নিপীড়িত তুলি

নিপীড়িত তুলি

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ যখন বেঁচে ছিলেন, তখন তার কাজ প্রায় কেউ কেনেনি। মাত্র দশ বছরের এক অবিশ্বাস্য সৃজনশীল সময়ে তিনি প্রায় ৮৬০টি তৈলচিত্রসহ মোট ২,১০০টিরও বেশি শিল্পকর্ম তৈরি করেছিলেন। কিন্তু নথিপত্র অনুযায়ী, তার জীবদ্দশায় তিনি মাত্র একটি বড় ছবি বিক্রি করতে পেরেছিলেন—১৮৯০ সালে ‘দ্য রেড ভাইনইয়ার্ড’ (The Red Vineyard), যা বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৪০০ ফ্র্যাঁ-তে (সে সময়ের হিসেবে যা ছিল খুবই সামান্য অর্থ)। যদিও তিনি অন্য শিল্পীদের সাথে ছবি বিনিময় করতেন বা তার ভাই থিও দু-একটি ছবি বিক্রি করতে পেরেছিলেন, কিন্তু পেশাদার বা সমালোচকদের দৃষ্টিতে তিনি তখন ছিলেন একজন ব্যর্থ শিল্পী। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে তিনি মারা যান। সারা জীবন ভাইয়ের পাঠানো যৎসামান্য টাকার ওপর নির্ভরশীল ভিনসেন্ট মনে করতেন, তার জীবনের সব কাজই আসলে বৃথা।

অথচ আজ তার আঁকা ছবিগুলো বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাদুঘরগুলোতে শোভা পায় এবং কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হয়। তার আঁকা ‘স্টারি নাইট’, ‘সানফ্লাওয়ার্স’ বা তার নিজের প্রতিকৃতিগুলো মানুষের আবেগের বিশ্বজনীন প্রতীক হয়ে উঠেছে। একজন অখ্যাত মানুষের অমরত্ব পাওয়ার এই ঘটনা শিল্পকলার ইতিহাসে এক নাটকীয় মোড়। কিন্তু এই “বিপন্ন প্রতিভার” রোমান্টিক গল্পের আড়ালে ছিল এক হৃদয়বিদারক মানসিক বাস্তবতা। ভিনসেন্ট ছিলেন অসাধারণ সংবেদনশীল এবং অস্থির মনের একজন মানুষ। তার গভীর অনুভূতিগুলো উনবিংশ শতাব্দীর মানুষের বোঝার ক্ষমতার বাইরে ছিল।

জীবনের শূন্যতা এবং সার্থকতা খোঁজার সংগ্রাম

ভিনসেন্টের জন্ম হয়েছিল শোকাতুর এক পরিবারে। তার জন্মের ঠিক এক বছর আগে, একই দিনে তার মা তার বড় ছেলেকে হারিয়েছিলেন, যার নামও ছিল ভিনসেন্ট। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন “প্রতিস্থাপিত সন্তানরা” (Replacement Child) অনেক সময় অবচেতনভাবেই এক ধরণের মানসিক বোঝা নিয়ে বড় হয়। তারা মনে করে, তাদের নিজস্ব কোনো সত্তা নেই, বরং তারা অন্য কারোর অভাব পূরণ করতে পৃথিবীতে এসেছে। ভিনসেন্টের চিঠিপত্রেও আজীবন ভালোবাসা পাওয়ার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং অন্যের ওপর বোঝা হওয়ার ভয় ফুটে উঠেছে।

তার বাবা ছিলেন একজন কঠোর ধর্মীয় যাজক। বাবার সেই শাসন ও কর্তব্যের শৃঙ্খলে ভিনসেন্ট নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। প্রথম জীবনে তিনি নানা পেশায় চেষ্টা করেছিলেন—কখনও আর্ট ডিলার হিসেবে, কখনও শিক্ষকতায়, আবার কখনও বই বিক্রেতা হিসেবে। সবখানেই তিনি ব্যর্থ হন। সবচেয়ে বেদনাদায়ক ছিল তার যাজক হওয়ার চেষ্টা। বেলজিয়ামের খনি শ্রমিকদের মাঝে তিনি যখন কাজ করতে যান, তখন তিনি তাদের দারিদ্র্য নিজের করে নিয়েছিলেন। নিজের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে খড় বিছানো মেঝেতে ঘুমাতেন তিনি। কিন্তু চার্চ কর্তৃপক্ষ তার এই “চরমপন্থা” পছন্দ করেনি এবং তাকে বহিষ্কার করে।

