Behaviorism – John B. Watson (1924) , Established behaviorism as a major school
আচরণবাদ: জন বি. ওয়াটসন এবং ১৯২৪ সালের বিপ্লব – মানুষের আচরণ কীভাবে গঠিত হয়?
মানুষের আচরণ নিয়ে ভাবতে গেলে মনে কী আসে? কেন একজন শিশু অন্ধকার ঘরে ভয় পায়, আরেকজন সাহস করে এগিয়ে যায়? কেন কেউ সহজে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলে, কেউ বারবার একই ভুল করে? এই প্রশ্নগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে কৌতূহলী করে রেখেছে। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুতে একজন সাহসী আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী এসে বললেন – এসব প্রশ্নের উত্তর মনের গভীরে খুঁজতে হবে না। শুধু যা দেখা যায়, যা পরিমাপ করা যায়, তা নিয়েই কাজ করলেই চলবে। তাঁর নাম জন ব্রডাস ওয়াটসন।
১৯১৩ সালে তিনি একটি প্রবন্ধ লেখেন যা ‘আচরণবাদী ম্যানিফেস্টো’ নামে পরিচিত। কিন্তু আসল জনপ্রিয়তা আসে ১৯২৪ সালে, যখন তাঁর বই Behaviourism প্রকাশিত হয়। এই বইটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য লেখা ১২টি সহজ লেকচারের সংকলন। এটি আচরণবাদকে (Behaviourism) মনোবিজ্ঞানের একটি প্রধান স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ওয়াটসন দেখালেন যে মানুষের সব আচরণ – ভয়, ভালোবাসা, অভ্যাস, এমনকি চিন্তাভাবনাও – পরিবেশ দ্বারা শেখা যায়।
এই প্রবন্ধে আমরা জানব ওয়াটসনের জীবনকথা, তাঁর বিপ্লবী ধারণা, বিখ্যাত ‘লিটল অ্যালবার্ট’ পরীক্ষা, ১৯২৪ সালের বইয়ের মূল বক্তব্য এবং কীভাবে তাঁর কাজ আজও আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। পড়তে পড়তে আপনার মনে জাগবে কৌতূহল – আপনার নিজের ভয় বা অভ্যাস কি সত্যিই শেখা? চলুন, এই আকর্ষণীয় যাত্রা শুরু করি।
মনোবিজ্ঞানের পুরোনো দুনিয়া: কেন ওয়াটসন বিদ্রোহ করলেন?
ওয়াটসনের আগে মনোবিজ্ঞান ছিল অনেকটা রহস্যময়। ১৮৭৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেলম ভুন্ডট প্রথম মনোবিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি খোলেন। তাঁর পদ্ধতি ছিল ইন্ট্রোস্পেকশন – নিজের মনের ভিতর তাকিয়ে দেখা যে কী ভাবছি। কিন্তু এটা খুবই ব্যক্তিগত। একজনের ‘লাল’ রঙের অনুভূতি আরেকজনের থেকে আলাদা হতে পারে। বিজ্ঞান তো এমন হতে পারে না যা পরীক্ষা করে দেখা যায় না।
আমেরিকায় উইলিয়াম জেমস ফাংশনালিজম আনেন। তিনি বলতেন, মন কী করে কাজ করে তা দেখতে হবে। কিন্তু এখনও মনের অভ্যন্তরীণ দিক নিয়ে কাজ।
সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল সিগমুন্ড ফ্রয়েডের সাইকোঅ্যানালাইসিস। ফ্রয়েড বলতেন, আমাদের অবচেতন মনে লুকিয়ে আছে শৈশবের ট্রমা, যৌন আকাঙ্ক্ষা। স্বপ্ন বিশ্লেষণ করে সেগুলো বের করতে হবে। এটা অনেকের কাছে আকর্ষণীয় লাগল, কিন্তু পরীক্ষাগারে প্রমাণ করা যায় না।
ওয়াটসন এসব দেখে বললেন – এসব অবৈজ্ঞানিক! মনোবিজ্ঞানকে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো হতে হবে – পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নের মতো। শুধু যা দেখা যায়, পরিমাপ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করব। এটাই ছিল তাঁর বিদ্রোহ।
