এক ডজন ছড়া
(নবম কিস্তি)
স্বপন কুমার পাহাড়ী
১
অতি আধুনিকা
অতি আধুনিকা পিন্ধনে তাই
মিনির সঙ্গে কাঁচল,
শাড়ি নেই তাই দেখাও যায় না
বাহারি একটি আঁচল।
চোখে সানগ্লাস, পায়ে হাইহিল
ডেস্টিনেশান চাঁচোল?
২
বাবাজী
এক যে আছিল রক্তাম্বর মৌনানন্দ বাবাজী
লোকমুখে তার নাম হয়েছিল যৌনানন্দ বাবাজী।
একশ’ আটটি নারী
পিন্ধনে নেই শাড়ি
টিপ্পনি কেটে কেউবা বলতো, গৌণানন্দ হাবাজী।
৩
শিংজোড়া
শিংজোড়া যেই ঢুঁসিয়ে দিয়েছে
দাদা তো অজ্ঞান!
অথচ দাদা শিংজোড়ারই ফ্যান!
জ্ঞান ফেরাতে চুমা
যেই না দিলে হুমা
সঙ্গে আরও নজরানে হ্যান্-ত্যান–
ফ্যানের হাওয়া ছাড়াই এখন
হাস্যটা দ্যাখেন!
৪
ওড়াউড়ি
হোক না বয়েস, যান না খানিক মুটিয়ে!
এই দেখুন না–প্রেম করছেন চুটিয়ে!
কুড়ির সঙ্গে ষাট
মার মার কাট কাট
কে হে বাপু তুমি, আস্তিনখানা গুটিয়ে?
৫
ভাগাড়খানায়
ভাগাড়খানায় হাগার পরে
ঘিরলো যখন গোভূত
সামনে পেছনে তাকিয়ে দেখে
গুনতিতে ওরা দো ভূত।
কোঈ বাত নেহী, আচ্ছা,
ভূত না—ভূতের বাচ্ছা
চট ক’রে মুতে ছড়িয়ে দিতেই
বিলকুল ফাঁকা—নো ভূত!
৬
বাবলি
বাবলার বোন বাবলি
খাচ্ছে আলুকাবলি।
দেখেই কিনা হাঁ!
দেখার কী আছে গা?
বে’ করবি নাকি ভাবলি?
৭
গোতিয়ে
অহো ভাই, যতি হে!
তেওফিল গোতিয়ে
আদৌ পড়োনি তো?–
নিদারুণ ক্ষতি হে!
ফ্রান্সের কবিটি
কী দারুণ ছবিটি
এঁকেছে তখনকার
পড়ো, মহামতি হে!
৮
বড় মামা
বড় মামা লাল জামা যেই দিলে গায়
স্যাণ্ডো-গামারা হেসে গড়াগড়ি খায়।
অস্থি-চর্ম সার
তবু কি পরোয়া তাঁর
ফুঁ দিয়ে উড়োলে বল–আরে হায় হায়!
৯
পাঁকাল
পাঁকালমাছের কাঁকাল ঘিরে ঘাঘরা।
টপ তো রয়েছে, ছিচরণে ফের নাগরা।
চলেন অঙ্গ দুলিয়ে
দুঃখু-যাতনা ভুলিয়ে
সঙ্গী বাউন্সারটি আবার তাগড়া!
১০
লোকটা
লোকটা ছিল বেতো।
হাসতো হাসি দেঁতো।
রোজ দু’বেলাই
অবশ্য চাই
যাহোক একটা তেতো!
এদিকে আবার ভেতো
বাঙালি ব’লেই সম্ভবত
ভুতেও ভয় পেতো।
শুধু ভয় নয়—
ভুতের নামেই
সটান ভিরমি খেতো!
১১
বুবাই
বাবলুর ভাই বুবাই।
ইস্তক যায় দুবাই,
কবিতা পড়তে ইচ্ছে করলে
পড়তে লাগে রুবাই।
১২
আ যা রে
দাদু নাতি– পিঁপড়ে হাতি
গপ্পো করে মাজারে।
শ্যাওড়া গাছে ভুতটা তাদের
দেখেই বললে, আ যা রে!
