অসংলগ্ন দায়
বুকের বাঁ পাশে
তুলসীদানার মতো ছোট্ট কিছু
তবু গুরুতর
একটি দায় বেঁচে আছে।
নির্বোধ নয়
নিঃশব্দ নয়
সে দায় জাগে প্রতি পলে পলে
তোমার নামহীন স্পর্শের মতো
অমলিন ও অসংলগ্ন।
আমি তো তোমার কেউ নই
তবু হৃদয়ের অলিন্দে
অশরীরীর মতো তুমি হাঁটো
যেন স্মৃতিরও ঊর্ধ্বে
কোনো অব্যক্ত শপথের ছায়া।
যে চোখে তুমি আগামীর নকশা আঁকো
আমি সেই দৃষ্টিপথের প্রান্তে নই
নই কোনো স্থির মুখচ্ছবি
যার কাছে ঘুম জড়ানো স্বপ্নে ফিরে আসো।
আমি কেবল এক প্রাক্তন আলো
যাকে রাত্রি ভুলে গেছে
যাকে ভোর ভুলে গেছে।
তুমি যে রোদে জীবন মেখে নাও
আমি সেই সকাল নই
আমি রাতের গর্ভে লুকোনো
একটুকরো অনুজ্জ্বল জোনাক
যার দীপ্তি দেখেও কেউ আলো ভাবে না।
এই অব্যাখ্যাত গন্ধ
ভেসে বেড়ায় শহরের বাতাসে
পিছলে যায় ছাদের কার্নিশ
আদ্র পত্রে জমে ওঠে না কোনো ঋতু
নেই কোনো সমাপতন নেই ঋতুবৈচিত্র্য।
তবু অজানা এক অলিখিত সূত্রে
আমরা জড়িয়ে পড়েছি
নামহীন এক সম্পর্কের ভেতর
যার পাণ্ডুলিপি নেই
শুধু একটি অন্তর্হিত ব্যথা
আর বুকের বাঁ পাশে
নিবেদিত এক তুলসীদানার দায়।
