চোখে চোখে কথা
পর্ব -১
নাদিয়া রিপাত রিতু
(গল্পটা হবে স্কুল লাভ স্টোরি)
আলিয়া অনেক শান্ত একটা মেয়ে এসএসসি এখনো দেওয়া হয়নি।সবে মাত্র ক্লাস টেনে উঠেছে।সামনে এসএসসি দিবে পড়ালেখা ভিষণ ব্যস্ত। অন্যদিকে গল্পের নায়ক সে ও বেশ শান্ত তবে দুরন্ত ও আছে ।
আমাদের নায়ক আরাব সিদ্দিক পড়ালেখা তেমন একটা ভালো না ।তবে এসএসসি যেহেতু দিবে পাশ তো করতে চাই। পড়াশোনা নিয়ে বেশ সিরিয়াস।
কিন্তু পড়ালেখা ফাঁকে দুজন কিশোর কিশোরীর যে প্রেম হয়ে যাবে তা তো ভাবেনি ।আলিয়া আর আরাব এর প্রেম কাহিনী নিয়ে আমি লিখছি প্রিয় পাঠকরা পড়তে থাকুন আমার নতুন গল্প চোখে চোখে কথা।
একদিন আলিয়া ক্লাসে বসে অংক করছিলো সাথে ছিলো ওর দুই বান্ধবী নেহা আর আঁখি
আলিয়ার মন সম্পূর্ণ নিজের অংকের মধ্যে,,তার এদিক ওদিক কোনো দিকে খেয়াল নেই সে অংক করে যাচ্ছে।
সুজন স্যার ক্লাসে ছিলো আলিয়া স্যারকে অংক দেখালো স্যার অংকটা হয়েছে বললো ।
আলিয়া খুশি হয়ে গেলো ,
সুজনের স্যার এখন আটটার সময় কোচিং ক্লাস নিচ্ছিলো কিন্তু তার ক্লাস আবার আরেকটা আছে দশটার সময়
সুজন স্যার বললো আজকে তোমাদের ক্লাসে নতুন একটা অধ্যায় অংক করাবো আমি দেখবো কে কে বই এনেছো ।যারা যারা বই আনোনি তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে ।আমি আমার ক্লাস শেষ করছি আবার দেখা হচ্ছে।
এরপর যারা যারা বই তারা ভিষণ চিন্তায় পরে গেলো ।
কিন্তু আলিয়া যে বই এনেছে ওর তো চিন্তা নেই ।
যদি ও বইটা কিছু টা ছিঁড়ে গেছে তবে শাস্তি তো আর পাবেনা ।
আঁখি বই আনেনি শাস্তির ভয়ে মন খারাপ করেছে।
নেহা আঁখি কে কি যেন বললো হঠাৎ কানে কানে আঁখির মন খারাপ এক নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেলো
আলিয়া: কি হলো তোদের আঁখি নেহা হাসছিস কেন?
আঁখি: লাভ স্টোরি দেখে
আলিয়া: কারো লাভ স্টোরি দেখার সময় নেই দূর তোদের কোনো কাজ নেই নাকি
আঁখি:যদি বলি আলিয়া তোর লাভ স্টোরি
আলিয়া: মজা করছিস কর তার মানে কি যা ইচ্ছে তাই বলবি
নেহা: আলিয়া আমি সেই অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করছি আরাব তোকে দেখছে
আঁখি: আমি ও দেখেছি নেহা সত্যি বলছে তুই দেখ না
আলিয়া : আমার না এসব দেখার সময় নেই বুঝলি আমার অনেক পড়া আছে
এখন নিরব স্যার আসবে এত্তো গুলো প্রশ্ন করবে
বলতে না বলতে নিরব স্যার ক্লাসে প্রবেশ করলো।
স্কুলে বেশিরভাগ মেয়ের ক্রাশ নিরব স্যার
যদি ও আলিয়া তেমন একটা লাইক করেনা স্যার হিসেবে শ্রদ্ধা করে এতটুকু।
স্যারের একটা বিশেষত্ব হলো স্যার ম্যাথ ক্লাস হোক অথবা থিওরি ক্লাস হোক উনার ক্লাসে বোর্ডে একটা খালি জায়গা পাওয়া যাবেনা স্যারের নাম ব্যঙ্গ করে অনেকে অনেক নামে ডাকে
ক্লাসে আইরিন একটু দুষ্টু সব কিছুতে মজা নেই
স্যার সব সময় পড়ানোর সময় এই যে বলে বলে কথা বলে।
সো আইরিন স্যারের নাম দেয় এই যে স্যার
স্যার ক্লাস শুরু করলো
অন্যদিকে আলিয়ার মন আটকে গেলো ঐ একটা কথায় ,,আরাব তোকে দেখছে
আলিয়া ভাবতে লাগলো এমন কিভাবে হতে পারে
আরাব কিভাবে আলিয়াকে পছন্দ করবে ।
