জন ডস পাসোস ছিলেন একজন আমেরিকান ঔপন্যাসিক ও শিল্পী, যিনি আধুনিকতাবাদী সাহিত্যে নতুন আঙ্গিকের মাধ্যমে সামাজিক বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ১৮৯৬ সালে জন্ম নেওয়া ডস পাসোস প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি “USA Trilogy”-এর মতো বিখ্যাত রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক রচনার মাধ্যমে আমেরিকার পরিবর্তনশীল সমাজ, শ্রেণি-সংঘাত এবং মানুষের স্বপ্নভঙ্গকে শক্তিশালী ভাষায় তুলে ধরেন। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি শিল্প ও রাজনীতির টানাপোড়েনে সক্রিয় ছিলেন।

জন ডস পাসোস ১৮৯৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তাঁর জন্ম ছিল এক ধরনের গোপন অধ্যায়—কারণ তিনি বিবাহবহির্ভূত সন্তান ছিলেন।

তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, চিত্রকর ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ছিলেন।

তাঁর উপন্যাসে কোলাজ-স্টাইল, সংবাদ-শিরোনাম, ডকুমেন্টারি টুকরো—এসব ব্যবহার করা ছিল একেবারেই নতুন আঙ্গিক।

তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন, যা পরে তাঁর লেখায় গভীর ছাপ ফেলে।

ডস পাসোসের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ USA Trilogy—যা আমেরিকার সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি সম্পর্কে এক মহাকাব্যিক ক্যানভাস।

তাঁর লেখাকে আধুনিকতাবাদী আন্দোলনের এক অনন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়।

তিনি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন—পরে রাজনৈতিক মতপার্থক্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায়।

তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান জীবনের শুরুতে ছিল বামপন্থী, পরবর্তী সময়ে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকেছিলেন।

ডস পাসোস "Camera Eye" নামে এক বিশেষ আত্মজৈবনিক টেকনিক ব্যবহার করেন, যা তাঁর লেখাকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।

তিনি ৪০টিরও বেশি বই লিখেছেন—উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ভ্রমণলেখা, ইতিহাস—সবই তার মধ্যে।

তাঁর কাজ বহু চলচ্চিত্র নির্মাতাকে প্রভাবিত করেছে, বিশেষ করে কোলাজ ও মন্টাজ ধারার ভিজ্যুয়াল ভাষায়।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ চিত্রকর; তাঁর অঙ্কন ও জলরং প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।

১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে তিনি তরুণ আমেরিকান লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে পরীক্ষামূলক কণ্ঠস্বর ছিলেন।

ডস পাসোসের লেখায় শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম ঘন কুয়াশার মতো ভাসে।

তাঁর বই Manhattan Transfer নিউইয়র্ক নগরজীবনের একটি অভূতপূর্ব চিত্র।

তিনি সমাজের অন্ধকার দিক—ক্ষমতালোভ, দুর্নীতি, যুদ্ধ—এসবকে কঠিন বাস্তবতার আলোয় দেখিয়েছেন।

তিনি স্পেনের গৃহযুদ্ধে রিপোর্টার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তাঁর অনেক বন্ধুই বলেন—তিনি ছিলেন নীরব কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণশীল।

তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিত্রাঙ্কন ও লেখালেখি সমানভাবে চালিয়ে যান।

১৯৭০ সালে মৃত্যুর পর তাঁর সাহিত্য ও শিল্পকর্ম এখনও আমেরিকান সংস্কৃতির অন্তর্গত এক উজ্জ্বল স্ফুলিঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।

John Dos Passos

উক্তি

“মানুষের স্মৃতি হলো এক চলমান মানচিত্র, যেখানে প্রতিটি অভিজ্ঞতা নিজের রেখা এঁকে যায়।”

যে সমাজ নিজের সত্য বলতে ভয় পায়, সে সমাজ একদিন নিজের ছায়াকেও চিনতে পারবে না।”

“স্বাধীনতা কখনও প্রস্তুত খাবার নয়; তা অর্জন করতে হয় প্রতিবার নতুন করে।”

“যুদ্ধ মানুষকে বীর বানায় না; মানুষের ক্ষতগুলোকে গভীর করে।”

“সত্যকে দেখার চোখ আছে, কিন্তু তা স্বীকার করার সাহস সবার থাকে না।”

ইতিহাস কোনো পুরনো গ্রন্থ নয়; তা প্রতিদিন লিখে ফেলা মানুষের দমে দমে বদলে যায়।”

“স্বপ্ন ভেঙে গেলে মানুষ বুঝতে পারে সে কতখানি বাস্তবকে এড়িয়ে চলেছিল।”

“সভ্যতার গতি অনেক সময় মানুষের মানবিকতা পিছনে ফেলে দেয়।”

“ধনসম্পদ জমাতে গিয়ে আমরা কখনও কখনও মানুষের ভালোমানুষিটাই হারিয়ে ফেলি।”

“সময় এক অস্থির নদী—যার স্রোতে দাঁড়ানো যায় না, শুধু এগিয়ে যেতে হয়।”

“যে শহর মানুষকে গিলে ফেলে, সেই শহরের আলোই মানুষের স্বপ্নকে উজ্জ্বল রাখে।”

“সাহিত্য হলো সেই আয়না যেখানে জাতি নিজের মুখ দেখতে বাধ্য হয়।”

“স্বাধীনচেতা মানুষের শত্রু সবসময়ই তারা, যারা ভিন্ন মতকে অন্ধকার মনে করে।”

“বিশ্বাস ভাঙা গেলে শব্দ হয় না—হয় শুধুই নীরব ভগ্নসুর।

“মানুষের জীবন এক ভাঙাচোরা ক্যানভাস; তবু সে রঙ খুঁজে নেয়।”

“সহানুভূতি হলো মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা যুদ্ধের ধ্বংসও টিকিয়ে রাখতে পারে।”

“ভুল থেকে মানুষ বেশি শেখে, সাফল্য তাকে শুধু ঘুমপাড়ানি গান শোনায়।”

শহরের ভিড়ে মানুষ যত হারায়, ততই নিজেকে খুঁজে পাওয়ার ক্ষুধা বেড়ে যায়।”

“শেষ পর্যন্ত আমরা যা লিখি—তা আমাদের দেখা পৃথিবীরই ছায়াচিত্র।”

John Dos Passos-এর  গ্রন্থের নাম

Three Soldiers (1921) – Manhattan Transfer (1925) – The 42nd Parallel (USA Trilogy, 1930) – 1919 (USA Trilogy, 1932)

The Big Money (USA Trilogy, 1936) – One Man's Initiation: 1917 (1920)

Streets of Night (1923) – A Pushcart at the Curb (1922) – Orient Express (1927) – Camera Eye (আত্মজৈবনিক ধারার অংশ—USA Trilogy-তে ব্যবহৃত) – The Adventures of a Young Man (1939)

Number One (1943) – The Grand Design (1949) – Chosen Country (1951)

Most Likely to Succeed (1954) – The Great Days (1958) – Midcentury (1961)

Mr. Wilson’s War (Wilson’s presidency-এর উপর, 1962)   The Best Times: An Informal Memoir (1966)   Century’s Ebb: The Thirteenth Chronicle (1975, মরণোত্তর প্রকাশ)