এই বারবার ব্যর্থ হওয়াটা শুধু দুর্ভাগ্য ছিল না, বরং তা ছিল তার অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ। অবশেষে ২৭ বছর বয়সে—যা শিল্পী হওয়ার জন্য বেশ বেশি বয়স—তিনি চিত্রাঙ্কনকে বেছে নেন। ছবির মাধ্যমেই তিনি তার মনের গভীর সব কথা ও অস্থিরতা প্রকাশ করতে শুরু করেন। ছবি আঁকা তখন তার কাছে কেবল কাজ নয়, বরং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠে।

চিঠিপত্র: এক অস্থির আত্মার আয়না

ভিনসেন্টের মনের অবস্থা বোঝার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তার ভাই থিও-র কাছে লেখা প্রায় ৮০০টি চিঠি। এগুলো কেবল সাধারণ কোনো চিঠি ছিল না; এগুলো ছিল তার একাকীত্ব, শিল্পী হওয়ার জেদ, ভাইয়ের ওপর আর্থিক নির্ভরশীলতার কারণে জন্ম নেওয়া অপরাধবোধ এবং ক্রমশ ভেঙে পড়া মানসিক স্বাস্থ্যের এক জীবন্ত দলিল।

১৮৮২ সালে লেখা একটি চিঠিতে তিনি তার শিল্পবোধ সম্পর্কে বলেছিলেন:

“আমি মানুষ বা প্রকৃতির দৃশ্যের মাধ্যমে কেবল দুঃখ বা বিষণ্ণতা নয়, বরং মনের গভীর যন্ত্রণা প্রকাশ করতে চাই। আমি চাই আমার কাজ দেখে মানুষ বলুক: এই মানুষটি খুব গভীরভাবে অনুভব করতে জানে।”

তিনি কেবল সুন্দর কোনো ছবি আঁকছিলেন না; তিনি তার ভেতরের ঝড়কে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছিলেন। তার আঁকায় রঙের মোটা প্রলেপ, উথাল-পাথাল ঘূর্ণি এবং উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার কোনো স্টাইল ছিল না; বরং তা ছিল তার শরীরের ভেতরের তীব্র উত্তেজনা ও অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ।

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখলে, ভিনসেন্ট সম্ভবত ‘বাইপোলার ডিজঅর্ডার’ (Bipolar Disorder)-এ ভুগছিলেন। সাথে যুক্ত হয়েছিল অপুষ্টি, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং রঙের বিষক্রিয়া। তিনি মাঝেমধ্যেই গভীর বিষণ্ণতায় ডুবে যেতেন, আবার কখনও কখনও এক অদ্ভুত উন্মাদনায় ডুবে যেতেন যেখানে তিনি অবিশ্বাস্য গতিতে ছবি আঁকতেন। যেমন, আর্লস-এ থাকাকালীন তিনি মাত্র কয়েক দিনে বিখ্যাত ‘সানফ্লাওয়ার্স’ সিরিজের বেশ কিছু ছবি এঁকে ফেলেছিলেন। কিন্তু এই অতিরিক্ত পরিশ্রম তাকে মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিত।

তিনি ছিলেন প্রচণ্ড দয়ালু ও সংবেদনশীল। কৃষক, কয়েদি বা গরিব মানুষের দুঃখ তিনি নিজের ভেতরে অনুভব করতেন। কিন্তু তার এই অতিরিক্ত সংবেদনশীলতাই সাধারণ মানুষের সাথে তার মেলামেশা কঠিন করে তুলেছিল। তিনি প্রায়ই তর্কে জড়িয়ে পড়তেন এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টায় বারবার ব্যর্থ হতেন। প্রতিবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে তিনি নিজেকে আরও গুটিয়ে নিতেন এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তিনি কারোর ভালোবাসার যোগ্য নন।

