🏹
জ্যা-এর টান এবং ‘অশ্রু-আলো’র তরঙ্গরহস্য
—দীপক বেরা
যুদ্ধ সমাগত। কর্ণের রথের চাকা নরম ভূমিতে প্রোথিত। তিনি প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছেন সেই চাকা ভূমির উপরে তুলতে। প্রতিবারই তিনি ব্যর্থ মনোরথ। অনতিদূরেই গাণ্ডীব হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অর্জুন। এখন শুধুমাত্র সুযোগের সদ্ব্যবহার। শুধুমাত্র শরনিক্ষেপকারী গাণ্ডীবের জ্যা নিজের দিকে টানলেই লক্ষভেদ অব্যর্থ এবং অর্জুনের জয় সুনিশ্চিত। এই জগৎ সংসার—চক্রব্যূহ, ধর্মযুদ্ধ, সংহার। এসো জন্ম, এসো মৃত্যু। প্রলয়ের হাসি, জন্মের ক্রন্দন। জীবনের যে অশ্রু স্বয়ং মাটি আলো করে ঝরে গেল, তবু যে মাটি স্বয়ং অশ্রু আলো করে রয়ে গেল—নীরবতার ঐশী ডাক আসার আগেই এসো তার রুটম্যাপ খুঁজি, এসো হৃদয়ের অন্তঃপুরে সেই আশ্চর্য ‘অশ্রু-আলো’টুকুর তরঙ্গরহস্য জানি। তারপর বিনাশহাসির ফুলে নিকষ কালো রাত্রি ভাষা পেলে— এসো তবে খসে যাই, এসো তবে চূর্ণ হই।
🏹
টালিগঞ্জ, কোলকাতা।
রচনাকাল > ২৬ মার্চ ২০২৬