জন বি. ওয়াটসনের জীবন: দরিদ্র ছেলে থেকে বিপ্লবী
জন ব্রডাস ওয়াটসন জন্মগ্রহণ করেন ৯ জানুয়ারি ১৮৭৮ সালে, সাউথ ক্যারোলিনার এক ছোট শহরে। পরিবার দরিদ্র। বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে যান। মা খুব কঠোর, ধর্মপ্রাণ। ছোটবেলায় ওয়াটসন খুব দুষ্টু ছিলেন – একবার স্কুলের জানালা ভেঙে ফেলেছিলেন।
তিনি ফার্মান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। তারপর শিকাগো ইউনিভার্সিটিতে যান। ১৯০৩ সালে পিএইচডি করেন ইঁদুরের মস্তিষ্ক এবং আচরণ নিয়ে। এখানেই তিনি প্রাণীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারেন যে আচরণ পরিমাপ করা যায়।
১৯০৮ সালে তিনি জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক হন এবং সেখানেই আচরণবাদের ভিত্তি গড়েন। ১৯১৩ সালে তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ১৯২০ সালে একটি বড় স্ক্যান্ডাল ঘটে – সহকর্মী রোজালি রেনারের সাথে সম্পর্কের কারণে তিনি চাকরি হারান। ১৯২১ সালে তিনি রেনারকে বিয়ে করেন। পরে তিনি বিজ্ঞাপন জগতে যান এবং সেখানেও সফল হন – তিনিই ‘কফি ব্রেক’ জনপ্রিয় করেছিলেন।
১৯২৪ সালে তাঁর বই Behaviorism বের হয়। এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় কাজ।
১৯১৩: আচরণবাদের ঘোষণাপত্র
ওয়াটসন লিখেছিলেন:
“মনোবিজ্ঞান আচরণবাদীর দৃষ্টিতে হলো একটি বিশুদ্ধ বস্তুনিষ্ঠ পরীক্ষামূলক প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। এর তাত্ত্বিক লক্ষ্য হলো আচরণের ভবিষ্যদ্বাণী এবং নিয়ন্ত্রণ।”
তিনি বললেন, চেতনা (consciousness) একটি অপ্রয়োজনীয় ধারণা। এটি পরিমাপ করা যায় না, তাই বিজ্ঞানে এর কোনো স্থান নেই। পরিবর্তে আমরা দেখব Stimulus (উদ্দীপক) এবং Response (প্রতিক্রিয়া) – সংক্ষেপে S-R।
তিনি ইভান প্যাভলভের কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হন। প্যাভলভ দেখিয়েছিলেন যে কুকুরকে ঘণ্টা বাজানোর সাথে খাবার দেওয়া হলে পরে শুধু ঘণ্টার শব্দ শুনলেই কুকুর লালা ফেলে। এটাকে বলা হয় ক্লাসিক্যাল কন্ডিশনিং। ওয়াটসন এটাকে মানুষের আবেগের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলেন।
১৯২০: লিটল অ্যালবার্ট – ভয় কীভাবে শেখা যায়?
এটি আচরণবাদের সবচেয়ে বিখ্যাত পরীক্ষা। ১৯২০ সালে ওয়াটসন এবং রোজালি রেনার ৯ মাসের একটি শিশুকে নিয়ে কাজ করেন। শিশুর নাম ছিল অ্যালবার্ট বি. (সম্ভবত ডগলাস মেরিট)।
প্রথমে তারা দেখলেন অ্যালবার্ট সাদা ইঁদুর, খরগোশ, কুকুর, পশমের কোট বা সান্তা ক্লজের মুখোশ দেখে কোনো ভয় পায় না। সে এগুলো নিয়ে খেলে, হাসে।
তারপর শুরু হলো পরীক্ষা:
যখনই অ্যালবার্ট সাদা ইঁদুরের দিকে হাত বাড়াত, ঠিক তখনই পিছনে একজন হাতুড়ি দিয়ে লোহার বারে জোরে আঘাত করত। ভয়ংকর শব্দ! অ্যালবার্ট ভয় পেয়ে কাঁদতে শুরু করত।
কয়েকবার এই জোড়া দেওয়ার পর অবস্থা বদলে গেল। এখন শুধু ইঁদুর দেখলেই অ্যালবার্ট ভয় পেত, কাঁদত, সরে যেত।
