযোগিতা। ধর্মের কিতাব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে স্বগোত্রীয়দের নিয়ে করি বিজয় উদ্‌যাপন। মসজিদ ভাঙি, মন্দির ভাঙি, গির্জায় করি অগ্নিসংযোগ—আমরা ধর্মপ্রেমী। আমরা খুবই ধার্মিক। মানবতার টুঁটি চেপে ধর্মের নদীতে করি পবিত্র হওয়ার স্নান। ধর্ম থেকে আজ মানবতাকে দিয়েছি বিদায়। ধর্মের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে নিজেরাই যেন আজ সাজিয়েছি নিজের ধর্মের অমিয় বাণী। ধর্মগ্রন্থ আজ শুধুই বুকশেলফে সাজানো একটি বৃহৎ আকৃতির সুন্দর বই। মানবতার বাণীগুলো আজ ঢেকে আছে ধর্মগ্রন্থের মোটা মোটা মলাটের নিচে।
…আর আমরা ডুবে আছি ঘোর অন্ধকারে।

👉 মুল পোস্টে ক্লিক করুন

Comment