Eery Atanu

Eery Atanu

শিরোনাম-জনপদ ও জাদুকর
কলমে- ইরি অতনু

​শহরের প্রাণকেন্দ্রে বিশাল এক মার্বেল পাথরের প্রাসাদ। সেখানে থাকেন রাজ্যের প্রধান শাসক, যাকে সবাই ‘মহামান্য’ বলে ডাকে। প্রাসাদের চারদিকে উঁচু দেয়াল, যেন বাইরের ধুলোবালি আর আর্তনাদ ভেতরে না পৌঁছায়।
​একবার রাজ্যে ভয়াবহ খরা দেখা দিল। মাঠের বুক ফেটে চৌচির, অন্নের অভাবে মানুষের হাহাকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠল। কিন্তু প্রাসাদের ভেতরে তখন উৎসবের আমেজ। মহামান্য বিশ্বাস করতেন, রাজকোষের ধনসম্পদ কেবল জৌলুস বাড়ানোর জন্য, প্রজাদের বিলিয়ে দেওয়ার জন্য নয়।
​একদিন এক বৃদ্ধ কৃষক প্রাসাদের সিংহদ্বারে এসে দাঁড়াল। পরনে তালি মারা কাপড়, চোখে জল। প্রহরীরা তাকে তাড়িয়ে দিতে চাইলে সে চিৎকার করে বলল, “আমি মহামান্যের কাছে কর দিতে এসেছি!”
​কৌতুহলবশত মহামান্য তাকে ভেতরে ডাকলেন। বৃদ্ধ তার ঝুলি থেকে বের করল এক মুঠো শুকনো মাটি আর একটি ভাঙা লাঙল। সে শান্ত গলায় বলল, “মহামান্য, রাষ্ট্র মানে কেবল এই দেয়াল আর রাজমুকুট নয়; রাষ্ট্র মানে আমরা। আপনার এই সিংহাসন আমাদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে। আজ যখন আমরা নিশ্বাস নিতে পারছি না, তখন আপনার বিলাসিতা আমাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।”
​মহামান্য রেগে গিয়ে বললেন, “আমি তোমাদের সুরক্ষা দেই!”
​বৃদ্ধ হাসল, “পেটে খিদে নিয়ে সুরক্ষা দিয়ে কী হবে? রাষ্ট্রের আসল শক্তি অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, বরং জনগণের প্রতিটি চোখের জল মোছার দায়বদ্ধতা। আপনি আমাদের সেবক হতে চেয়েছিলেন, শাসক নন।”
​সেই রাতে প্রথমবার মহামান্য জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের অন্ধকার জনপদটির দিকে তাকালেন। তিনি বুঝতে পারলেন, জনবিচ্ছিন্ন রাজদণ্ড আসলে একখণ্ড মূল্যহীন লাঠি মাত্র। পরদিন সকালেই রাজকোষের দরজা খুলে দেওয়া হলো—অহংকারের জন্য নয়, বরং দায়বদ্ধতা পালনের জন্য।

Comment