মানুষের জীবনে সমস্যা, দুঃখ, বিভ্রান্তি, দ্বন্দ্ব ও মানসিক অস্থিরতা যেন এক অদৃশ্য ছায়ার মতো সবসময় পাশে পাশে থাকে। আমরা প্রতিনিয়ত বাইরের বিশ্বকে বদলাতে চাই—পরিস্থিতি বদলাতে চাই, মানুষ বদলাতে চাই, ভাগ্যের দোষ দিই, সমাজকে দোষ দিই, সময়কে দোষ দিই। কিন্তু একবারও থেমে ভেবে দেখি না, আসলে যে সমস্যাগুলো আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়, সেগুলোর শিকড় কোথায়? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দ্বন্দ্বটি বাইরের নয়—অন্তরের। নিজের মনকে বোঝা না-গেলেই সমস্যা বড় হয়; আর মনকে বোঝা গেলে পৃথিবীর অর্ধেক সমস্যাই ছোট হয়ে যায়।

মন—যে বিস্ময়, আবার যে রহস্য

আমাদের মন একই সঙ্গে একটি যন্ত্র, একটি অনুভূতিপূর্ণ ক্ষেত্র এবং একটি অদৃশ্য শাসক। মন কখনও স্থির নয়—হাওয়া যেমন দিক বদলায়, মনও তেমনি মুহূর্তে শান্ত থেকে উত্তাল হতে পারে। কিন্তু আমরা খুব কম মানুষই নিজের মনের গতিপথ চিনতে শিখি। ছোটবেলা থেকে আমরা গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, কম্পিউটার সবকিছু শিখি, কিন্তু নিজের মন সম্পর্কে শেখানো হয় না। ফলে বড় হয়ে মন যখন টেনে ধরে, আমরা তখনই বুঝতে পারি—এমন এক শক্তি আমাদের ভেতরে আছে, যাকে না-জানাই আমাদের সবচেয়ে বড় অসুবিধা।

মনকে বোঝা মানে তার প্রতিটি প্রতিক্রিয়া, প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি ভয়, প্রতিটি আনন্দ কোথা থেকে আসে তা উপলব্ধি করা। আমরা কেন রাগ করি? কেন হঠাৎ দুঃখ আসে? কেন একজনের কথায় আঘাত লাগে? কেন অযথা ভয়? কেনই বা উদ্বেগ? এই ‘কেন’গুলো খুঁজতে শিখলে মানুষ নিজের অর্ধেক সংগ্রাম কমিয়ে ফেলতে পারে।

Comment