ভ্যালেন্টাইনস ডে
—দীপক বেরা
‘ভ্যালেন্টাইন’-এর মানে-টানে আমি বুঝি না।
তবে শুনেছি— ওই দিনটা নাকি
প্রেম বা ভালোবাসা নিবেদনের বিশেষ দিন!
আচ্ছা ধরুন, যাদের প্রেমিক-প্রেমিকা নেই
কিংবা যারা ‘বিবাহ’ নামক আশ্চর্য লাড্ডুটা
ইতিমধ্যেই খেয়ে ফেলে, এখন পস্তাচ্ছে বেশ…
অথবা— যাদের দাম্পত্যের সম্পর্কটা, একটা
ভাঙাচোরা ব্রিজ হয়ে কোনওরকমে ঝুলে আছে
যেকোনও মুহূর্তেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে
তারা কীভাবে ভালোবাসা নিবেদন করবে?
মানে, সেখানে কি প্রথাগত রোমান্টিকতা থাকবে?
আজকের পোস্টমডার্ন প্রেম, ভোগবাদ
ভার্চুয়াল জগত এবং যান্ত্রিক জীবনের হুল্লোড়
ভার্চুয়াল ভালোবাসার ডিপি (DP)
নোটিফিকেশনে ব্যস্ত থাকা ‘রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস’
এসবের ককটেল মিশ্রণে স্কোয়ারফিট আবেগ
কীভাবে, ঠিক কতটা ফুটে উঠবে?
নাকি অজস্র ইমোজির খেলা চলবে—
যত বেশি লাল হার্ট—তত বেশি প্রতিশ্রুতি?
এইসব হাবিজাবি উদ্ভট প্রশ্নগুলো
আমার মাথার মধ্যে কেবলই ঘুরপাক খাচ্ছে…
পশ্চিমের বাতায়ন খোলা আছে—
ভূমধ্যসাগরের দমকা বাতাস এসে ঘি ঢালছে
আমাদের শিমুল, কৃষ্ণচূড়ার আগুনে
চুরমার করে দিচ্ছে আমাদের প্রাচীন সংস্কার
পলাশবনে দাবানল জ্বলে ওঠে উদ্ভ্রান্ত যৌবনের
আদিম বন্দরে
আলোর শহরে গ্লো-সাইন বোতাম খোলা হোর্ডিং
সুন্দরীর বিজ্ঞাপন হাওয়ার চেয়েও ছুটছে জোরে
মেঘলা আকাশের নিচে ইতিউতি আড়চোখ
এমনই চোখের নীড়ে ভীরু সমর্পণে চির-আশ্রয়
নারী যে আশ্চর্য অপরূপা—মাধুর্যমণ্ডিত দেবী
পৃথিবীর সব ভালোলাগার শেষকথা
পুরুষের রুক্ষ বুকের মিশর মরুতে, নারী যেন
চির বহমান নীলনদ
তার নন্দিত ছন্দিত নিতম্বে জলো হাওয়া
বুকের গভীরে অপার অনন্ত অবগাহন
লক্ষ চুম্বনের রেশ…
ঘুম ভাঙা চোখে ভিড় করে আসে
আনত স্বপ্নের হাজারো স্মৃতি…
এত আলুথালু জাগরণ— ঘুম — ঝড়ের কাছাকাছি
মহানিমগাছের অযুত তিক্ত পাতায় ঘেরা
আমাদের ব্যথার সংসার…
জীবনের সব খড়কুটো একত্রিত করেছি আজ
সমিধ সাজাব বলে
হোমের আগুনে পরিশুদ্ধ হবে আজ সব দোলাচল
দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়া গাছ
বহুদিন খরায় আক্রান্ত
পড়ে পড়ে মার খেতে খেতে ‘খ’-য় খগেন হয়ে গেছি
ভ্যালেন্টাইন-এর অর্থ-অনর্থ আমি কিছুই বুঝি না
“চোখে চোখে কথা বলো, মুখে কিছু বলো না”…
—এইসব ইঙ্গিত-ইশারার মানে কী?
‘লাভ ইন সাইন’, নাকি, চোরাবালি,’ডেথ ইন সাইন’!
খুব ভালো করে বুঝে নেওয়ার আগেই
একটা কিছু তো ঘটে চলেছে চারদিকে
হৃদয়বীণায় ‘সা-রে-গা-মা-পা’ বাজছে
প্রাচীন আলো মরে গেছে, চাঁদ নেই…
একটুকু আলোর সাধনায় কেউ উদ্ভাসিত
হয়েছিল নক্ষত্রের আলোয়
কেউ-বা কবিতা লিখছিল জোনাকির আলোয়
আজ নেশাবন্ধনী পেরিয়ে নিবিড় আলিঙ্গনে
আগুন ছুঁতে চাওয়া মেটালিক জীবন ছুটে চলেছে
সামনে বিমূর্ত কন্টিনিউয়াস..
অস্তিত্বের সামনে নতজানু হয়ে দেখো—
এই পৃথিবীর দরজা, জানালা খোলা
চারদিকে মিথোজীবি ভাইরাস…
কাঠঠোকরা কাঠে মগ্ন
মাছরাঙা মাছে
মৌমাছি ফুলে…

