Nadia Rifat Ritu

Nadia Rifat Ritu

শিশির কণা
নাদিয়া রিপাত রিতু
পর্ব -৮

রাতে রেহেনাকে কল দেয় সাকিব,,,,,,
রেহেনা: কেমন আছিস??

সাকিব:মা ভালো আছি,,,,, তুমি কেমন আছো??

রেহেনা: তেমন ভালো না তোর ভাবি তো চলে গেছে , শুনেছিস আজ আমরা ওদের ওখানে গেছিলাম
সাকিব: হ্যাঁ সাদিয়া বললো সবটা,,,,,সাদিয়াকে একা রেখে গেছো,,,কেন?
রেহেনা: তোর বউ কি কচি খুকি,,,,?যে একা থাকতে পারবেনা,,,,
সাকিব: ও তো নতুন ওকে এরপর থেকে  একা রেখে যাবেনা,,,,
রেহেনা: বিয়ে হতে না হতে আমার নামে কান ভাঙ্গানো শুরু করে দিছে তাইনা,,,,,তুই এমন একটা মেয়ে বিয়ে করে এনেছিস কোনো কাজ পারেনা,,,,,

সাকিব: মা ওর বিয়ে হলো মাত্র কিছুদিন হলো আস্তে আস্তে শিখে নিবে,,,,, আচ্ছা মা ওকে কিছু টাকা দিও তো,,,,,

রেহেনা: তোর বউ কে বলে দিবি সব কাজ করার জন্য ,,,, সকালে তাড়াতাড়ি উঠার জন্য আর আমি কিছু বললে যেন মুখে মুখে তর্ক না করে ,,,এটা বলে দিবি,,,,,
আর টাকা কেন‌ কিছু লাগলে আমাকে বলতে বল,,,,, তুই কয়দিন আগে যাওয়ার সময় এতগুলো শপিং করে দিলি।

সাকিব: মা ওর অনলাইন কিছু প্রডাক্ট লাগবে,,,,, স্ক্রিন কেয়ারের জন্য ।আর ও বউ মানুষ ওর নিজস্ব কত কিছু লাগবে সব কিছু তো তোমাকে বলতে পারবেনা।

রেহেনা: এসব স্ক্রিন কেয়ার করতে হবেনা তোর বউকে বল মন দিয়ে ঘর সামলাতে,,,, আমাদের বাড়ির বউরা বাজে খরচ করেনা,,,,যা লাগবে আমাকে বলতে বলবি আমি এনে দেবো।

সাকিব: আমার পরিশ্রমের টাকা আমার বউকে আমি দিতে বলছি তোমার সমস্যা কোথায় হচ্ছে,,,আমি প্রবাসে আছি তো তোমাদের সবার জন্য ।
ওর ছোট ছোট আবদার আমি পূরণ করতে না পারলে কে করবে।আমি  বিয়ে করেছি ওর সব দায়িত্ব আমার তাইনা।

রেহেনা: এখনো ছয়মাস হয়নি বিয়ে হয়েছে তুই বউয়ের হয়ে কথা  বলছিস ,,,আমার থেকে বেশি বুঝিস।

ঐদিকে সাদিয়া দূর থেকে সবটা শুনে নেই,,,,,,,অনেক রেগে যায় রেগে ঘরে জিনিসপত্র ভেঙ্গে পেলে।
শব্দ শুনে রেহেনা চলে আসে,,,

রেহেনা:একি তুমি কাঁচের গ্লাসটা এভাবে ভেঙ্গে ফেললে কেন  আমাদের বাড়ির জিনিস যে এভাবে ভাঙ্গছো তোমার বাবা কি কিনে দিবে?

সাদিয়া: কথায় কথায় আমার বাবাকে নিয়ে আসেন কেন??
আমার বাবা কেন দিবে মা আমার স্বামী দিবে।

রেহেনা: তোমার মুখ বেশি চলছে,,,
বেশি উড়ো না শিশিরের মতো পাখা ভেঙ্গে পরবে।
এটা বলে চলে গেলো রেহেনা

সাদিয়াকে সাকিব কল দিচ্ছে বারবার ও ধরছেনা রাগ করে।,,,, কান্না করছে,,,,,

ঐদিকে রায়ান কথা বলছে লিমার সাথে শিশির আয়ানের কথা মনে ও নেই।

অন্যদিকে শিশিরের রাত কাটছে নির্ঘুম।একটা সংসার ভাঙ্গার কি যন্ত্রণা একটা মেয়ে ছাড়া কেউ বুঝেনা। শিশিরের তো সব ছিলো স্বামী সন্তান একটা সাজানো সংসার।কোন শকুনের নজর লেগে সবটা শেষ হয়ে গেলো।সে চাইলে ও কি আর কিছু ফিরবে আগের মত  সব সাগরের  মাঝে তলিয়ে গেছে। আয়ানকে বুকে আঁকড়ে শিশিরের জীবন
আয়ান‌ যেন শিশিরের কণা।

পরের দিন সাদিয়া ঘুম থেকে উঠলো নাস্তা বানানোর জন্য,,,,,রুটি বানাতে নিবে রেহেনা আসলো,,,,

রেহেনা: আজ খুব তাড়াতাড়ি উঠেছো বেশ ভালো তো,,,,, আচ্ছা নাস্তা রেডি করে সবাইকে দিয়ে দাও।

সাদিয়া রুটি বানাতে জানে না,,,,রুটি তো গোল হচ্ছে না,,,,
রেহেনা: একি তুমি রুটি ও বানাতে জানো না,,,,,,বাবার বাড়িতে কি করেছো?

সাদিয়া: মা আমার বাবার বাড়ি কোনো ট্রেনিং সেন্টার না ,,,

রেহেনা: আবার মুখে মুখে তর্ক করছো তোমার বাবা মাকে বিচার দিবো।

সাদিয়া: দিন এটা ছাড়া তো কিছু জানেন না।
এরপর সাদিয়া চলে গেলো।

রেহেনা সব কাজ চিল্লাতে চিল্লাতে করতে লাগলো,,,,
রায়ান মায়ের কথা শুনে চলে এলো,,,,

রায়ান: মা কি হয়েছে তোমার? এখন তো শিশির নেই কাকে কথা শুনাচ্ছো ??

রেহেনা: আর কাকে মেজ বউমাকে কোনো কাজ পারেনা জানিস,,,,সব কাজ আমার করতে হয় আমার মুখের উপর তর্ক করে।

রায়ান: মা তোমার জন্য একটা কাজের মেয়ে রাখবো তবু ও এইভাবে চিল্লাচিল্লি করোনা মানুষ কি বলবে। আমার তো সামর্থ্য আছে তোমার জন্য দশটা কাজের মেয়ে রাখার।

রেহেনা: তোর মনে হচ্ছে আমি চিল্লাচিল্লি করছি,,,,আরে ঘরে বউ থাকতে কাজের মেয়ে কেন রাখবো,,,বউকে কি বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো । শুধু শুধু বাজে খরচ করিস না,,,

রায়ান : মা তুমি যা বুঝো করো আমি যাচ্ছি।

(প্রিয় পাঠক পর্বটি কেমন হয়েছে বলুন রেহেনার সাথে সাদিয়া ঠিক আচরণ করছে আপনাদের মতামত কি)

Comment