অণুগল্প:- মা, চাল বিক্রি করো না
“আজও কাজ হলো না…”
সাজুলের গলায় ক্লান্তি নয়, যেন হাল ছেড়ে দেওয়া একটা শব্দ।
নিমিজা চুপ করে রইল কিছুক্ষণ। তারপর বলল,
“কাল থেকে চুলায় ভাত উঠবে তো?”
“জানি না,” সাজুল মাটির দিকে তাকিয়ে বলল, “যেখানে কাজই নেই…”
বাইরে হালকা মাইক বেজে উঠছে—উৎসব আসছে।
ঘরের ভেতর নীরবতা।
নিমিজা আবার বলল,
“শোনো… পাঁচ কাঠা জমির ধান থেকে যে কুড়ি কেজি চালটা আছে… ওটা বিক্রি করে কিছু কিনে নিয়ে আসো। জুমিজের একটা প্যান্ট-শার্ট…”
সাজুল মাথা তুলে তাকাল,
“চাল বিক্রি করব? তাহলে খাব কি?”
“না খেয়ে তো আর থাকা যায় না… কিন্তু ছেলেটার মুখের দিকেও তো তাকাতে হয়,” নিমিজার গলা কেঁপে উঠল।
পাশের ঘরে জুমিজ চুপ করে বসে ছিল। বই খুলে রেখেছে, কিন্তু চোখ শব্দে নয়—কথায়।
হঠাৎ সে দরজায় এসে দাঁড়াল।
“মা…”
দু’জনেই চমকে উঠল।
“মা, চাল বিক্রি করো না।”
সাজুল একটু রাগ মেশানো গলায় বলল,
“তুই বুঝিস না এসব। তোকে একটা জামা দেব বলেই তো…”
জুমিজ ধীরে বলল,
“জামা পরে কি হবে, যদি তোমরা না খেয়ে থাকো?”
নিমিজা চুপ।
জুমিজ আবার বলল,
“আজ স্কুলে স্যার বলছিল—অভাব লুকিয়ে রাখা যায় না… আমি বুঝি মা।”
সাজুলের গলা ভারী হয়ে গেল,
“তাহলে কি করব বল?”
কেউ উত্তর দিল না।
দূরে আবার মাইকের আওয়াজ—“উৎসবের বিশেষ ছাড়…”
নিমিজা ধীরে বসে পড়ল মাটিতে,
“চালটা থাক… না থাক… কোনটা রাখব বলো?”
জুমিজ মায়ের পাশে বসে শুধু বলল,
“মা… আমরা কি একটু কম খেয়ে থাকতে পারি?”
সাজুল বাইরে তাকিয়ে রইল—অন্ধকার নামছে।
তার মাথায় শুধু একটা প্রশ্ন ঘুরছে—
আগামীকাল ভোরে সে কি কাজ পাবে…
নাকি সত্যিই সেই চালের বস্তার দিকে হাত বাড়াতে হবে?