আলিয়া সাহস করে দেখলো আরাবের দিকে
এরপর যা দেখলো আলিয়া নিজেকে বিশ্বাস করতে পারলো না।
আরাব একটু পর পর আলিয়াকে দেখে যাচ্ছে।
আলিয়া ও আমাকে কেন দেখছে পরক্ষণে ভাবলো আমি কি এমন আহামরি সুন্দরী যে আরাব আমায় পছন্দ করবে।সব আমার মনের ভুল হয়তো
এরপর ও ক্লাস করতে থাকে
কোচিং ক্লাস শেষ হয়ে যায় ,
আঁখি ও নেহা ক্লাস থেকে বের হওয়া সময় টেবিলে সাকিলের বই দেখতে পাই ।
নেহা বইটা নিয়ে আঁখি কে দেয়নেহা দুষ্টু হাসি দিয়ে আঁখিকে বলে বইটা তুই নিয়ে নে।
নেহার দুষ্টু হাসি দেওয়ার কারণ হলো সাকিল আঁখিকে পছন্দ করে
আঁখি: তোরা একটু বেশি করিস ,এসব কিন্তু ভালো লাগেনা।
আলিয়া , আঁখি,নেহা ক্লাসের বাইরে চলে গেলো নাইনের ক্লাসে বই খুঁজতে ,,
বই তো মিল থাকে নাইন টেন
কিন্তু দূর ভাগ্য বশত বই পাওয়া গেলো না অনেকে বই আনেনি আর যারা এনেছে ওদের গুলো নিয়ে গেছে অন্যরা এসে।
হতাশ ওরা ফিরে এলো ক্লাস রুমে
সুজন স্যার ক্লাসে এলো নতুন একটা অধ্যায় শুরু করলো।
নেহা স্যারের কথার মধ্যে কথা বলে যার কারণে আলিয়া বকা খাই।
আলিয়ার ভিষণ মন খারাপ হয়ে যায়
সুজন স্যার এমনিতে ভিষণ শান্ত মানুষ তেমন কঠোর না ।অংক ক্লাস আর সাইন্সের ক্লাস করায় ।
উনি উনার মত প্রশ্ন বোর্ডে লিখে দেন করে দেখাতে বলেন যারা করে দেয় তাদের প্রশংসা করেন কিন্তু করতে না পারলে কাউকে কখনো শাস্তি দেন না।
কিন্তু আজ কেন জানি খুব মেজাজ গরম উনার ।
সবাই ভয় পেয়ে গেছে ক্লাসে ,,,আজকে স্টুডেন্ট ও বেশি ।
নেহা : এই আলিয়া দেখ না আরাব তোকে কিভাবে দেখতেছে ,,👀
আলিয়া: তাই নাকি কই আমি তো দেখছি না আমি আছি আমার জ্বালায় তুই আছিস এসব নিয়ে তাইনা
আঁখি: আলিয়া সত্যি তুই দেখ একবার আমি সিউর আরাব তোকে লাইক করে ।
আলিয়া: তোরা কি চাস আমি পড়ালেখা বাদ দিয়ে ক্লাসে এসব দেখবো আমার কি কাজ নেই আর।
সুজন স্যার: লাস্ট বেঞ্চের আগের বেঞ্চে ঐ দুই নাম্বার মেয়েটা দাঁড়াও।
আলিয়া : স্যার আমাকে বলছেন
সুজন স্যার: জ্বী আপনাকে বলছি ,,কখন থেকে কথা বলে যাচ্ছেন দেখি বলেন আমি কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি এতক্ষণ।
আলিয়া: ধারার অধ্যায় টা করাচ্ছেন স্যার.
সুজন স্যার: গুড এবার বলো ধারা কী??
আলিয়া : স্যার আমি তো জানিনা
সুজন স্যার: আমি একটু আগে বললাম আমার দিকে নজর না দিয়ে তুমি যদি কথা বলতে থাকো কিভাবে হবে বলো ।
আলিয়া: সরি স্যার আর হবেনা
আরাব : এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আলিয়ার দিকে
আলিয়া ভিষণ লজ্জা পাচ্ছে,,
সুজন স্যার: বসো তুমি ,,,,
নেহা: আঁখি দেখেছিস কিভাবে দেখছিলো আরাব ,,,
আঁখি: দেখলাম।
আলিয়া: তোরা কথা বলিস না দেখেছিস স্যার আবার দেখবে দাঁড় করিয়ে রাখবে
প্রতি টা ক্লাসে আরাব আলিয়ার দিকে দেখছিলো ।
এরপর টিফিন পিরিয়ড সবাই ক্লাসের বাইরে গেলো
আরাবের একটা সাইকেল ছিলো আরাব সাইকেল নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলো ,,,আলিয়া নেহা আরোহি বাড়ি যাচ্ছিলো ,আরাব ওদের পিছু পিছু আসছিলো
আলিয়ার ভিষণ লজ্জা লাগছিলো

(পরের পর্ব পড়তে বেশি বেশি রিভিউ দিন )