আরও আশ্চর্যের ব্যাপার: ভয় ছড়িয়ে পড়ল অন্য জিনিসেও। খরগোশ দেখলে, কুকুর দেখলে, পশমের কোট দেখলে, এমনকি সান্তার মুখোশ দেখলেও সে ভয় পেত। এটাকে বলে stimulus generalization – ভয় এক জিনিস থেকে অনুরূপ জিনিসে ছড়িয়ে পড়ে।
এই পরীক্ষা দেখাল যে ভয় জন্মগত নয়, শেখা। ফোবিয়া (যেমন কুকুরের ভয়, উঁচু জায়গার ভয়) কীভাবে তৈরি হয়, তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল।
(কৌতূহল জাগানো প্রশ্ন: কিন্তু পরীক্ষার শেষে অ্যালবার্টের ভয় দূর করার চেষ্টা করা হয়নি। আজকের নৈতিক নিয়মে এটি অগ্রহণযোগ্য। অ্যালবার্ট ৬ বছর বয়সে হাইড্রোসেফালাসে মারা যান।)
১৯২৪: ‘Behaviorism’ বই – সাধারণ মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা
এই বইটি ওয়াটসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় রচনা। এটি নিউ ইয়র্কের পিপলস ইনস্টিটিউটে দেওয়া লেকচারের ভিত্তিতে লেখা। লক্ষ্য ছিল সাধারণ পাঠক – শিক্ষক, বাবা-মা, সাধারণ মানুষ – যাতে বুঝতে পারে আচরণবাদ কী।
বইতে ওয়াটসন সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন:
- মানবদেহ একটি জটিল যন্ত্র। এটি উদ্দীপকে সাড়া দেয়।
- আবেগ (ভয়, রাগ, ভালোবাসা) শেখা প্রতিক্রিয়া। ভয় শরীরের ভিতরের পরিবর্তন (হার্টবিট বেড়ে যাওয়া) + বাইরের উদ্দীপকের ফল।
- ভাষা হলো অভ্যাস। শব্দ হলো বস্তুর বদলে ব্যবহৃত চিহ্ন। চিন্তা হলো ‘সাব-ভোকাল স্পিচ’ – নিজের সাথে নিঃশব্দে কথা বলা। স্মৃতি হলো শর্তযুক্ত প্রতিক্রিয়া।
- চেতনা: অপ্রয়োজনীয়।
তিনি দেখান কীভাবে সাধারণ রিফ্লেক্স থেকে জটিল অভ্যাস গড়ে ওঠে – যেমন টেনিস খেলা, জুতো তৈরি করা বা মায়ের সন্তানের প্রতি প্রতিক্রিয়া।
এই বই পাঠকদের মনে একটি বড় প্রশ্ন জাগায়: যদি সব আচরণ শেখা যায়, তাহলে শিক্ষা ও লালন-পালন কতটা শক্তিশালী!
আচরণবাদের মূল নীতি – সহজ উদাহরণে বোঝা
১. শুধু দৃশ্যমান আচরণ: মনের ভিতর কী চলছে তা জানা যায় না। তাই শুধু কী করে, তা দেখুন ও পরিমাপ করুন।
২. পরিবেশই সবকিছু: জন্মগত প্রবৃত্তি নেই। সব আচরণ শেখা। ওয়াটসনের বিখ্যাত উক্তি
“আমাকে এক ডজন সুস্থ, স্বাভাবিক শিশু দিন এবং আমার নির্দিষ্ট পরিবেশে তাদের বড় করার সুযোগ দিন। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি – যেকোনো একজনকে যেকোনো পেশায় (ডাক্তার, আইনজীবী, শিল্পী, ব্যবসায়ী, এমনকি ভিখারি বা চোর) গড়ে তুলতে পারব – তার প্রতিভা, আগ্রহ, বংশ বা জাতি যাই হোক না কেন।”
৩. কন্ডিশনিং দুই ধরনের: ক্লাসিক্যাল (প্যাভলভ-ওয়াটসন) – দুটি জিনিস জোড়া দিয়ে নতুন প্রতিক্রিয়া শেখানো। পরবর্তীতে বি.এফ. স্কিনার অপারেন্ট কন্ডিশনিং যোগ করেন – পুরস্কার দিলে আচরণ বাড়ে, শাস্তি দিলে কমে।
৪. লক্ষ্য: ভবিষ্যদ্বাণী ও নিয়ন্ত্রণ: মনোবিজ্ঞানের কাজ হলো আচরণ আগে থেকে বলা এবং পরিবেশ বদলে আচরণ বদলানো।
সহজ উদাহরণ: আপনার কুকুরকে বসতে শেখানো। প্রতিবার বসলে বিস্কুট দিন। কয়েকদিন পর শুধু “বস” বললেই সে বসবে – এটাই কন্ডিশনিং।
প্রভাব: পৃথিবী কীভাবে বদলে গেল?
