শব্দের দীর্ঘ ছায়া
নদীর বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন বটগাছ,
শিকড় তার মাটির গভীরে, ডালপালা আকাশমুখী।
দিন ফুরোলে চারদিক ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে।
তার বিস্তৃত ছায়ার নীচে
দুটি কণ্ঠ ভেসে ওঠে হঠাৎ—
কার আগে, কার বেশি, কার অধিকার—
শব্দেরা শক্ত হয়ে যায় পাথরের মতো।
একটি বাক্য ছুঁড়ে দেয় অন্যটিকে,
প্রতিধ্বনি ফিরে আসে আরও ধারালো হয়ে।
বাতাস থমকে শোনে,
নদী সামান্য দুলে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
কথারা একসময় নিজেদেরই ওজন টের পায়,
তবু থামে না—
একই উচ্চারণ ঘুরে ফিরে ভারী হয়ে ওঠে।
বটগাছ নীরব—
তার ঝুরি নেমে আসে মাটির দিকে ধৈর্যের মতো।
অন্ধকার ঘনালে বোঝা যায়,
কেউ জেতেনি, কেউ হারেনি—
শুধু সন্ধ্যাটা আর আগের মতো রইল না।
রাত গভীর হলে সব শান্ত,
নদী বয়ে যায় নিজের সুরে;
ডালপালায় আবার স্থিরতা নামে।
কেবল বটগাছের গায়ে লেগে থাকে
অল্প কিছু কাঁপন—
যেন শব্দেরও দীর্ঘ ছায়া থাকে।

