Nadia Rifat Ritu

Nadia Rifat Ritu

শিশির কণা
নাদিয়া রিপাত রিতু
পর্ব – ১০

রায়ান কল কাটার পর শিশির ভাবনার সাগরে ডুব দিয়ে থাকে,,, শিশিরের মা হঠাৎ রুমে এলো,,,,,,,,,

শায়লা: আমি বাইরে যাচ্ছি,,,,,তোর কি হয়েছে আজ এত দেরি হয়ে,,,,কি ভাবছিস এত,,,,,,,,,

শিশির: মা আসলে কাল রাতে দুচোখের পাতা এক  করতে পারিনি,,,,,, তাই সকাল দেরি হয়ে গেল,,,,,আর রায়ান কল দিয়েছিলো,,,,,,

শায়লা: ঘুম কি করে হবে চিন্তা করলে,,,,এত চিন্তা করিস না,,,, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করে,,,,,, রায়ান কল কেন দিয়েছে??

শিশির : মা পরশুদিন কোর্টে যেতে হবে আমাদের ডিভোর্সের জন্য,,,,,,,

শায়লা: এত তাড়াতাড়ি সব,,,, কিভাবে হলো,,,,

শিশির: রায়ান টাকা দিয়ে যা ইচ্ছা করতে পারে ওর তো অনেক টাকা,,,,,আমার আর কিছু করার নেই মা,,,,
মাকে জড়িয়ে ধরে শিশির কান্না করতে করতে বললো,,,,,,মা আমার সংসারটা আমি রক্ষা করতে পারলাম না,,,,,,,আমার আয়ানের কি হবে বলো,,,,আমি কি জবাব দিবো,,,,

শায়লা: আমার তোর চেয়ে বেশি বাচ্চাটার চিন্তা,,,,,, ওর কি হবে,,,,,

আয়ান ঘুম থেকে উঠে গেলো,,,,,
আয়ান:কি হলো মাম্মা কাঁদছো কেন,,,,,

শিশির: চোখে ধুলো পড়েছে  ,,,,

শায়লা: আমি যাচ্ছি তাহলে,,,, আয়ান তুমি কি খাবে,,,বলো নানু মণি তোমার জন্য নিয়ে আসবো

আয়ান: আমার জন্য আইসক্রিম,,চকলেট,,,আনবে

শিশির: একদম না,,,,,,, কালকে খেয়ে তোমার ঠান্ডা লেগে গেছে,,,,,
আয়ান: মাম্মা তুমি একদম ভালো না,,, আমাকে আইসক্রিম,,,,, চকলেট কিচ্ছু খেতে দাও না,,,,,,আমি পাপ্পার কাছে চলে যাবো,,,,,,,

শিশিরের চোখে পানি চলে এলো,,,
আয়ান মাকে জড়িয়ে ধরে

আয়ান: মাম্মা সরি ,,,,আমি আর বলবো না,,,,,তোমাকে ছেড়ে যাবো না মাম্মা,,,,, কিন্তু পাপ্পা দাদু মণি ওদের কাছে কখন যাবো তুমি আর আমি,,,,,,

শায়লা: নানু মণি তোমাকে কম ভালোবাসি  ,,,,,

আয়ান: না মোটে ও না তুমি তো আমাকে বেশি ভালোবাসো,,,,

শায়লা: আমি বের আয়ানকে দেখে রাখিস,,,,

শিশির: আচ্ছা যাও মা,,,,,

অন্যদিকে,,,,,, সাদিয়া আছে অনেক চিন্তায়,,,,শিশির যাওয়ার পর থেকে চাপ বেড়ে গেছে,,,,,,,,কি করবে বুঝতে পারছে,,,,না,,,,,কাল থেকে ,,,সব রান্না ওর করতে হবে,,,,,
আর রায়ান বারান্দায় বসে কি যেন ভাবছে,,,,তখন রুবি ঘরে ঢুকছে,,,,,,,
রুবি: কিরে তুই একা একা কি ভাবছিস আর মা কোথায়,,,,,,,?
রায়ান: মা বোধহয় রান্না শেষ করে গোসল করতে গেছে,,,,,তুই এই সময় হঠাৎ,,,,,,

রুবি: আমি স্কুলে নিয়ে গেছিলাম  আনানকে ওখান থেকে আসলাম,,,,,,মা রান্না করছে মানে,,,,,ঘরে একটা বউ থাকতে মা কেন রান্না করছে,,,,,ঐ মহারানির কি হয়েছে ,,,

রায়ান: একটু আস্তে কথা বল মানুষ কি মনে করবে শিশির যাওয়ার পর নানান জনে নানান কথা বলছে,,,,,,
মাকে বলেছি মার সমস্যা হলে কাজের মেয়ে,,,রাখবো,,,,
রুবি: কাজের মেয়ে কেন রাখতে যাবো,,,,,সাদিয়া আছে কি করতে,,,,
রায়ান: আমি ঝামেলা চাইনা,,,,,,আমার ডিভোর্স টা আগে ভালোই ভালোই হয়ে যাক,,,,,,