আর্লস, গগ্যাঁ এবং কান কাটার ঘটনা: চরম বিপর্যয়

১৮৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিনসেন্ট দক্ষিণ ফ্রান্সের আর্লস-এ চলে আসেন। তার স্বপ্ন ছিল সেখানে শিল্পীদের একটি দল গড়ে তুলবেন। কয়েক মাস তিনি সেখানে অসম্ভব সুন্দর সব ছবি আঁকেন। সেই বছরের অক্টোবরে প্রখ্যাত শিল্পী পল গগ্যাঁ তার সাথে যোগ দেন।

কিন্তু দুই শিল্পীর মানসিকতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। গগ্যাঁ ছিলেন হিসেবি ও যুক্তিবাদী, আর ভিনসেন্ট ছিলেন প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ১৮৮৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাতে এক প্রচণ্ড ঝগড়ার পর ভিনসেন্ট নিজের বাম কানের একাংশ কেটে ফেলেন। কেউ কেউ বলেন এটা ছিল মানসিক বিকারের ফল, আবার কেউ বলেন এটি ছিল নিজেকে শাস্তি দেওয়ার এক চরম পথ। কান কেটে তিনি তা কাগজে মুড়িয়ে এক যৌনকর্মীকে উপহার হিসেবে দিয়ে আসেন—যে ঘটনা এক শতাব্দী পরেও মানুষকে স্তম্ভিত করে।

এই ঘটনার পর ভিনসেন্টের স্বাধীনতার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ১৮৮৯ সালে তিনি স্বেচ্ছায় সেন্ট-রেমি নামের এক মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অসুস্থতার ফাঁকে ফাঁকেই তিনি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজগুলো করেন, যার মধ্যে ‘দ্য স্টারি নাইট’ (The Starry Night) অন্যতম। সেই ছবিতে আকাশের ঘূর্ণায়মান নক্ষত্র আর আগুনের শিখার মতো দেখতে গাছগুলো আসলে তার মনের ভেতরের বিশৃঙ্খলাকে একটি নিয়মে বাঁধার চেষ্টা ছিল।

শেষ জীবন এবং গমের ক্ষেতে এক নিঃসঙ্গ প্রস্থান

১৮৯০ সালের মে মাসে ভিনসেন্ট ডা. পল গাশের তত্ত্বাবধানে ‘ওভার-সুর-ওয়াজ’ (Auvers-sur-Oise) নামক জায়গায় চলে আসেন। সেখানে অল্প কিছুদিনের জন্য তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করেন। তিনি ডা. গাশের প্রতিকৃতি এবং উত্তাল আকাশের নিচে দিগন্ত বিস্তৃত গমের ক্ষেতের বেশ কিছু ছবি আঁকেন। সেই ছবিগুলোতে একদিকে যেমন জীবনের স্পন্দন ছিল, অন্যদিকে ছিল এক অজানা বিপদের সংকেত।

১৮৯০ সালের ২৭ জুলাই, ভিনসেন্ট একটি গমের ক্ষেতে গিয়ে নিজের বুকে গুলি করেন। এর দুদিন পর ২৯ জুলাই নিজের ভাই থিও-র বাহুডোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তার শেষ কথা ছিল—”কষ্ট বা যন্ত্রণার কখনও শেষ হবে না।” আত্মহত্যাটি হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না; যে গমের ক্ষেতে তিনি গুলি চালিয়েছিলেন, তার ছবি তিনি আগেই এঁকেছিলেন। যেন তিনি অনেক আগে থেকেই নিজের বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

মানসিকভাবে দেখলে, ভিনসেন্টের আত্মহত্যা ছিল অনেকগুলো বিষয়ের এক করুণ পরিণতি: বারবার ফিরে আসা মানসিক অসুস্থতা, ভাইয়ের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে থাকার অপরাধবোধ (ভাই থিও নিজেও অসুস্থ ছিলেন এবং ভিনসেন্টের মৃত্যুর ছয় মাস পরেই তিনি মারা যান), চরম একাকীত্ব এবং বছরের পর বছর ধরে স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপ। সম্ভবত এটি ছিল নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার শেষ এক চেষ্টা।

পৃথিবী কেন প্রস্তুত ছিল না? জীবদ্দশায় ভিনসেন্টের ছবি অবিক্রিত থাকার পেছনে সাংস্কৃতিক ও নান্দনিক কিছু কারণ ছিল:

