– দিয়া উদ্দীন রাকিব
আজকের এই দিনে, এই সময়ে এমন কোনো পিতা-মাতা নেই যারা তাদের সন্তান নিয়ে চিন্তা করেন না। বাংলাদেশের বিভিন্ন তথ্যচিত্রে দেখা যায়, একাংশ মায়ের কিংবা বাবার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সন্তান নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা। বাবা-মায়ের সন্তান আছে বলেই দুশ্চিন্তাও আছে—এ যেন জীবনের চিরন্তন সত্য।
গত কয়েক মাস আগে মিরপুর ১২ নাম্বারে এক তরুণ সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারায়। সেই খবর শুনে তার মা স্ট্রোক করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা যেন প্রতিটি অভিভাবকের মনের অন্তর্লীন আশঙ্কার প্রতিফলন।
দার্শনিকের কথা
বিশ্বের মহান দার্শনিক প্লেটো বলেছেন, “সন্তান শুধু পরিবারের নয়, বরং সমাজের দায়িত্ব।”
তিনি যুক্তি দিয়ে বোঝান যে সন্তান পরিবার থেকে প্রাথমিক শিক্ষা নিলেও আসল শিক্ষা পায় সমাজ ও পরিবেশ থেকে। সমাজে যেমন মন্দ কাজ শেখানোর মানুষের অভাব নেই, তেমনি ভালো কাজ শেখানোর মানুষেরও বড় অভাব। এই বৈপরীত্যই আজকের পিতা-মাতার প্রধান দুশ্চিন্তার কারণ।
আরেক দার্শনিক জন লক বলেছেন, “সন্তান জন্মের পর যা কিছুই হয়, তা শিক্ষা ও পরিবেশের ফল।”
তিনি স্পষ্ট করেছেন—সন্তানের বিকাশ নির্ভর করে তার সামাজিক ও মানসিক পরিবেশের উপর। পরিবার ভিত্তি দিলেও সমাজই গড়ে দেয় তার চরিত্র ও চিন্তার জগৎ।
দুর্ভাবনার বন্ধনে অভিভাবক
আজ এমন কোনো অভিভাবক খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি সন্তান নিয়ে চিন্তিত নন। কোনো অজপাড়াগাঁয়ের হাসপাতালেও হয়তো এই মুহূর্তে একজন মা ইন্তেকাল করছেন, একমাত্র সন্তানকে ঘিরে অতি দুশ্চিন্তায়।
বাবা-মায়ের এই ভাবনা অনেক সময় তাদের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ হয়।
আবার কেউ কেউ মনে করেন, সন্তানদের বাইরে মিশতে বা খেলতে দেওয়া উচিত নয়—তাতে তারা নষ্ট হবে। কিন্তু বাস্তবে এতে শিশুদের নষ্ট হয় না; বরং তাদের মস্তিষ্ক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
সন্তানদের মুক্তভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়াই পিতা-মাতার প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয়।
