পাষাণের শরীর
জাসমিনা খাতুন
ঘুমন্ত বাচ্চারা জোনাকির আলোয়
স্বপ্ন দেখে
সে নিঃশব্দে হাঁটছে।
চন্দ্রালোকের তীক্ষ্ণ নখ
হাওয়ার ভেতর অদৃশ্য গর্জন
ঠিক যেন ঘন জঙ্গল হেঁটে যাচ্ছে
মহাকালের পথে।
কিন্তু মানুষজন দেখে
সে কেবল পাহারাদার পাথরের বাঘ
ঐতিহাসিক সিংহদরজায় স্থির চোখ।
আমি কানে কানে বললাম
“বিষণ্নতাকে আঁকড়ে ধরে
আর কতকাল পাহারা দেবে ?
উঠে এসো ”
সে গর্জন করল
দাঁড়াবার জন্য চেষ্টাও করল
কিন্তু পা দু’টো অবশ
উঠতে পারল না।
শুধু বংশমর্যাদার জন্য
সিংহদরজায় আজও স্থির
কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া কিশোর
হাসিমুখে পাথরের বাঘটার গলা জড়িয়ে
ছবি তুলল বিভিন্ন ভঙ্গিতে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাঘটা বলল
“দেখলে তো! এই সস্তা আলিঙ্গন পেতে পেতে
আমি কেমন বাঘ থেকে
বিড়াল হয়ে গেছি!”
একটি নির্বাক পাথরের সত্তা
একখণ্ড বিব্রত ইতিহাস
আজও নীরব দাঁড়িয়ে থাকে
এক টুকরো পাষাণের শরীরে।