ওয়াটসনের ধারণা শুধু ল্যাবে থাকেনি। এটি বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে:
শিশু লালন-পালন: ১৯২৮ সালে তাঁর বই Psychological Care of Infant and Child বের হয়। তিনি বলেন – অতিরিক্ত আদর করবেন না, নিয়মিত রুটিন রাখুন, বৈজ্ঞানিকভাবে লালন করুন। এটি তখন বিপ্লবী ছিল, যদিও পরে কিছু সমালোচনা হয়।
শিক্ষাক্ষেত্র: রিওয়ার্ড সিস্টেম (স্টিকার, প্রশংসা), ব্যবহারিক শিক্ষা। আজকের অনেক স্কুলে এখনও এটি ব্যবহৃত হয়।
বিজ্ঞাপন ও বিপণন: ওয়াটসন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করে দেখান যে আবেগ ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা যায়।
- মানসিক স্বাস্থ্য: ভয় দূর করার পদ্ধতি (systematic desensitization) আজকের কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (CBT)-এর ভিত্তি। ফোবিয়া, উদ্বেগ চিকিৎসায় এটি অত্যন্ত কার্যকর।
- অন্যান্য ক্ষেত্র : সামরিক প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রের আচরণ পরিবর্তন, এমনকি আধুনিক অ্যাপ ও গেমে রিওয়ার্ড সিস্টেম। সমালোচনা: সীমাবদ্ধতা কোথায়?
যদিও বিপ্লবী, আচরণবাদ সমালোচিত হয়েছে:
নৈতিকতার প্রশ্ন : লিটল অ্যালবার্ট পরীক্ষায় শিশুর ভয় স্থায়ী হতে পারত। ডিকন্ডিশনিং করা হয়নি। আজকের নিয়মে এটি অনুমোদিত হতো না।
অতিরিক্ত পরিবেশবাদ: জেনেটিক্স, মস্তিষ্কের রসায়ন, জন্মগত প্রবণতা উপেক্ষা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৯৫০-৬০ দশকে কগনিটিভ রেভল্যুশন এসে মনের ভিতরের প্রক্রিয়া (চিন্তা, স্মৃতি) ফিরিয়ে আনে।
মানুষকে যন্ত্র বানানো: আবেগ, সৃজনশীলতা, স্বাধীন ইচ্ছা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
তবু এটি মনোবিজ্ঞানকে বৈজ্ঞানিক পথে এনেছে।
আজকের দিনে ওয়াটসনের উত্তরাধিকার
২০০২ সালের একটি জরিপে ওয়াটসনকে ২০শ শতাব্দীর ১৭তম সবচেয়ে উদ্ধৃত মনোবিজ্ঞানী হিসেবে স্থান দেওয়া হয়। তাঁর কাজ আজও জীবন্ত:
- অটিজমের ABA (Applied Behavior Analysis) থেরাপি – আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে দক্ষতা শেখানো।
- ফোবিয়া ও উদ্বেগের চিকিৎসা।
- শিক্ষায় পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট।
- এমনকি কর্পোরেট ট্রেনিং ও স্বাস্থ্য অ্যাপে আচরণ পরিবর্তনের কৌশল।
ওয়াটসন ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮ সালে মারা যান। কিন্তু তাঁর ধারণা চিরকাল বেঁচে থাকবে।
আপনার আচরণ কীভাবে গঠিত?
জন বি. ওয়াটসন আমাদের দেখিয়েছেন যে মানুষের আচরণ পরিবর্তনযোগ্য। এটি আশার বার্তা – খারাপ অভ্যাস ছাড়া যায়, ভয় কাটানো যায়, নতুন দক্ষতা শেখা যায়। কিন্তু এটি বড় দায়িত্বও – পরিবেশ, শিক্ষা, পরিবার ও সমাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
পরের বার যখন আপনি কোনো অভ্যাস গড়বেন, সন্তানকে কিছু শেখাবেন বা নিজের ভয় কাটানোর চেষ্টা করবেন, তখন ভাবুন ওয়াটসনের কথা। আচরণবাদ শুধু একটি তত্ত্ব নয় – এটি আমাদের জীবন বোঝার, উন্নত করার এবং আরও ভালো মানুষ হওয়ার চাবিকাঠি।
মানুষের আচরণ রহস্যময় নয়। এটি বিজ্ঞান দ্বারা বোঝা যায়, পরিবর্তন করা যায়। এটাই জন বি. ওয়াটসনের চিরন্তন উপহার।
লেখক – মাধব রায়