অতিরিক্ত আবেগ: সে সময় মানুষ স্নিগ্ধ ও বাস্তবধর্মী ছবি পছন্দ করত। কিন্তু ভিনসেন্টের ছবিতে ছিল উথাল-পাথাল আবেগ এবং তীব্র রঙের ব্যবহার। সাধারণ দর্শক তার ছবিতে বাস্তব জগতকে নয়, বরং একজন যন্ত্রণাকাতর মানুষের মনের জগতকে দেখতে পেত, যা গ্রহণ করার মতো মানসিকতা তখন তৈরি হয়নি।

ব্যক্তিত্বের সংকট: ভিনসেন্ট সামাজিক ছিলেন না। তিনি ছিলেন খ্যাপাটে ও অস্থির প্রকৃতির। তৎকালীন ধনাঢ্য শিল্প সংগ্রাহকরা তার এই অস্থিরতাকে ভয় পেতেন।

সময়ের চেয়ে এগিয়ে: বিশ শতকে যখন ‘এক্সপ্রেশনিজম’ বা ভাববাদী শিল্পকলার জয়জয়কার শুরু হয়, তখন মানুষ ভিনসেন্টের কাজের গুরুত্ব বুঝতে পারে। কিন্তু ১৮৯০ সালে সেই বিপ্লব তখনও আসেনি।

সেই নারী, যিনি এই ইতিহাস গড়েছেন ভিনসেন্টের মৃত্যুর পর তার ভাই থিও তার কাজগুলো পরিচিত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনিও দ্রুত মারা যান। ভিনসেন্টকে বিশ্বখ্যাত করার আসল কৃতিত্ব থিও-র স্ত্রী জোহানা ভ্যান গঘ-বংগার (জো)-এর।

জোহানা উত্তরাধিকার সূত্রে ভিনসেন্টের শত শত ছবি পেয়েছিলেন। তিনি সেগুলো সস্তায় বিক্রি না করে সারা ইউরোপজুড়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল ১৯১৪ সালে ভিনসেন্টের লেখা চিঠিগুলো প্রকাশ করা। এই চিঠিগুলো মানুষের ধারণা বদলে দেয়। মানুষ বুঝতে পারে, ভিনসেন্ট কেবল একজন ‘পাগল’ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন গভীর চিন্তাশীল ও দয়ালু মানুষ, যিনি শিল্পের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

চিরস্থায়ী আবেদন ও শিক্ষা ভিনসেন্টের গল্প কেবল একটি বিয়োগান্তক নাটক নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর কিছু সত্য:

সংবেদনশীলতার মূল্য: যারা খুব বেশি অনুভব করেন, এই পৃথিবী প্রায়ই তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সৃজনশীলতার দুই পিঠ: যে তীব্র আবেগ অসাধারণ শিল্প সৃষ্টি করে, সেই আবেগই আবার শিল্পীকে ধ্বংসও করতে পারে।

স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা: প্রতিটি মানুষের মধ্যেই ভালোবাসা ও স্বীকৃতি পাওয়ার এক তীব্র ক্ষুধা থাকে।

ভিনসেন্ট যে স্বীকৃতি চেয়েছিলেন, তা তিনি বেঁচে থাকতে পাননি। তিনি জানতেন না যে একদিন কোটি কোটি মানুষ তার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের দুঃখ বা বিস্ময় খুঁজে পাবে। তিনি প্রায়ই বলতেন—”শিল্প হলো তাদের জন্য সান্ত্বনা, যারা জীবন দ্বারা ক্ষতবিক্ষত।”

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ হয়তো দর্শকদের তালি শুনে যেতে পারেননি, কিন্তু তার আঁকা উজ্জ্বল হলুদ সূর্যমুখী আর অশান্ত নীল আকাশ আজও আমাদের হৃদয়ে কথা বলে। জীবনের অন্ধকারে যে আলো তিনি খুঁজেছিলেন, তা আজ সারা বিশ্বের মানুষের মনে আশার আলো হয়ে জ্বলছে। তার ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি রয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু তার অমূল্য উপহার আজ সারা বিশ্ব কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করেছে।

Comment