Bidhan Chandra Sanyal

ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ প্রসঙ্গে কিছু কথা
————————————–
বিধান চন্দ্র সান্যাল
————————————–

“যখন আমি ‘শুভ নববর্ষ’ বলি, তখন আমি সত্যিই তোমাদের দুঃখের চেয়ে আরও সুখের দিন, দুঃখের চেয়ে আরও আনন্দ, কান্নার চেয়ে আরও হাসি… এবং এই সকলের জন্য যে অধিকার তা মেনে নেওয়ার প্রজ্ঞা কামনা করি।”

———-ডোনা অ্যাশওয়ার্থ

ভূমিকা:–

ইংরেজি নববর্ষ বিশ্বব্যাপী পালিত একটি উৎসব, যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতি বছর ১লা জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এটি কেবল একটি তারিখ পরিবর্তন নয়, বরং পুরোনো বছরের জরা ও গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন সম্ভাবনা ও স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রতীকী উৎসব।

নববর্ষের তাৎপর্য:—
এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, যেখানে মানুষ নতুন করে শুরু করার এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ পায়। নববর্ষের দিনে অনেকেই নতুন বছরের জন্য সংকল্প গ্রহণ করেন, যা ব্যক্তিগত উন্নতি ও নতুন লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে। এই উৎসব পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের একত্রিত করে, বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং নতুন স্মৃতি তৈরি করতে সাহায্য করে।

উদযাপন পদ্ধতি:–
নববর্ষের আগের রাত (New Year’s Eve) ৩১শে ডিসেম্বর রাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সাথে সাথে মানুষজন উল্লাসে মেতে ওঠে, একে অপরকে শুভকামনা জানায় এবং আতশবাজি ও পার্টি করে। বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে বিশেষ আতশবাজি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। অনেক খ্রিস্টান এই দিনে গির্জায় প্রার্থনা করেন, আবার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নিজেদের মতো করে নববর্ষ পালন করে, যেমন ভারতে ‘ उगाদি’ বা ‘বৈসাবি’ ইত্যাদি।

ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস :–

ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস বেশ প্রাচীন, যা ব্যাবিলনীয় সভ্যতা থেকে শুরু হয়ে রোমান ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডারের মধ্য দিয়ে অবশেষে পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরির হাত ধরে ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু হওয়ার মাধ্যমে ১ জানুয়ারি পালিত হতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে ব্রিটেন ও তার উপনিবেশগুলোতে ১৭৫২ সালে গৃহীত হয় এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত। মূলত, রোমানদের দ্বার-দেবতা ‘জানুস’-এর নাম থেকে জানুয়ারি মাসের নামকরণ এবং নতুন বছরের সূচনা হিসেবে ১ জানুয়ারিকে নির্ধারণ করার ধারণাটি জুলিয়াস সিজারের সময় থেকে শুরু হয়, যা আধুনিক ক্যালেন্ডারে স্থায়ী রূপ পায়।

নতুন বছর ২০২৬- এর প্রত্যাশা :–

২০২৬ সালের নববর্ষে বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা মূলত শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত ও বৈশ্বিক উন্নতি এবং প্রতিকূলতা কাটিয়ে নতুন করে পথ চলার আশা নিয়ে আবর্তিত হবে, যেখানে অনেকে পুরোনো বছরের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যম ও ইতিবাচকতা নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাইবে, যা আনন্দ, সমৃদ্ধি এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতীক। বিশ্বব্যাপী মানুষ পরিবার ও প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেবে, বাজি পোড়ানো, বিশেষ ভোজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে।

উপসংহার:
নববর্ষ শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি বার্তা—অতীতকে ভুলে, বর্তমানকে উপভোগ করে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী হওয়া। এটি আমাদের শেখায় যে জীবনের প্রতিটি দিনই নতুন করে শুরু করার একটি সুযোগ এবং এই নতুন বছরে আমরা সবাই মিলেমিশে শান্তি, সমৃদ্ধি ও আনন্দ বয়ে আনতে পারি।

Comment