রুবি : আচ্ছা আমি কোনো ঝামেলা করছি না,,,,
ঐ মেয়েকে কিছুনা বললেতো হচ্ছে না,,,,,

রায়ান: কয়দিন পর বলিস,,,,,,

রুবি: তুই যা বলিস,,,,আমি ভাবছি আজকে মার সাথে দেখা করে চলে যাবো পরশুদিন এখানে এসে কয়দিন,,থেকে যাবো,,,মার ও ভালো লাগবে,,,,,
রেহেনা আসলো,,,,,,,,,
রেহেনা: রুবি তুই এসেছিস,,,,,,
রুবি: হ্যাঁ মা,,,
রেহেনা: এসেছিস যখন খেয়ে যাবি,,,,,আজকে আমি চিংড়ি মাছ,মুরগির মাংস, তোর পছন্দের কচু শাক করছি,,,,,
রুবি: মা আচ্ছা  তুমি যখন বলছো আমি খেয়ে যাবো,,,,,,আমি সকাল সকাল রান্না করেছি তোমাদের জামাই আর শাওন ওখান থেকে খেয়ে নিবে,,,,,
রেহেনা: শাওনকে আনিসনি কেন,,,,এখান থেকে স্কুলে যেতে পারে,,,,

রুবি: কয়দিন পর এসে থেকে যাবো,,,,,কাছে হলে ও আমিতো সব সময় আসি তোমাকে দেখতে মা,,,তোমাদের জামাইয়ের খাবার নিয়ে সমস্যা ও তো রায়ান থাকলে এখানে খেতে আসতে লজ্জা পাই,,,,,,

রেহেনা: আমি মেজ বউমা কে ডাকছি,,,,,, খাবার দেওয়ার জন্য,,,,
সাদিয়া: সবাইকে খাবার দিয়ে নিজে বসে যাচ্ছিলো,,,,,
রুবি: তুমি পরে বসো,,,,এখন তো শিশির নেই কিছু লাগলে কে এনে দিবে,,,,
সাদিয়ার খুব খিদে লেগেছে,,,, কিন্তু এরপরও সে নিরুপায়,,,,,
সবাই খাচ্ছে আর ও দাঁড়িয়ে দেখছে,,,,,, সবাই খাওয়ার পর রুবি বললো আমি যাচ্ছি মা,,,,,,

রেহেনা: আচ্ছা ধর এখানে কিছু চিংড়ি, মাংস , কচুশাক আছে জামাইকে দিস,,,,,ও তো আসবেনা খেতে,,,,,,
রুবি: মা তোমরা খাবে না,,,,
রেহেনা: রাতে কিছু একটা রান্না করে নিবো,,,,,,
রুবি খুশি মনে চলে গেলো,,,,
রুবি যাওয়ার পর সাদিয়া খেতে বসলো
রেহেনা বললো  খাওয়ার পর সব বাসন মেজে দিও,,,এরপর রেহেনা চলে গেলো,,,,

,,,একি,,,,ভাত বেশি নেই,,,,চিংড়ি মাছ পাতিল খালি মুরগীর হার আছে শুধু ,,,,,,কচুশাক ও শেষ,,,এখন কি দিয়ে ভাত খাবে , সাদিয়া,,ডিম একটা নিয়ে ভাজি করেছে,,,,ডিম ভাজির ঘ্রাণ পেয়ে রেহেনা এসে গেলো,,,,,,,

রেহেনা: একি বউমা,,,,তুমি ডিম ভাজি করছো কেন,,,,
সাদিয়া: মা আসলে  খাবার সব কিছু শেষ তাই,,,,,
রেহেনা: তুমি কি রান্না করেছো যে তোমায় ভালো খাবার দিতে হবে,,,,, ফ্রিজে পটলের তরকারি আছে,,,ঐ গুলো,,,,,গরম করে খেয়ে নাও,,,,,

সাদিয়া: ঐ গুলো অনেক দিন আগের বাসি খাবার ,,,,,
রেহেনা: তো কি হয়েছে ঐ গুলো কি আমি ফেলে দিবো নাকি,,, বাড়ির বউদের ঐ রকম বাসি খাবার খেতে হয় ,,,,, আমরা তো খেয়েছি অনেক,,,,
এই বলে রেহেনা চলে গেলো

সাদিয়া পেটের ক্ষুধায় খেয়ে নিলো আর ভাবতে লাগলো,,,,, শিশির ভাবির সাথে ও হয়তো দিনের পর দিন এসব হয়েছে,,,,,,আমার সাথে এসব অন্যায় আমি কোনো ভাবে মেনে নেবো না,,,,,,,

(এই পর্বটা কেমন হয়েছে বলেন সাদিয়া কি পারবে এদের সাথে ঠিকতে শিশিরের মতো সাদিয়ার পরিণতি এক হবে,,,,,
আর শিশিরের ডিভোর্সটাকি কোর্ট কার্যকর হবে জানতে হলে শিশির কণা পড়তে হবে)

Comment