দেড়শত বছরের আলোকে বন্দেমাতরম
বিধান চন্দ্র সান্যাল
“আজ বাঁচছি তোমাতে,চলছি সাথে,
বলছি মাতরম,
বাচ্চা,বুড়ো,শিক্ষক,পড়ুয়া,ভারতের জনগণ,
বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম।”
—— প্রবীর রায়
ভূমিকা :- বন্দে মাতরম’ ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঞ্জীবনী মন্ত্র। বন্দে মাতরম কেবল একটি গান নয়; এটি ভারতের সামগ্রিক চেতনা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সমবেত স্লোগান ছিল। যা দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের চেতনায় জাতিকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
সূচনা ও প্রেক্ষাপট :- ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম’। ১৮৭৫ সালে রচিত এই গানটি পরবর্তীতে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ স্থান পায়। মূলত বাংলার দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে এবং সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময়ে রচিত এই গানটি দেশমাতৃকার বন্দনা, যা ভারতীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করে।
রাজনৈতিক অস্ত্র ও প্রেরণা :-১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ‘বন্দে মাতরম’ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শ্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। লালা লাজপত রায়, ভগত সিং, সুভাষচন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিত্বরা এই গান দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে সঞ্জীবনী মন্ত্র ও জীবন বলিদানের প্রেরণা ছিল।
জাতীয় চেতনার প্রতীক:- ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, এটি ভারতের সামগ্রিক চেতনা, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে দেশপ্রেম জাগিয়ে রেখেছে। গানটি সকল ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক বিভেদকে ছাড়িয়ে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের এক অসাধারণ প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
১৫০ বছর পূর্তি ও প্রাসঙ্গিকতা:–২০২৫ সালে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারত সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন, যা এই কালজয়ী সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছে। এটি দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধকে সুদৃঢ় করার এক অনন্য প্রয়াস।
উপসংহার:- বঙ্কিমচন্দ্রের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ আজ ১৫০ বছরে পদার্পণ করলেও, এর আবেদন এতটুকুও কমেনি। এটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের মরা গাঙে নতুন করে তুফান তোলে এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশ গঠনে এক অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে, যা ভবিষ্যতেও জাতির প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
Bidhan Chandra Sanyal
