Ziaur Rahaman Shilon

Ziaur Rahaman Shilon

অণুগল্প: কাঁচের দেয়াল।
শহরের ব্যস্ত ক্যাফেটেরিয়ার এক কোণে বসে ছিল নুরসা। তার সামনে রাখা কফি থেকে ধোঁয়া উড়ছে, কিন্তু চোখ দুটো জানলার বাইরের বৃষ্টিতে স্থির। ঠিক তখনই ঝড়ের বেগে ক্যাফেতে ঢুকল ঈশা। ভিজে একসা হয়েও ঈশার চোখেমুখে এক অদ্ভুত জেদ।
“ও আসবে না, নুরসা। মিছেই অপেক্ষা করছিস,” ঈশা চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল।
নুরসা ম্লান হাসল। “ও আসবে। ইয়া কথা দিলে রাখে।”
ঠিক তখনি ক্যাফের কাঁচের দরজায় দেখা গেল ইয়া-কে। তবে সে একা নয়, হাতে একটা বড় ক্যানভাস। বৃষ্টির হাত থেকে সেটাকে বাঁচাতে গিয়ে সে নিজে পুরো ভিজে গেছে। ইয়া ভেতরে এসে নুরসার উল্টো দিকের চেয়ারে বসল। তার আর নুরসার মাঝখানে টেবিলে রাখা ধোঁয়া ওঠা কফি আর ঈশার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি।
ঈশা গলার স্বর নামিয়ে বলল, “ইয়া, তুই জানিস এই পাগলামির কোনো মানে নেই। কাল তোকে দেশ ছাড়তে হবে। আর নুরসা এখানে একা…”
ইয়া কথা কেড়ে নিয়ে বলল, “সম্পর্কটা তো দূরত্বের নয় ঈশা, অনুভূতির। আমি হয়তো থাকব না, কিন্তু আমার এই ক্যানভাসে নুরসার হাসিটা থেকে যাবে।”
সে ক্যানভাসের মোড়ক খুলল। দেখা গেল বৃষ্টির দিনে ঠিক এই ক্যাফেতেই বসা এক বিষণ্ণ অথচ শান্ত নুরসার প্রতিকৃতি। নুরসা নিজের অজান্তেই ক্যানভাসে হাত রাখল। ঈশা বুঝতে পারল, যুক্তির চেয়েও বড় কিছু এই দুজনের মাঝে আছে, যা সে কোনোদিন বুঝতে পারেনি।
বাইরে বৃষ্টি থামেনি, কিন্তু ক্যাফের ভেতরে তিন বন্ধুর নিরবতা এক গভীর গল্পের জন্ম দিচ্ছিল। যে গল্পের শেষটা বিচ্ছেদে নয়, বরং চিরস্থায়ী এক স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধা।

Comment