মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর।

মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর।

অন্ধ গলির কিশোরেরা।

অন্ধ গলির কিশোরেরা, কারা তারা বলো?
কালো রাতের বুক চিরে কেন জ্বলে ছলো?
চোখে তাদের রাগের আগুন, ঠোঁটে কঠিন হাসি,
ভেতর ভাঙা কাঁচের মতো কাঁপে নীরব শ্বাসই।

জন্মেছিল কি হাতে নিয়ে অন্ধকারের ছাপ?
না কি ছিল রোদ্দুর ভরা ছোট্ট সোনার মাপ?
মায়ের কোলে ঘুম ভাঙা সেই শিশুটি একদিন,
কেন আজ সে ভয় হয়ে যায় শহরের প্রতিদিন?

ঘরে যখন ঝড় ওঠে আর ঝগড়ার শব্দ বাজে,
ভালোবাসা কমে গিয়ে দুঃখ নেমে আসে সাজে,
বাবা তখন রোজগারে আর মা ক্লান্ত ভারে,
কিশোরটি একা বসে থাকে অচেনা অন্ধকারে।

কেউ তার কথা শোনে না, কেউ বোঝে না মন,
অপমানের শব্দগুলো করে রক্তক্ষরণ।
স্কুলে শুনে— “হবে না কিছু”, “তুই তো শুধু ফেল”,
এই কথাগুলো বুকের মাঝে জমে ওঠে জ্বেল।

ঠিক তখনই ডাকে কেউ— “ভাই, আয় আমাদের সাথে”,
একটি শব্দ আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায় জীবনের পথে।
গ্যাং তখন পরিবার হয়, দেয় মিথ্যে মান,
ভুলকে শেখায় শক্তির রূপ, ভয়কে শেখায় প্রাণ।

অর্থহীন সেই সংসারে ক্ষুধা বড় কঠিন,
খালি পেটে নীতিকথা শোনায় কেমন ঋণ।
বন্ধুর হাতে দামি ফোন, নিজের হাতে শূন্য,
অসমতার আগুন তখন করে তাকে ধ্বংস।

তারপর আসে নেশার ছল, ধোঁয়ার মিথ্যে সুখ,
কষ্ট ভুলার নামে দেয় বিষের গোপন মুখ।
বন্ধুরা বলে— “একটু খা, সব দুঃখ যাবে দূরে”,
সে জানে না শিকল বাঁধে নেশা নীরব সুরে।

প্রথমে শুধু কৌতূহল, পরে হয় অভ্যাস,
অভ্যাস শেষে আসক্তি, নিঃশেষিত বিশ্বাস।
চোখের নিচে কালো দাগ, ম্লান হয়ে যায় প্রাণ,
স্বপ্নগুলো ঝরে পড়ে শুকনো পাতার টান।

কিন্তু শোনো, শেষ নয় পথ, শেষ নয় এই রাত,
অন্ধকারের বুকের ভিতর জন্ম নেয় প্রভাত।
একটি হাত যদি বাড়ে, একটি মন যদি শোনে,
নেশার বাঁধন ছিঁড়ে ফেলে ফিরতে পারে ক্ষণে।

বাবা যদি সময় দেন, বলেন— “ভয় করিস না”,
মা যদি বুকে টেনে নেয়— “তুই একা নোস রে না”,
শিক্ষক যদি দেখান পথ দক্ষতার আলো,
খেলার মাঠে ঘাম ঝরালে শক্তি হবে ভালো।

নেশা থেকে ফিরতে হলে প্রথম চাই স্বীকার—
“হ্যাঁ, আমি ভুল করেছি”— এই সাহসটাই দ্বার।
তারপর চাই চিকিৎসা আর সঠিক পরামর্শ,
ভালো বন্ধুর সঙ্গ চাই, বদলানোর হর্ষ।

ধোঁয়ার বদলে শ্বাস নিক সে মুক্ত আকাশভরা,
রাত জেগে নয়, ভোর দেখুক রোদ্দুরে সোনাঝরা।
দক্ষতা শেখ, কাজ খুঁজে নে, স্বপ্ন গড় নতুন,
নিজের জীবনের অধিকার তোরই হাতে গুণ।

সমাজ যদি তিরস্কার নয়, দেয় নতুন স্থান,
দ্বিতীয় সুযোগ পেলে জাগে সুপ্ত সম্ভাবন।
অপরাধী তকমা দিয়ে করো না তার ক্ষয়,
মানুষ ভেবে পাশে দাঁড়াও— তবেই বদল হয়।

অন্ধ গলির কিশোরেরা অন্ধকারের নয়,
আলোহীন সূর্য তারা অপেক্ষাতে রয়।
একদিন এই গলিতেই গাইবে শান্তির গান,
যদি আমরা হাত বাড়াই, জাগাই মানব প্রাণ।

চলো তবে শপথ করি, অবহেলা নয়,
নেশা নয়, হিংসা নয়— আলোর হোক জয়।
একটি কিশোর বাঁচলে বাঁচে একটি দেশ,
ভালোবাসার শক্তির কাছে হার মানে সর্বনাশ।

অন্ধ গলির কিশোরেরা ডাকছে আজ সবাই—
“দাও না একটু আলো, আমরা বদলাব ভাই।”
হাত রাখো হাতের উপর, ভাঙো অন্ধকার,
স্বপ্ন দিয়ে গড়ব আমরা শান্তির নতুন দ্বার।

Comment