অনুগল্প: “নোটিফিকেশন”

জান্নাতুল ফেরদৌসী

মোবাইলটা ভাইব্রেট করলেই রাশেদ চমকে ওঠে।
খাবার টেবিলে বসে আছে, সামনে গরম ভাত, পাশে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া তরকারি—কিন্তু চোখ আটকে আছে স্ক্রিনে।

একটা নোটিফিকেশন।
তারপর আরেকটা।
তারপর আরেকটা।

কখন যে ভাত শেষ হয়ে যায়, সে নিজেও টের পায় না।

রাশেদের ছেলেটা, ছয় বছরের আদনান, চুপচাপ তাকিয়ে থাকে বাবার দিকে।
“আব্বু, আজকে গল্প বলবা?”
রাশেদ মাথা না তুলেই বলে,
“এখন না বাবা, একটু ব্যস্ত।”

ব্যস্ততা আসলে কী—রাশেদ নিজেও জানে না।
কাজ শেষ, অফিস মেইল চেক করা হয়েছে, তবু স্ক্রল থামে না।
কারো সাফল্যের ছবি, কারো বিলাসী জীবনের ভিডিও, কারো নিখুঁত পরিবারের গল্প—সবই চোখের সামনে।

হঠাৎ সে বুঝতে পারে, তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক চাপ।
নিজের জীবনটাকে ছোট মনে হয়।
অসম্পূর্ণ লাগে।

রাত গভীর হলে মোবাইলটা বালিশের পাশে রেখে ঘুমাতে যায় সে।
কিন্তু ঘুম আসে না।

পরদিন সকালে আদনান স্কুলে যাওয়ার সময় বলে,
“আব্বু, আজকে তুমি আমার সাথে হাঁটবা তো?”

রাশেদ এবার মোবাইলটা পকেটে রাখে।
ছেলেটার হাত ধরে হাঁটে।
রাস্তার ধুলো, কাকের ডাক, সকালের আলো—সবকিছু যেন নতুন করে দেখে।

হাঁটতে হাঁটতে আদনান হঠাৎ হেসে বলে,
“আব্বু, তুমি আজকে হাসতেছ।”

রাশেদ থমকে যায়।
হ্যাঁ, সে সত্যিই হাসছে।

সেদিন রাতে মোবাইলটা চার্জে দিয়েই অন্য ঘরে রেখে দেয় সে।
আদনানকে গল্প শোনায়।
স্ত্রীর সাথে কথা বলে।
নিজের ভেতরের কোলাহলটা একটু শান্ত হয়।

নোটিফিকেশন কমে না।
কিন্তু রাশেদ শিখে যায়—
সব শব্দে কান দিতে নেই।

কারণ- জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নীরবেই ঘটে।

Jannatul Ferdausi

Comment