এক ডজন ছড়া
(তৃতীয় কিস্তি)
স্বপনকুমার পাহাড়ী
১
রঙ্গিনী
রঙ্গিনী লো, রঙ্গিনী,
কার জীবনের সঙ্গিনী?
ট্যাঁক ভারি যার, সঙ্গিনী তার
মন মজাতে ভঙ্গী নিই!
২
মিতা
মিতার বন্ধু পারমিতা।
পারমিতার বোন কারোমিতা।
এদের সখী বারোমিতা।।
৩
সওয়াল-জবাব
–নাম কী রে তোর?
–গাণ্ডু।
–থাকিস কোথা?
–মাণ্ডু।
–হাতে কী ফুল?
–ঝাণ্ডু।
–কী করবি তুই?
–Undo.
৪
মরুর দেশের
মরুর দেশের শুকনো মেয়েটি
শুকিয়ে যেনবা আমসি।
তবু এক মনে ব’সে একাসনে
প’ড়ে দেখছিল গ্রামশি।
শুখা রূপসীকে করতে রসালো
চারিভিতে কে যে ফোয়ারা বসালো
আচমকা শুনি চকাস-চকাস—
আঃ ছাড়োই না, ঘামসি!
৫
বেহালাবাসিনী
বেহালাবাসিনী ভারি সুহাসিনী বেহালাবাদিনী রায়,
বেহালাবাদনে ক্রমে হ’ল নাম বেহালানাদিনী রায়।
বেহালার নাদে সবাই নাকাল
ব্যতিক্রম যা পোষ্য পাঁকাল
সে নাকি আবার কোর্টের উকিল
কিছুই মাখে না গায়!
, ৬
দেড়খানা
এক মিনসের দেড়খানা বৌ
একখানা থাকে সঙ্গে।
আধখানা যেটা ওটা ভাড়া করা—
মাঝে মাঝে জোটে রঙ্গে!
পেয়ে গেলে কিছু টাকা
কিচ্ছুটি নেই ঢাকা—
সবই সহজেই মেলে ধরবে সে
বিচিত্র বিভঙ্গে!
৭
হাপু
কে তুমি বাপু, চেঁচাও হাপু
পিঠে লাঠির বাড়ি
মারছো অমন ফটাৎ-ফটাৎ
দুঃখু জানতে পারি?
৮
টাবা
নুন মাখিয়ে খাচ্ছি টোকো টাবা।
ওটা আবার নাকি টকের বাবা।
বয়েই গেছে ভারি
টকের কিছু ধারি?
দাও না আরো–পেলেই আরো খাবা!
৯
আসলে
সেকু আর নেকু
দুজনে চলেছে ওরা
মুখে ‘পেঁকু-পেঁকু’!
আরে আরে দুই কোথা–
আসলে তো এক,
ফুটোস্কোপ দিয়ে নয়
ভালো ক’রে দ্যাখ!
১০
তামাং
সিকিমবাসী তামাং
তাঁর ভারি পসন্দ হামাং।।
হামাং দিতে দিতে খাবেন
মুড়ি একটি ধামাং।
১১
চং ছা
ছিল এক চিনে ম্যান, খেতো খুব হং চা
বাংলায় এসে খোঁজে ভারতীয় বং চা
পেলে দার্জিলিং
অতঃ কিম্
দেশে ফিরলো না আর—থেকে গেল চং ছা!
১২
ভোঁদা
ফিলিমডামের ভোঁদা নায়ক
নাম ছিল তার ভোঁদা।
পর্দা জুড়ে চলতো তেনার
দারুণ নাচাকোঁদা!
এখন তিনি কোথায় আছেন
জানেন কি তা খোদা?
