বীরভূমের উত্তর দিকের আঞ্চলিক ভাষায় কবিতা:-
পরান খলবল সখি
আসমানটা গুমর্যে আছে, গুড়গুড়ানি ডাক,
তোর পানেতে চ্যেয়ে পরান, দিছে জোরে হাঁক।
কুন্ট বাগে জেছিস রে তুই, কোমর ঝালিয়ে বাঁকে?
তোর লাইগি খ্যাপা হয়ে, মোরা ফ্যালফ্যালিয়ে থাকে।
তোর চাউনি যেন জ্যান্ত কই, ছটফটায় বুকে,
লুন-লঙ্কা মেখে যেন, খ্যেবো পরম সুখে।
মুখখানি তোর ভাদর মাসের, পচা তালের মতন,
তাও তরেই লিয়ে মোদের, পোরান ভরা যতন।
ইট্টু খানি শুন রে ওরে, কতা আছে কানে,
তোর জন্যি মনটা কেন, ল্যাগড়াবেড়ী জানে?
মাঠের মাঝে হাল চালাই যে, গোরুটা দেয় লাথি,
মনে পড়ে তোর ঐ চাউনি, ঝগড়া করার সাথী।
বদ্যি হানে পুবের কোণে, ঝিলিক মারে চোখে,
তোর পোরানটা লিয়ে যাব, খুশির খ্যাপা সুখে।
গায়ের বরণ ডাঁসা পেয়ারা, ইট্টু নুন দিলে হয়,
তোর ঐ রূপের জাঁক দেখে ত, সবার লাগে ভয়।
হাঁটু সমান কাঁদা মেখে, চষার জীবন ভাই,
তোর মত আর লক্সী মেয়্যে, আর ত কুথাও নাই।
রাঙা মাটির এইটা পথে, ঘাম ঝর্যে চলি,
মনের কতা নিজের ভাষায়, তোরি কানে বলি।
Ziaur Rahaman Shilon

Comment
