শিশির কণা
নাদিয়া রিপাত রিতু
পর্ব -১১
সাদিয়া কল দিলো সাকিবকে,
সাকিব: কি হয়েছে কেমন আছো আমার কিউট বউটা??
সাদিয়া: ভালো নেই একদম,,,,কি রকম একটা ঘরে বিয়ে হয়েছে,,,,,আপনি তো বিদেশে মজা নিয়ে বসে আছেন,,,,
সাকিব: কি হয়েছে বলো আমাকে ??
সাদিয়া সব গুলো খুলে বললো সাকিবকে,,
সাকিব: আমি মাসে মাসে টাকা দিচ্ছি ,,,,আমার বউকে ভালো মন্দ এটা কেমন কথা,,,,
সাদিয়া: শিশির ভাবির সাথে দিনের পর দিন এই অন্যায় গুলো হয়েছে,,,,আমার তো মনে হয় আপনার বোন আর মা মিলে কিছু করেছে,,,,,,
আপনি রায়ান ভাইয়ার মত হবেন না তো,,,,,,
সাকিব: আমার এসব ঝামেলা ভালো লাগেনা,,,,,,আমি তোমাকে হারাতে পারবোনা এটাই আমার শেষ কথা,,,,,আর একবার এসব কথা মুখে আনবে না।
সাদিয়া: আর একবার যদি এমন করে আমি একটা কিছু করে পেলবো,,,,,
সাকিব: এমন বলেনা পাগলী বউ আমার,,,,আমি তোমার পাশে আছি তো,,,,,
সাদিয়া: I Love You
সাকিব: I Love You Too…..এখন রাখি একটু কাজ আছে রাতে কল দিবো,,,,আজকে কিন্তু শাড়ি পরবে।
সাদিয়া: আচ্ছা দেখি।
এরপর সাকিব কল কেটে দেয় সাদিয়া ঘুমিয়ে পরে,,,,,
ঐ রাতে সাকিব মাকে কল দিয়ে বলে মার সাথে একটু হালকা কথা কাটাকাটি হয়,,,,
সাদিয়ার সাথে সাকিবের সুন্দরভাবে কথা বার্তা হয়,,,,
ঐ রাত টা সবার পার হয়ে যায়,,, সকালে রেহেনা সাদিয়াকে অনেক কথা শুনায়,,, সাদিয়া কিছু বলেনা,,,,ঐ রাতটা সবার জন্য বেশি চিন্তার,,,
কারো ঘুম হচ্ছে না পরের দিন কোর্টে কি হবে সেটা নিয়ে। অন্যদিকে সাদিয়া রাগ করে কথা বলছে না সাকিবের সাথে রেহেনা বকেছে বলে।
শিশিরের সেই কখন ঘুম হয়েছে মনে নেই । যেদিন রায়ানের সাথে ঝামেলা হলো সেদিন থেকে শিশির চোখের ঘুম চলে গেলো। চোখের নিচে কালি পরে গেছে মেয়েটার,,,,,,
সকালে আয়ানকে মার কাছে রেখে বাবার সাথে কোর্টে গেলো,,,,,মা সহ গেলে আয়ানকে দেখবে কে,,,,,ঐ জায়গায় যে আয়ানকে নেওয়া যাবে না।
আয়ান যদিও অনেক কান্না করেছে,,,,,
অন্যদিকে সাদিয়া যেতে চাইলে ও সাদিয়াকে নেওয়া হলোনা।
কোর্টে সবাই উপস্থিত হলো ,,, শিশির একটা নীল রঙের শাড়ি,,,, অনেক সুন্দর লাগছে ওকে,,,,
বিচারক বললো ডিভোর্সের মামলার বিচার করতে আমার নিজের খারাপ লাগে।একটা সাজানো সংসার ভাঙ্গা অনেক কষ্টের,,,,
যেহেতু আপনারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমি বা কি করতে আপনারা নিশ্চয়ই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাচ্চা কয়টা আপনাদের,,,,
রায়ানের পক্ষের উকিল জবাব দিলো একটা,,, বাচ্চাকে আমার ক্লাইন্ট রায়ান সাহেব দায়িত্ব, নিবে।
বিচারক: বাচ্চা যেহেতু আছে আপনাদের আরেকটু ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার ছিলো,,, বাচ্চাটার ভবিষ্যত কি হবে।আমি মিসেস শিশির সাথে কথা বলতে চাই,,,,,,
শিশিরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলো।
বিচারক: আপনি তো দেখতে শুনতে তো বেশ,, আপনি কেন ডিভোর্স চান আপনার স্বামীর কাছে,,,, আপনাকে অত্যাচার করে,,,,,
শিশির : আমি তো ডিভোর্স চাইনা আমি তো সংসার করতে চাই,,,,,,আমার স্বামী আমাকে ডিভোর্স দিচ্ছেন।
বিচারক: আপনার স্বামী আপনাকে ডিভোর্স দিলে বিয়ের কাবিন সব দিতে হবে,,,, আপনার বাচ্চার যাবতীয় খরচ দিতে হবে।
শিশির: আমার কিছু লাগবেনা বাচ্চা আমার সাথে থাকলে হবে।
বিচারক: রায়ান সাহেবকে,,,,ডাকুন কথা বলতে চাই,,,,
রায়ান: আমাদের ডিভোর্স পেপার অলরেডি সাইন হয়ে গেছে,,,,, শিশির সাইন করেছে,,,এখন নাটক করছে বুঝতে পারছেন,না ,,,ও যদি নিজে থেকে ডিভোর্স দেয় তাহলে তো কাবিনের টাকাটা পাবে না তাই এত নাটক করছে।
বিচারক: কি বলেন ডিভোর্স পেপার সাইন করা হয়ে গেছে তাই নাকি শিশির আপনি সাইন করেছেন,,, আপনি তো ডিভোর্স চান না তাইনা।
শিশির: আমি না জেনে সাইন করেছি আমি জানতাম না ওটা ডিভোর্স পেপার,,,,,
বিচারক: আপনাকে দেখে তো বেশ শিক্ষিত মনে হয় আপনি না জেনে সাইন করেছেন এটা বিশ্বাস করা যায়,,,,,,,নাকি রায়ান যা বলছে তা সত্য আপনি কাবিনের টাকা পাওয়ার জন্য,,,,,এসব অস্বীকার করছেন??
(পর্বটা কেমন হয়েছে বলুন বিচারক সিদ্ধান্ত কি নিবে বলে মনে হয় )

