জয়িতা, জাগো অকালবোধন
আকাশের গায়ে আজ এক আকাশী নীল অঙ্গীকার,
অথচ চারিপাশে এখনো নিকষ কালো অন্ধকারের দাপাদাপি।
অলিগলি আর রাজপথে ছড়িয়ে আছে বিশৃঙ্খলার বিষাক্ত নিশ্বাস,
যেখানে শৈশব থমকে দাঁড়ায় লোলুপ দৃষ্টির অতর্কিত থাবায়।
সেই একরত্তি মেয়েটি, যার হাতে থাকার কথা ছিল রূপকথার বই,
তার নিস্পাপ দুচোখে আজ কেন অকাল শরতের মেঘ?
লজ্জা আজ সমাজের, যারা রক্ষা করতে পারেনি কুঁড়িদের ঘ্রাণ,
যারা নতমস্তক হয়ে দেখেছে মানবতার এই চরম শ্রীলতাহানি।
কিন্তু মনে রেখো, মাটির নিচে লুকোনো থাকে আগ্নেয়গিরির বীজ,
নারী মানে শুধু সহনশীলতা নয়, নারী মানে রুখে দাঁড়ানো স্পর্ধাও।
আজকের এই দিনটি নিছক কোনো ক্যালেন্ডারের উৎসব নয়,
এ হলো শিকল ভাঙার গান, অশুভকে বিনাশ করার এক মহতী শপথ।
নারীর মর্যাদা কোনো দয়ার দান নয়, এ তো তার আজন্ম অধিকার,
প্রতিটি ঘরে ঘরে গড়ে উঠুক এক একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ।
সেই সব নেকড়েদের থাবা গুঁড়িয়ে দিতে আসুক চন্ডীর তেজ,
যাতে আর কোনো শৈশবকে অকালে ঝরে যেতে না হয়।
উত্থিত হোক সেই হাত, যা একইসাথে মমতা আর বজ্র ধরে থাকে,
সমাজে আসুক এক শুদ্ধ জোয়ার, যেখানে নারী মানেই সম্মান।
কুয়াশা চিরে বেরিয়ে আসুক আগামীর সেই তেজস্বিনী জয়িতা,
নারী শক্তির জয় হোক, জয় হোক এক মানবিক আগামীর।

