স্বৈরাচারী স্বপ্নের উপাখ্যান

তোমার স্বৈরাচারী স্বপ্ন আমায়—
বিনিদ্র রেখেছে রাতের পর রাত।
শিরার ভেতর কাঁটাতারের মতো টান পড়ে—
ঘুমের দিগন্তে আর নামতে পারি না,
মাথার ভেতর ঝড় ওঠে,
কপালে ঝরে দগ্ধ ধ্বংসাবশেষ।

চোখের পাতার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকে
লোহাচ্যাপ্টা অন্ধকার,
যেনো প্রতিটি নিঃশ্বাসেই সেনানিবাসের মার্চপাস্ট।
আমি ভাবি,
কেনো মানুষের ঘুমও একদিন—
বন্দি হয়ে যায় শিবিরে?

স্বপ্ন তো হওয়া উচিত ছিল নদীর মতো—
প্রবাহিত, উন্মুক্ত, শিশিরভেজা কণ্ঠস্বর;
কিন্তু তোমার স্বপ্ন এসে বসেছে
অজানা এক আয়রন-চেয়ারে,
যেখানে মুক্তির চিহ্ন নেই,
শুধু অনাগত ভয়ের কোলাহল।

আমি চাইতাম আলো—
সাদা জানালার ভেতর ভোরের পাখির ডানা,
কিন্তু তুমি পাঠাও কালো মেঘ,
যেনো প্রতিটি তারা হঠাৎ নির্বাসিত হয়—
অপরাধে,
যার নাম উচ্চারণ করাও নিষিদ্ধ।

তবু আমি লিখে যাই নিঃশব্দ বিদ্রোহ,
কবিতার ভেতরে রেখে দিই গোপন সংকেত।
হয়তো একদিন—
স্বপ্নের মাটিতে জন্ম নেবে একটি অঙ্কুর,
যার শেকড়ে থাকবে স্বাধীনতা,
যা ভেদ করবে তোমার লোহার সাম্রাজ্য।

ততদিন আমি জেগে থাকব,
বিরামহীন রাতের পৃষ্ঠায় খোদাই করব প্রতিরোধ,
কারণ স্বৈরাচারী স্বপ্নেরও
শেষ আছে—
আর আমার বিনিদ্রতা,
হয়তো সেই শেষের অপেক্ষাই।

Comment